সর্বশেষ
বুধবার ৯ই মাঘ ১৪২৬ | ২২ জানুয়ারি ২০২০

মানুষের রক্ত শোষন করে বড় লোক হওয়া ঠিক নয়

চুয়েট এর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি

শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৯

prewsident.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকারের নেয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতি  নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের রক্ত শুষে রাতারাতি ধনী বনে যাওয়া অসৎ ব্যবসায়ী, মজুদদার ও মুনাফাখোরদের সঠিক পথে আনতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অসৎ ব্যবাসয়ী, মজুদদার ও মুনাফালোভীদের মানসিকতার পরিবর্তন আবশ্যক। আপনাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ সূত্র -বাসস।

রাষ্ট্রপতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একশ্রেণীর লোকের ভুয়া সংকট তৈরি করে এবং গুজব ছড়িয়ে পেঁয়াজ ও চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে এবং খাদ্যদ্রব্যের ফরমালিনের মতো ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে ও ভেজাল দিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

‘এটি একটি অদ্ভুত দেশ’ মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একদিকে ধান উঠছে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে হাহাকার করছেন। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার টন ধান চাল মজুদ করে কেজিতে ৪-৫ টাকা করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট মহলকে এই অশুভ কর্মকান্ড পরিত্যাগ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ‘মানুষের রক্ত শোষন করে বড় লোক হওয়া ঠিক নয়’ উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের খাবারে ফরমালিনের বিরুদ্ধে ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এসব মজুদদারদের সঠিক পথে আনা অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা যে দেশকে ভালবাসি তা কিছু করে দেখাতে হবে।’

বাংলাদেশকে একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এ দেশের রয়েছে বিপুল মানব সম্পদ, ঊর্বর কৃষিভূমি এবং সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ। জনবহুল এ দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উপায়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার।’

প্রকৌশলীদের উন্নয়নের কারিগর হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা ও চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।’

রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ এবং ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

চুয়েটের আচার্য আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করেন যে আজকের নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবে এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও লব্ধ জ্ঞানকে এ লক্ষ্যে কাজে লাগাবে।

অনুষ্ঠানে চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোট ২,২৩১ জন গ্রাজুয়েট ডিগ্রি প্রদান করা হয়, এদের মধ্যে দু’জন পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ভাল ফলাফল করার জন্য তিনজন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে সমার্বতন বক্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে আজাদ চৌধুরী।


ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ৩৮৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন