সর্বশেষ
বুধবার ৯ই মাঘ ১৪২৬ | ২২ জানুয়ারি ২০২০

ক্যানসার জয় করে শুটিংয়ে ফিরলেন সোনালি বেন্দ্রে

শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

sonali.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

মনের জোর ও সাহসকে অবলম্বন করে ক্যানসার জয়ীদের তালিকায় এখন উঠে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে। যার দুরন্ত ফেরা বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে পারে বিশ্বের সব ক্যানসার আক্রান্তকেই। তার তীব্র প্রাণশক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে ক্যানসার।

অভিনয় দক্ষতার জেরে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই চলচ্চিত্র পরিচালক কে রবিশংকরের নজরে আসেন তিনি। ১৯৯৪-তে মুক্তি পায় ‘আগ’। সেখানে গোবিন্দা ও শিল্পা শেট্টির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন সোনালি। এ ছবিই তাঁকে এনে দিল সেরা নতুন মুখের পুরস্কার। এর পর পরই আসতে থাকে বলিউডি ও দক্ষিণী নানা চলচ্চিত্রের অফার।

১৯৯৬ সালে মাইকেল জ্যাকসন যখন ভারতে আসেন, তখন তাকে স্বাগত জানাতে বলিউডের পক্ষ থেকে ভার দেওয়া হয় সোনালিকে।

১৯৯৯ সালে দুই তামিল ছবি ‘কধালার ধিনাম’ ও ‘কান্নোদু কানবাথেলাম’এ অভিনয় করেও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় বেশ নাম করেন সোনালি। এরপর ২০০০ সালে ‘চল মেরে ভাই’তে তাঁর ক্যামিও চরিত্রটিও সিনেমাপ্রেমীদের মন কাড়ে। ‘হমারা দিল আপকে পাশ হ্যায়’ ছবির জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হন।

শুধু হিন্দি ও তামিল নয়, ২০০১ সালে তেলুগু ছবির ডেবিউ করেন সোনালি। তেলুগু ফিল্ম-ইতিহাসে এই ‘মহেশ বাবু’ ছবিটি আজও বিখ্যাত। শুধু বড়পর্দাই নয়, টেলিদুনিয়াতেও সোনালি ঢুকে পড়েন ২০০১ সালে।

এর মাঝে ২০০২ সালে বহু দিনের বন্ধু পরিচালক গোল্ডি বেহলকে বিয়ে করেন সোনালি। ২০০৪ সালে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্র সন্তান। এই সময় সংসার সামলে ছেলেকে একটু বড় করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সোনালি। পরে ২০১২ সালে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই দোবারা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফিরে আসেন সোনালি। তারপর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফিল্ম ও টেলিফিশন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন জনপ্রিয় এ নায়িকা। রোমান্স, অ্যাকশন এবং কমেডি মিলিয়ে ইতোমধ্যেই প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি বলিউডি ছবিতে অভিনয় করেছেন সোনালি।

বাধ সাধল ক্যানসার। ২০১৮ সালের জীবনের এই কঠিন অধ্যায়েও এতটুকু মনোবল হারাননি তিনি। পাশে পেয়েছিলেন গোটা পরিবারকেই। নিউইয়ার্কে চিকিৎসা চলাকালীন সোনালির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন একাধিক বলিউড তারকা।

ক্যানসারের কেমোথেরাপি কেড়ে নিয়েছিল সোনালির মাথার চুল। কিন্তু সে অবস্থাতেও প্রকাশ্যে এসেছেন তিনি। নিজেকে লুকিয়ে রাখেননি। বরং সাহস দিয়েছেন অন্যদেরও। তাঁকে দেখে যাতে অন্য ক্যানসার আক্রান্তেরা সাহস সঞ্চয় করতে পারে, সেই চেষ্টাই করেছেন প্রতিদিন। সোনালির এমন ভূমিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।

পুরোপুরি সুস্থ না হলেও একটু ভাল হতেই শুটিং ফ্লোরেও ফিরেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে ফিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘অনেক কিছু ঘটে যাওয়ার পর সেটে ফিরলাম।… কাজে ফিরতে পেরে ভাল লাগছে। ফিরতে পেরে কেমন লাগছে সেটা বলে বোঝাতে পারব না। কাজেই তো ফিরতে চেয়েছিলাম ‘

সময় মতো চিকিৎসার পাশাপাশি সোনালির এমন মনের জোর ও সাহসই তাঁকে এই বড় যুদ্ধ জয় করতে সাহায্য করেছেন বলে মনে করেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সোমনাথ সরকার। ফের টিভি ও রুপোলি পর্দায় দাপিয়ে ফিরে আসুন সোনালি এমনই আকাঙ্ক্ষা তাঁর ভক্তকুলের।


ঢাকা, শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন