সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮ | ০২ ডিসেম্বর ২০২১

ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

Tarash.jpg
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এইচ এন্ড কে ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের পাশেই তাড়াশ উপজেলার খালকুলা তেল পাম্পের পাশে গড়ে ওঠা এইচ এন্ড কে নামক ইটভাটায় সরকারি নীতিমালায় কয়রা পুড়িয়ে ইট তৈরির কথা থাকলেও তা না মেনে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটার সামনেই  কাঠের গুড়ির বড় বড় স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ভাটাটিতে বনজ ও ফলজ গাছ পুড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করলেও অজ্ঞাত কারনে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নীরব রয়েছে। এছাড়াও  ইট তৈরী করার জন্য ফসলী জমির উপরি অংশের মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে পাহাড়ের স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। ফলে ফসলী এই জমিগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সরকারী নিয়মানুসারে আবাসিক এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি। এ দিকে এ উপজেলায় এমন আরো ৬ টি ভাটার মালিকগন ইট তৈরী করতে ফসলি জমির মাটি ব্যবহার  করছে। বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ফসলী জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি কেটে ভাটায় নেয়া হচ্ছে। গ্রামের সহজ সরল কৃষকদের প্রলোভিত করে ট্রাক প্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা হারে এই সব মাটি ক্রয় করে জমির উপরি অংশের দেড় থেকে দুই ফুট গভীর করে কখনো পুকুর খুড়ে মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন ফসলী জমির মাটি কাটার এই প্রবনতা বেড়েই চলেছে।

অপরিকল্পিত ভাবে ইট ভাটা স্থাপন ও জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরীর ফলে ফসলী জমি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।  ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুনাহার বলেন, জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি কাটার ফলে জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একবার জমির উপরি অংশের মাটি কাটার পর আবার জমিতে ঐ পরিমান জৈব মাটি সৃষ্টি হতে ১০/১৫ বছর সময় লেগে যায়। তাছাড়া ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপাপ্ত) ওবায়দুল্লাহ বলেন, এইচ এন্ড কে ইট ভাটাকে কাঠ পোড়ানোর ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করেছি। অচিরেই আবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এধরনের ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তিনি আরো বলেন,ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ১২৩২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন