সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ২৬শে চৈত্র ১৪২৬ | ০৯ এপ্রিল ২০২০

  ৪৬ বছর পরও মোহনীয় ঐশ্বরিয়া

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২০

82334688_548075975778514_4869994757587206144_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ঐশ্বরিয়া রাই একজন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় অভিনেত্রী এবং সাবেক বিশ্ব সুন্দরী। অভিনয় জগতে পদার্পণ করার আগে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করতেন এবং ১৯৯৪ সালে বিশ্ব সুন্দরী খেতাব অর্জন করার পর ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। সমগ্র কর্মজীবনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রসহ চল্লিশটিরও বেশি হিন্দী, ইংরেজি, তামিল, এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। জীবনের ৪৬ বছর পরও এখনো বলিউডের অন্যতম সুন্দরী তিনি। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন মাঙ্গালোরে কৃষ্ণারাজ রাই এবং ভ্রিন্দা রাই এর ঘরে পহেলা নভেম্বর ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বড় ভাইয়ের নাম আদিত্য রাই। যিনি বাণিজ্যিক নৌ-বহরের (মার্চেন্ট নেভি) একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং দিল কা রিস্তা নামে ঐশ্বরিয়ার এর একটি সিনেমার সহ-প্রযোজনা করেছিলেন।

ছোটবেলায় ঐশ্বরিয়ার মা বাবা ভারতের অন্যতম শহর মুম্বাইতে চলে আসেন। সেখানে তিনি সান্তা ক্রুজের আর্য বিদ্যা মন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর এক বছরের জন্য চার্চ গেটের জয় হিন্দ কলেজে পড়াশোনা করেন এবং তারপর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পড়েন (এইচএসসি) মাতুঙ্গার রুপারেল কলেজে থেকে সম্পন্ন করেন ঐশ্বরিয়া। স্কুলে পড়াকালীন তিনি খুব মেধাবী ছাত্রী ছিলেন এবং পরবর্তীকালে একজন স্থপতি হবার পরিকল্পনা নিয়ে স্থাপত্যশিল্প বিষয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেছিলেন। স্থাপত্যশিল্প নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মডেলিং কে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তাকে তা ছেড়ে দিতে হয়। তার মাতৃভাষা তুলু হলেও তিনি হিন্দী, ইংরেজি, মারাঠি এবং তামিল ভাষায় সাবলীলভাবেই কথা বলতে পারেন।

গণ মাধ্যমে প্রায়শই বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী মহিলা হিসেবে উল্লেখ করা হয় ঐশ্বরিয়াকে। মণি রত্নমের তামিল ছবি ইরুভার (১৯৯৭) ছবিতে অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন এবং প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য পান তামিল ছবি জিন্স (১৯৯৮)-এ। তিনি সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত হাম দিল দে চুকে সনম (১৯৯৯) ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডের পাকা অবস্থান তৈরি করেন। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে বানসালীর পরবর্তী ছবি দেবদাসে অভিনয় করেন। যার জন্য তিনি দ্বিতীয় বার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল ছিলো তার কর্মজীবনের বাজে সময়। এরপর তিনি অভিনয় করেন ব্লকবাস্টার ছবি ধূম-২ (২০০৬)-তে। এই ছবিটা ছিল তার বলিউডের বৃহত্তম অর্থনৈতিক সাফল্য। পরবর্তী সময় তাকে গুরু (২০০৭) এবং যোধা আকবর (২০০৮) এ অভিনয় করতে দেখা যায়, যেগুলি ছিলো অর্থনৈতিকভাবে সফল ছবি এবং এই ছবি গুলোতে অভিনয়ের জন্য তিনি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হন। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে তার সমকালীন অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন অন্যতম অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঐশ্বরিয়া।

ঐশ্বরিয়া বিয়ে করেছেন ভারতীয় অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে। ভারতীয় অভিনয় জগতে বচ্চন পরিবারের প্রভাব প্রতিপত্তি কারো অজানা নয়। তিনি বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের পুত্রবধূ।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হলিউড তারকা মাইকেল ডগলাসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঐশ্বরিয়া। এক সপ্তাহ পর তিনি জাতিসংঘের এইডস ও এইচআইভি বিষয়ক সচেতনতায় নিয়োজিত ইউএন এইডসের নতুন আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা দূত মনোনীত হন। তিনি এইচআইভি সংক্রমণ থেকে শিশুদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈশ্বিকভাবে কাজ করেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ২৯৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন