সর্বশেষ
রবিবার ১৫ই চৈত্র ১৪২৬ | ২৯ মার্চ ২০২০

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গুজবে কান দিয়েছে বিশ্ব: সু চির সাবেক মুখপাত্র

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২০

1.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা নিয়ে বিশ্ব গুজবে কান দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির সাবেক উপদেষ্টা নিউ ওহন মিন্ট।রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা রোধ করার জন্য গত মাসে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত। এসময় রাখাইনের ঘটনায় গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় দেয় জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালত। তবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার জানিয়েছে, বিকৃত চিত্রের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠির ওপর হামলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাত লক্ষাধিক মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, তিন শতাধিক গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সেই দাবি আরেকবার তুলে ধরে দেশটির কার্যত সরকার প্রধান অং সাং সু চির সাবেক মুখপাত্র নিও ওহন মিন্ট বলেন, রাখাইন নিয়ে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে একপক্ষের রায় বলে দাবি করেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাখাইনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনগণ গুজব ও জনশ্রুতির মধ্যে রয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক অভিযোগ।নিয়ো ওহন মিন্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারা উত্থাপিত প্রমাণাদি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে বিদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। সু চির সাবেক এই মুখপাত্র বলেন, আমি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনটি পড়েছি, যেখানে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা নারীরা সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন। এটি আমার কাছে তৃতীয় শ্রেণির হলিউড সিনেমা হয়েছে।  তার দাবি ধর্ষণের বিষয়ে রোহিঙ্গা নারীরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে মিথ্যা বলেছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার দায়ে ওআইসির পরামর্শক্রমে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া। গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ৩ দিনব্যাপী নেদারল্যান্ডসের হেগে এ মামলার শুনানি হয়। তাতে মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি অংশ নেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রাখে না বলেও দাবি করা হয় মিয়ানমারের পক্ষে। অন্যদিকে গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে ও তাদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আদালতকে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

গত ২৩ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত। সেসময় মিয়ানমারকে চারটি অন্তর্বর্তী আদেশ দেয় আইসিজে। নির্দেশে বলা হয়-

এক. মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব ধরনের হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা নিরসন করতে হবে। সেই সঙ্গে দূর করতে হবে তাদের যে কোনো রকমের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা। নিশ্চিত করতে হবে তাদের অধিকার।

দুই. দেশটির সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী বা যে কেউ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ব্যাপারে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, উস্কানি বা কুকর্মে সহযোগিতার সুযোগ পাবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

তিন. রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের প্রমাণ ধ্বংস করা যাবে না। সব প্রমাণ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

চার. উপরোক্ত নির্দেশগুলো যথাযথভাবে যে পালিত হচ্ছে, ৪ মাস পর মিয়ানমার সে বিষয়টি নিশ্চিত করে আইসিজেকে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর থেকে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ৬ মাস অন্তর অন্তর মিয়ানমারকে এ বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সেসব প্রতিবেদন গাম্বিয়াকে দেওয়া হবে। গাম্বিয়া সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের মতামত জানাবে।


ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ২১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন