সর্বশেষ
শনিবার ২৮শে চৈত্র ১৪২৬ | ১১ এপ্রিল ২০২০

ভ্রমণ-পর্যটন খাতে ৫ কোটি কর্মসংস্থান উধাওয়ের শঙ্কা

শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২০

77130_f1d3d88157_long.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

‘ডব্লিউটিটিসির পরিসংখ্যানে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের ওপর করোনা ভাইরাসের স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে যে বিশ্বব্যাপী এই খাতে ৫ কোটি চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে।’ ডব্লিউটিটিসির নতুন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, করোনার বর্তমান প্রভাব অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালে বিশ্ব ভ্রমণ খাত অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। ফলে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান কমে যাবে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটনশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু দেশ এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। করোনাভাইরাস–আতঙ্কে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্ব এয়ারলাইন ব্যবসাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ মানুষই এ সময়ে উড়োজাহাজে চলাচল এবং ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিএ) তথ্য অনুযায়ী, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যাত্রী পরিবহন করা উড়োজাহাজগুলো ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। গত বছর এয়ারলাইনসগুলোর আয় ছিল ৮৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এদিকে, বাংলাদেশেও ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভারত সরকার গতকাল পর্যটন ভিসা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায়এ দেশের বিমান সংস্থাগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। ভারত এক মাসের জন্য ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সময় দেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর প্রায় ৭৫০ উড্ডয়ন বাতিল করতে হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে আকাশপথ সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে দেশের এভিয়েশন খাতের রাজস্ব আয় অর্ধেকে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

করোনাভাইরাসের কারণে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন সংস্থার হাজার হাজার আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন বাতিল হয়ে গেছে। এমনকি কিছু বিমা সংস্থা নতুন গ্রাহকের জন্য ভ্রমণবিমা স্থগিত করেছে। এবার ডব্লিউটিটিসি জানাল কর্মসংস্থানের ক্ষতির বিষয়টি। এ অবস্থায় সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে শিল্প সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো হলো ভিসা করার ব্যয় কমানোসহ ভিসা–জটিলতা সহজ করা, স্থলবন্দর এবং বিমানবন্দরগুলোয় ‘অপ্রয়োজনীয় বাধা’ শিথিল করা, যাত্রী শুল্কের মতো বিষয়গুলো ভ্রমণকারীদের জন্য কমানো, ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর সুন্দর প্রচারের জন্য বাজেট বাড়ানো।

গুয়েভারা মনে করছেন, কোভিড-১৯–এর প্রাদুর্ভাব সামগ্রিকভাবে এ খাতে নিযুক্ত ব্যক্তি ও ভ্রমণে ইচ্ছুক মানুষের জন্য স্পষ্টভাবেই একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি। তবে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার শক্তি রাখে।


ঢাকা, শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২৯৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন