সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ০২ জুন ২০২০

চিরিরবন্দরে চুল তৈরীর কারখানার শ্রমিকরা ঝুঁকির মুখে

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

cul.jpg
মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি :

সমগ্র দেশজুড়ে করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) সংক্রমন মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্ততি নিলেও যথেষ্ট সুরক্ষা প্রস্ততি নেই দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার চুল তৈরীর কারখানা ট্রিলিয়ন গোল্ড লিমিটেডের । উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই এলাকার একমাত্র বৃহৎ গার্মেন্টস শিল্প এটি।

কর্তৃপক্ষ যদিও সাবান দিয়ে হাত ভালো ভাবে পরিস্কার করার কথা বললেও সেখানেও শ্রমিকরা তেমন কোন নিয়ম না মেনে সাধারন ভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ট্রিলিয়ন গোল্ডে কাজ করে প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশী শ্রমিক। কারখানার প্রবেশ পথেই নেই কোন জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান পানির ব্যবস্থা। কোন প্রকার সচেতনতা না থাকায় মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে এই এলাকার চুল কারখানার শ্রমিকেরা।

এদিকে, সরকার ঘোষিত ছুটির কারণে সড়কে মানুষের চলাচল একেবারে নেই বললেই চলে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। এরপরও যারা বের হচ্ছেন তাদের ঘরমুখো করতে অব্যাহত রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও সেনাবাহিনীর টহল। কারখানার বাইরে শুনশান সবকিছুই বন্ধ আর ভিতরে শ্রমিকের এমন অসচেতনতা অত্র এলাকার মানুষের ভীত সৃষ্টি করে দিয়েছে। সারাদিন কাজ করে এসে তারা স্বাভাবিক ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশা করছে।

ট্রিলিয়ন গোল্ড চুল তৈরীর কারখানায় কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানায়,ট্রিলিয়ন গোল্ড কারখানায় এক একটি ফ্লোরে ১ হাজার থেকে দেড় হাজারেও বেশী শ্রমিক একসাথে কাজ করে। একজনের সাথে আরেক জনের দূরুত্ব এক হাতেরও কম। এই কারখানার পরিবেশ মোটেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। সতর্কতা থেকে এখানে শ্রমিকরা অনেক দূরে।এছাড়া আরো অধিকাংশ শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যেভাবে কাজ করতো তারা এখনো সেভাবেই কাজ করছে । শুধু কারখানার ভিতরে দায়সারা হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার ছাড়া আর অন্য কোন কিছুই করছেনা তারা।

ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান, কোন কারনে এখানে একজন শ্রমিকের করোনা দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পরবে। তাই কারখানায় ভাইরাসরোধী জোড়দার ব্যবস্থা গ্রহন ও শ্রমিকদের সুস্থতার প্রতি নজর রাখার জন্য মালিককে তাগিদ দিচ্ছেন তাড়া।ট্রিলিয়ন গোল্ড কারখানার দায়িত্বশীল কয়েকজন এর সাথে কথা বললে তারা জানায়, এখানকার শ্রমিকরা বুঝতেছে না। এটা বর্তমানে সারাবিশ্বের বড় মহামারী অনেক শ্রমিকই বলতেসে এটা কিছু হবে না, গরীবের আল্লাহ আছে। সামান্য জ্বর আসলে বা ঠান্ডা লাগলে এমনি ভাবেই তারা এড়িয়ে যায়। কারখানার বাইরে শ্রমিকদের চলাফেরায় তাদের সতর্কতা বলতে কিছুই নেই।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প কর্মকর্তা ড. আজমল হক জানান, ট্রিলিয়ন গোল্ড কারখানায় সচেতনতা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বন্ধ করে দেয়া উচিত। কারন এসব কারখানায় জনসমাগম সবচেয়ে বেশী । এখানে দুরত্ব বজায় না রাখলে ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে করোনা সংক্রমনের ব্যাপক হারে ঝুঁকি থাকে।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, ট্রিলিয়ন গোল্ড চুল কারখানার কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের জন্য যথাযত সুরক্ষার ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের অবশ্যই মাক্স ও জীবাণুনাশক প্রতিরোধি হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পৃথক পৃথক সময়ে শ্রমিকদের ডিউটি ভাগ করে দেয়া ও কারখানার বাইরে জনাসমাগম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।


ঢাকা, রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ৩৫১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন