সর্বশেষ
রবিবার ১২ই আশ্বিন ১৪২৭ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

বঙ্গবন্ধুর খুনি কে এই ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০

iii.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদকে সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাপ্টেন মাজেদকে পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সেনেগাল দূতাবাসে বদলীর আদেশ দেন। ১৯৮০ সালে তাকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি প্রদান করা হয় এবং পরে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই আবদুল মাজেদ। তার পিতার নাম মৃত আলী মিয়া চৌধুরী, মাতার নাম মৃত মেহেরজান বেগম। তার পৈত্রিক নিবাস ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামার গ্রামে।

গােয়েন্দা সূত্র জানায়, আবদুল মাজেদের পরিবার বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। আবদুল মাজেদ ৪ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের জনক। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নং রোডে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অপর আসামী মেজর শাহরিয়ার এবং হত্যাকাণ্ডে অংগ্রহণকারী অন্যান্য সেনাসদস্যদের সাথে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ক্যু করা অফিসারদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেশত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আদেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তিনি ক্যু করা অফিসারদের সঙ্গে প্রায় ৩ মাস থাকেন। সে সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্যু করা অফিসারদের হত্যাকাণ্ডের পুরস্কার স্বরুপ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে বৈদেশিক বদলী প্রদান করা হয়, তারই অংশ হিসেবে ক্যাপ্টেন মাজেদকে পুরস্কার হিসেবে সেনেগাল দূতাবাসে বদলীর আদেশ দেন।

পরে ২৬ মার্চ ১৯৮০ সালে তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যােগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। পরে আবদুল মাজেদকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট এ ডাইরেক্টর, ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং ওই পদে যােগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর এন্ড হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্ট এ বদলি হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু হলে তিনি আটক হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৮৬৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন