সর্বশেষ
শনিবার ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ | ১১ জুলাই ২০২০

করোনায় পুরুষদের বেশি মৃত্যুর কারণ

শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২০

6.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরুষের চেয়ে নারীরা কি বেশি শক্তিশালী? বিশ্বের কয়েকটি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন প্রশ্নই দেখা দিয়েছে। এসব দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। করোনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ধুমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণের মতো কারণগুলি প্রভাব ফেলছে। এছাড়া গবেষকরা আরও গভীরে গিয়ে জিনগত বিষয় নিয়েও গবেষণা করছেন।

নারীদের চেয়ে সংখ্যায় কম আক্রান্ত হয়েও মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের হার অনেক বেশি। ভারতেও করোনায় মৃত্যুর হার নারীর চেয়ে পুরুষের অনেক বেশি। বিভিন্ন দেশের তথ্যে দেখা গেছে, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৭৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৭৩ শতাংশ, ইরানে আক্রান্তের হার ৫৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৫৯ শতাংশ, ইতালিতে আক্রান্তের হার ৫৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৬৯ শতাংশ, জার্মানিতে আক্রান্তের হার ৫২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৬৫ শতাংশ।

চীনে আক্রান্তদের মধ্যে ৫১ শতাংশ পুরুষ এবং মৃতদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৪ শতাংশ, সুইডেনে ৫১ ও ৫৯ শতাংশ, ডেনমার্কে ৫০ ও ৬৭ শতাংশ, স্পেনে ৪৯ ও ৬৩ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৪৯ ও ৬১ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডে ৪৮ ও ৬৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ৪৭ ও ৫৮ শতাংশ।

ধূমপানে কতটা ঝুঁকি রয়েছে

ভারতের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ পার্থ প্রতিম বোস জানিয়েছেন, 'যারা ধূমপান করেন, তাদের ফুসফুস এমনিতেই দুর্বল। ভারতে জেলা বা ছোট শহরগুলিতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অনেক বেশি ধূমপান করেন। গ্রামের দিকে লোকে এখনও হুঁকো খান, বিড়ি, সিগারেটও খান। তাই মেয়েদের তুলনায় পুরুষদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইতালিতেও এত বেশি সংখ্যক লোকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ, সেখানে লোকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস অনেক বেশি।'

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ধূমপায়ীরা আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যায় রয়েছে এবং তাদের ফুসফুসের কার্যকারীতাও কমে গেছে। করোনায় বেশি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার জন্য এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।  এছাড়া কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, নারীদের চেয়ে ঘরের বাইরে বেশি যান পুরুষরা। এজন্য তারা দূষণের শিকার হন বেশি।

সম্প্রতি রয়টার্স এক গবেষণায় দেখেছে যে, পুরুষরা করোনাভাইরাসের হুমকি হালকাভাবে গ্রহণ করছে। এটা তাদের অসুস্থতার হার বাড়িয়ে দেয়। তিন হাজার পুরুষের ওপর এক জরিপ করে দেখা গেছে, অর্ধেক পুরুষই বাথরুম থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোন না।  এসব কারণে পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগেন। যেমন- হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিস এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা।

করোনাভাইরাস ২০০৩ সালে চীনে মহামারি রূপ নেয়া সার্স ভাইরাসের অনেকটা কাছের গোত্রীয়। সেসময় সার্সে মৃতদের মধ্যে পুরুষদের হার নারীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পুরুষদের মৃত্যুর হার ছিল ২১.৯ শতাংশ এবং নারীদের মৃত্যুর হার ছিল ১৩.২ শতাংশ। ধূমপানকে এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখলেও সার্স ভাইরাস ইঁদুরের ওপর গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, মারা যাওয়া ইঁদুরের মধ্যে পুরুষ ইঁদুর বেশি।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, প্রায় সমস্ত সংক্রামক রোগের জন্য, মহিলারা পুরুষদের তুলনায় শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। হেপাটাইটিস বি এবং সি এর কারণে মহিলাদের মধ্যে ভাইরাসগুলি খুব কম সংবেদনশীল হয়। এনওয়াইটি বলছে যে, বিশ্বে বর্তমানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি সমস্ত মানুষের ৮০ শতাংশই নারী। আর যারা ১১০ বছর বয়সে পৌঁছেছেন তাদের মধ্যে 95 শতাংশই নারী।

জিনগত প্রভাব

এছাড়া পুরুষদের চেয়ে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নারীদের বেশি এর পেছনে আরেকটি কারণ সামনে এনেছেন। তারা জানিয়েছেন, মানুষের এক্স ক্রোমোজম মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির জন্য সহায়ক। যেহেতু নারীদের দুটি এক্স ক্রোমোজম থাকে- তারা একটি পান মায়ের থেকে এবং একটি পান বাবার থেকে। আর পুরুষ শুধুমাত্র বাবার থেকে একটি ক্রমোজম পান। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত গবেষণা চলছে।

ভারতের চিকিৎসক সাত্যকি হালদার জানিয়েছেন, 'বিশ্বের অন্য জায়গাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। করোনা হচ্ছে সামাজিক অসুখ। ভাইরাসটি সংক্রমক, অর্থাৎ, ছোঁয়াচে। তাই যিনি বাইরে যাচ্ছেন ও আক্রান্ত হচ্ছেন, তিনি ঘরে ফিরলে গোটা পরিবারে সংক্রমণ ঘটার কথা। ফলে নারীরা কম আক্রান্ত হচ্ছেন আর পুরুষরা বেশি, এই প্রবণতা বাইরে বেরনোর নিরিখে বিচার করলে ভুল হবে। আসলে যে কোনও ভাইরসের একটা জেনেটিক কাঠামো থাকে। করোনার ক্ষেত্রে সেই গঠন এখনও বোঝা যায়নি। পুরুষ ও নারীদের রোগ প্রতিরোধ করার সিস্টেমও আলাদা। বহু ক্ষেত্রে কারও প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, কারও কম। করোনা কী করে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাঙছে, তা এখনো জানা যায়নি। জানা গেলে বোঝা যাবে কেন পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন!'


ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১০৮৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন