সর্বশেষ
বুধবার ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ | ০২ ডিসেম্বর ২০২০

২’জুন থেকে গোমস্তাপুরে আম বাজারজাতকরণ শুরু

বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২০

12.jpg
জাকির হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় আগামী ২’জুন মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম বাজারজাতকরণ শুরু হবে। সেই সাথে জেলার গোমস্তাপুর,নাচোল,ভোলাহাট উপজেলা ও জেলার সীমানাঘেঁষা বরেন্দ্রাঞ্চল নওগাঁর পোরশা,নিয়ামতপুর,সাপাহার উপজেলার আম পরিবহণে প্রয়োজনে গোমস্তাপুরের রহনপুর রেল ষ্টেশন থেকে ঢাকা ও খুলনা পর্যন্ত ষ্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এছাড়া আম বিপনণের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হবে। আমচাষীদের কেমিক্যালমুক্ত নিরাপদ আম সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে চাষী ও ব্যবসায়ীদের কোনরকম হয়রানি না করার বিষয়টির প্রতিও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই লক্ষ্য রাখবে।

গত বুধবার(২৭’মে) দুপুরে গোমস্তাপুর উপজেলায় নিরাপদ আম উৎপাদন,পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক আলোচনা সভায় ওইসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন। সভায় অংশ নেন রহনপুর পৌর মেয়র তারেক আহমেদ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান, রহনপুর রেল ষ্টেশন ম্যানেজার মির্জা কামরুল হক, এ অঞ্চলের বৃহত্তম আমবাজার রহনপুর ষ্টেশনবাজার আম আড়ৎদার সমিতি সভাপতি হুমায়ন আহমেদ,সেক্রেটারী মতিউর রহমান, ষ্টেশন বাজার ইজারাদার সমিতি সভাপতি,উপজেলা আম চাষী সমিতি সেক্রেটারী,উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ সংশ্লিষ্টরা।

সভা শেষে উপজেলায় নিরাপদ আম উৎপাদন,পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমুহ অবহিত করেন। তিনি বলেন,২ তারিখ থেকে রহনপুর ষ্টেশন বাজারেই আম বিপনণ শুরু হবে। তবে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বাজার নিকটের নুনগোলা বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। প্রয়োজনে কোন স্কুল বা কলেজ মাঠেও বাজার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় আমের উৎপাদন ইদানিংকালের মধ্যে সব থেকে কম। মৌসুমের শুরুতে উপজেলায় ৪ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে হেক্টর প্রতি ১৫ টন হিসেবে ৪৫ হাজার ৯২৫ টন উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু এখন গড়ে ৬ টন হিসেবে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত: ফাল্গুন মাসের বৃষ্টিতে ব্যাপক মুকুল নষ্ট হয়। পরে করোনাজনিত কারণে পরিচর্যায় কিছুটা ভাটা পড়ে। এরপর আসে আম্পান ও আরও দুটি ঘূর্নিঝড়। সবমিলিয়ে জেলাব্যাপী আম উৎপাদন ও আমচাষীদের অবস্থা বেগতিক। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই এ ব্যাপারে সচেতন।

এমনকি খাদ্যমন্ত্রী (নওগাঁ) নিজে আম বাজারজাতকরণের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা আম পরিবহনে ট্রেনের ব্যবস্থা হয়েছে। এখন নওগাঁর নিকটের গোমস্তাপুর থেকেও ট্রেন যাবে যদি চাষী ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনবোধ করেন।

কৃষি অফিসার বলেন, জেলায় করোনা পরিস্থিতিতে বাগান ও আম ক্রয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার ফড়িয়া,ব্যাপারীরা এখনও তেমনভাবে জেলায় আসেন নি। ফলে কৃষকরা হতাশবোধ করছেন। তবে ব্যাপারীরা আসলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে। ট্রাকে আম পরিবহনের ব্যাপারে পুলিশ সাধ্যমত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন,কৃষক ও চাষীদের রক্ষার্থে প্রণাদনাসহ সরকারের নিকট বিভিন্ন প্রস্তাব ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।     


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ১৮১৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন