সর্বশেষ
শনিবার ৩১শে শ্রাবণ ১৪২৭ | ১৫ আগস্ট ২০২০

রফতানি আয় বেড়েছে

মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২০

2.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরের এপ্রিলে আশঙ্কাজনক হারে দেশের রফতানি আয় কমে যায়। তবে পরের মাস মে তে আগের মাসের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। যদিও গত অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে চলতি অর্থবছরের মে মাসে রফতানি আয় কম হয়েছে প্রায় ৬১ শতাংশ।

সোমবার (০৮ জুন) প্রকাশিত রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)’র হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। যা তার আগের মাস এপ্রিলে এই রফতানি পরিমাণ ছিল মাত্র ৫২ কোটি ডলার।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে চলতি অর্থবছরের মে মাসে রফতানি আয় কম হয়েছে প্রায় ৬১ শতাংশ। এপ্রিলে কমেছে ৮৩ শতাংশ। আগামী মাসগুলোতেও রফতানি আয়ে এই নেতিবাচক প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ১ হাজার ১৫০ কারখানার ৩১৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। ৪৬০ কোটি টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ির ২৯৯টি ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল করেছে বিদেশি ক্রেতারা। দুই মাস ধরে সবজি রফতানি বন্ধ। আসবাবে নতুন কোনো ক্রয়াদেশ আসছে না।

ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের মে মাসে দেশের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ সময় আয় হয় মাত্র ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে এই আয় ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬৪ দশমকি ৩৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের এই সময় আয় ছিল ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

উদ্যোক্তারা জানান, করোনার প্রভাবে আগের মাস গত এপ্রিলে স্মরণকালের সবচেয়ে কম আয় হয়েছে। এপ্রিলে মাত্র ৫২ কোটি ডলার রফতানি আয় অর্জিত হয়। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮৩ শতাংশ আয় কমেছে এপ্রিলে। মার্চে কিছুটা কম আসলেও সে মাসে করোনার প্রভাবটা পুরোপুরি বোঝা যায়নি।

সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের জুন থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ১১ মাসে রফতানি কম হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ। এই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৫৫ কোটি ডলার। রফতানি হয়েছে তিন হাজার ৯৫ কোটি ডলারের পণ্য। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার।

টেরিটাওয়েলসহ পোশাক খাতের সমজাতীয় পণ্য মিলে মোট রফতানিতে পোশাক খাতের অবদান ৮৬ শতাংশ। এ খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসের মধ্যে মে মাসে ওভেন ও নিট খাতে পোশাক রফতানি কমেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও।

অন্যান্য বড় পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ২১ শতাংশের বেশি। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ শতাংশ। রফতানি হয়েছে মাত্র ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের এই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। চিংড়িসহ হিমায়িত মাছের রপ্তানি কম হয়েছে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য। বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্যের রপ্তানি কম হয়েছে ৮ শতাংশের বেশি। ৭৮ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি হয়েছে গত ১১ মাসে। করোনায় ছোট-বড় সব পণ্যেরই রফতনি প্রবাহের একই চিত্র। ব্যতিক্রম শুধু ওষুধ, আসবাব ও পাট।

করোনাকালেও কাঁচা পাটসহ সব ধরনের পাটপণ্যের রফতনি বেড়েছে। পাট ও পাটপণ্যের রফতানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এই সময়ে রফতানি আয় হয়েছে ৮১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে আয় হয়েছিল ৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ পাট ও পাটজাত পণ্যে ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৮ দশমকি ৬৯ শতাংশ ও গত বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

একইভাবে ওষুধের রফতানি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। যদিও লক্ষ্যমাত্রা থেকে রফতানি আয় ২১ শতাংশ কমেছে। মোট ১২ কোটি ডলারের ওষুধ রফতানি হয়েছে এ সময়।


ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ৫৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন