সর্বশেষ
শনিবার ১৪ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ | ২৮ নভেম্বর ২০২০

নিমের মিষ্টি গুণ

রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২০

13.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছু আছে যেগুলির নিত্য ব্যবহারে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ দূর হয়। এরকমই একটি উপাদান হচ্ছে নিমপাতা। নিম এমন একটি ওষুধি গাছ যে এর প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগে। নিমপাতার উপকার প্রচুর ৷ নিয়মিত কয়েকটি করে নিমপাতা খেলে, নানা অসুখ থেকে দূরে থাকা যায়৷ নিমপাতার স্বাদ তেতো হলেও গুণে কিন্তু মিষ্টি। ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে এটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষত জীবাণুর কারণে হওয়া বিভিন্ন সমস্যায় দারুণ কার্যকর এই পাতা। এমনটাই জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

নিমের ইংরেজি নাম Neem, বৈজ্ঞানিক বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Azadirachta indica A.Juss., পরিবার Meliaceae। নিমকে নিম্ব, ভেপা, তামার আরও আরও অনেক নামে ডাকা হয়। নিম আমাদের এক বিশেষ উপকারী বন্ধু বৃক্ষ। নিমের জনপ্রিয়তা সে অনাদিকাল থেকে চলে আসছে। নিমের পাতা থেকে বাকল, শিকড় থেকে ফুল, ফল থেকে বীজ সবগুলোই আবশ্যকীয়ভাবে কাজে লাগে। নিমের গুণ অতুলনীয়। নিম অনেক দ্রুতবর্ধনশীল গাছ। নিম বহুবর্ষজীবী মাঝারি ধরনের চিরহরিৎ বৃক্ষ।

নিমের গুণাগুণ:

১. নিম গাছের বাকল হতে আহরিত নির্যাস এইডস ভাইরাসকে মারতে সক্ষম। নিম পাতার নির্যাস অথবা পুরু পাতা অথবা নিম পাতার চা পান করলে এইডস উপশম হয়।

২. শিশুরাই বেশি কৃমির শিকার হয়। কৃমি নির্মূল করতে নিমপাতার জুড়ি নেই। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুঁড়ো নিয়ে দিনে ৩ বার সামান্য গরম জল সহ শিশুদের খাওয়াতে পারেন।

৩. প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ নিম পতার রস সকালে খালি পেটে ৩ মাস খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রতিদিন সকালে ১০টি নিম পাতা গুড়া বা চিবিয়ে সেবন করলে ডায়বেটিস উপকার হয়। নিম পাতার রস খেলে ৩০-৭০% ইনসুলিন নেয়ার প্রবণতা কমে যায়।

৪. নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। নিম গাছের পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।

৫. যারা দীর্ঘদিন ধরে পেটের সমস্যায় ভূগছেন তারা কাপের এক চতুর্থাংশ পানির সঙ্গে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস মিশিয়ে সকাল-বিকাল খেলে উপকার পাবেন।

৬. পোকা মাকড় কামড় দিলে বা হুল ফোঁটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে। নিমের পাতা ও ছালের গুড়ো কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাঁত মজবুত হবে। সেই সঙ্গে দাঁতের রোগও কমে যাবে।

৭. নিমের তেল মুখে ব্যবহার করলে ব্রন হয় না। জন্ডিস হলে প্রতিদিন সকালে শিশুদের ৫ থেকে ১০ ফোঁটা,বয়স্কদের ১ চামচ নিম পাতার রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খাওয়ালে উপকার পাবেন । 

৮. নিম পাতা সামান্য শুস্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ একত্রে পিষে সামান্য গরম করে একটি পরিস্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে তা দিয়ে চোখ ঢেকে দিলে চোখের স্ফীতি ও ব্যথা সেরে যায়।

৯. কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাঁড়ি ভাল থাকে। নিম পাতার নির্যাস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়।

১০. নিম পাতার নির্যাস ও নিম বীজ হতে নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ঘোষিত একুশ শতকের বৃক্ষ এবং বর্তমান বিশ্বেও সবচেয়ে গুণধর আলোচিত ভেষজ নিম থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন নিম সামগ্রী।


ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ৬৩০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন