সর্বশেষ
শুক্রবার ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭ | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০২০

23.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন, সেই নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ’র ৭২তম জন্মদিন জন্মদিন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন দুই বাংলার তুমুল জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করা হুমায়ূন আহমেদ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সৃষ্টিশীলতায় তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন, কথা-ছন্দ-দৃশ্যের জাদুতে এক করেছেন পাঠক ও শ্রোতা-দর্শকদের।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। 

হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে ভূষিত হয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কারে। এরমধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সময় দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) এক আয়োজনে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ‘বাকের ভাই’খ্যাত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর বলেন, হুমায়ূনকে আমরা শুধুই একভাবে দেখার চেষ্টা করি। তিনি ‘বাকের ভাই’ লিখেছেন, জনপ্রিয় নাটক লিখেছেন। কিন্তু এখানেই শেষ কথা না। তাকে নিয়ে সত্যিকার অর্থে বিচার বিশ্লেষণ এখনও হয়নি। তাকে জনপ্রিয় লেখক বলা হয়। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করা উচিৎ। তার মূল্যায়ন যথাযথভাবে এখনও হয়নি। যদিও আমাদের দেশে সবকিছু অনেক দেরিতে হয়।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি৷ এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক।

টেলিভিশন নাটকেও চমক দেখিয়েছেন তিনি। কখনো চিত্রনাট্যে কখনোবা নির্মাণে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘কালা কইতর’, ‘সবুজ ছায়া’র মতো ধারাবাহিকগুলো। আর অসংখ্য খণ্ড নাটক আজও তাকে এদেশের সেরা নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কিংবদন্তি করে রেখেছে।

বেঁচে থাকতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ঘিরে নানা আয়োজনে মুখরিত থাকতো দখিন হাওয়া, নুহাশপল্লী। এখন তিনি নেই, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই চলে যান অদেখার ভুবনে। তবু হুমায়ূনভক্তদের মন মানে না। দৃষ্টি সীমানার ওপারে যেন প্রিয় লেখক ভালো থাকেন- হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে এই প্রণতিই জানাবেন তারা।


ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ২৭৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন