সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১লা ভাদ্র ১৪২৯ | ১৬ আগস্ট ২০২২

শীতকালে ঠান্ডা না গরম কোন জলে স্নান করা উচিত

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২০

26.jpg ছবি উৎস : সংগৃহীত
বিডিলাইভ ডেস্ক :

শীত পড়লেই স্নান করাটা যেন একটা দুর্বিষহ কাজ। তাপমাত্রা থাকছে স্বাভাবিকের থেকে বেশ কমের দিকেই , যাবতীয় শীতের পোশাক এরমধ্যে বেরিয়ে পড়েছে আমাদের ঝুলি থেকে , এই সময়টা আমাদের সকলের কাছে খুব প্রিয় হলেও দুটো কাজ খুব কষ্টের হয়ে ওঠে এই সময়, ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়া আর স্নান করা। কিন্তু শরীর সুস্থ রাখতে স্নানের কোনও বিকল্প নেই। তাই শীতের দিনে অনেকেই গরম জলে স্নান করা বেশি পছন্দ করেন। পাশাপাশি অনেকে আবার বয়সজনিত কারণে, বা অভ্যাসবশতই গরম জলে স্নান করে থাকেন।

খুব গরম জলে স্নান করা কিন্তু শরীরের পক্ষে একদমই ঠিক নয় স্কিনের ফলিকেলস নষ্ট করে দেয়, অতিরিক্ত গরম জল চুলের পক্ষেও খব খারাপ ঠিক তেমনি আবার মস্তিষ্কের উপরেও চাপ সৃষ্টি করে। তাই সকলেরই উচিত মাথায় অন্তত ঠান্ডা জল দেওয়া। যে সকল মানুষরা হার্ট এর রোগে ভোগেন তাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম এর উপর প্রভাব পরে গরম জলে স্নান করলে। অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করলে ব্রণ তৈরী হয় মুখে , অ্যাসিড এর সমস্যা হলেও ডাক্তাররা গরম জলে স্নান করতে বারণ করেন। চলুন দেখে নি ঠান্ডা আর গরম জলের স্নান করার কিছু উপকারিতা আর অপকারিতা –

ঠান্ডা জলে স্নান উপকারীতা:

১. ঠান্ডা জলে স্নান করলে অবসাদ বা ডিপ্রেশন দূর করতে সাহায্য করে।

২.  শীতল জলের স্পর্শ স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এর ফলে রক্তের বিটা এনডরফিন এবং অ্যাড্রিনালিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৩. ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে মস্তিষ্ক সজাগ হয় এবং অবসাদজনিত প্রভাব কেটে যায়।

৪. ত্বক ও চুলের জন্য ঠান্ডা জলে স্নান দরকার।

৫. ঘুমের সমস্যা হলেও ঠান্ডা জলে উপকারী।

৬. ঠান্ডা জলে এন্টিবডি উৎপাদন বেড়ে যায় এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ সাহায্য করে।

৭. দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়তে সাহায্য করে,ঠান্ডা জল। এবং পরিশ্রমের পর ঠান্ডা জল পেশীকে আরাম দেয়।

 

অপকারীতা:

অপকারিতা খুব একটা দেখা যায় বলে মনে হয় না তবুও প্রচন্ড গরমে ঠান্ডা যেমন স্নান করা যেতে পারে তেমনি ঠাণ্ডাতে অনেকেই ঠান্ডা জলে স্নান করে. তবে সবার সেটা সহ্য নাও হতে পারে

১. বিশেষত নিউবর্ন বেবি দের জন্য কনকনে ঠান্ডা জল কখনোই নয়।

২. অ্যাজমা, আর্থারাইটিস রোগীদের জন্য ঠান্ডা জল একদম নয়।

গরম জলে স্নান উপকারিতা:

১. শিশু ,বৃদ্ধ যাদের পক্ষে শীতল জলে স্নান করলে ঠান্ডা লেগে যায় চট করে তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু নাতিশীতোষ্ণ গরম জলে স্নান বাঞ্ছনীয়।

২. পেশীর ব্যথা কমায় ।

৩. ঠান্ডার ,কাশির সময় সাহায্য করে গরম জলের স্নান।

৪. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী গরম জলে স্নান এতে শরীরের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

অপকারিতা:

১. সারা বছর গরম জলে স্নান করলে ত্বকের নমনীয়তা কমে যাবে।

২. মাথায় গরম জল একদম ব্যবহার অযোগ্য চুলের গোড়ার কোষকে দুর্বল করে।

৩. শরীরের এনার্জি লেভেল টা অনেকটা স্তিমিত হয়ে আসতে পারে।

৪. পুরুষদের শরীরে শুক্রাণু বাড়াতে পারে না এই গরম জলে স্নান।

কোন জলে স্নান করবেন: 

প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিদিন ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করা , বিশেষজ্ঞের মোতে শরীরকে রিলাক্সেশন এর ক্ষেত্রে এর থেকে ভালো উপায় আর নেই। এতে শরীরের রক্ত চলাচলের বৃদ্ধি ঘটে ,অনিদ্রার সমস্যাও দূর হয়। সমগ্র শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকে।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে স্নানে ঠান্ডা গরম দুইজলেরই গুরুত্ব আছে। বলা হয় হালকা গরম জল শরীরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে। তবে মাথা ধুতে ঠান্ডা জল একমাত্র ব্যবহার করা উচিত।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ১৮৮৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন