সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

জিনের দুর্ঘটনাতেই বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ!

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৫

142973399_1422785412.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে সমুদ্রে বসবাসকারী অতি সরল কোনো এক অমেরুণ্ডী প্রাণীর শরীরে এমন একটা জিনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন জিনের একাধিক প্রতিলিপি তৈরি হয়ে যায়। তাই বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশে সহায়তা করেআমরা কীভাবে বুদ্ধিমান হলাম- এ রহস্য অবশেষে ভেদ করা গেছে বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন। এডিনবরা ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের দাবি, পঞ্চাশ কোটি বছর আগে জিনের এক দুর্ঘটনার ফলেই মানুষের যুক্তি দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা জন্মেছিল। অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরও বুদ্ধির উৎস এটাই। গবেষক দলের বক্তব্য, বিবর্তনের পথে আমাদের পূর্বপুরুষদের মস্তিষ্কে জিনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই তাদের পরবর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ আমরা বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছি। আর সব থেকে অদ্ভুত ব্যাপার হলো- যে জিনগুলো আমাদের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে, সেগুলোর জন্যই আবার আমরা মস্তিস্কের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হই।

দীর্ঘ গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে সমুদ্রে বসবাসকারী অতি সরল কোনও এক অমেরুণ্ডী প্রাণীর শরীরে এমন একটা জিনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন জিনের একাধিক প্রতিলিপি তৈরি হয়ে যায়। আর ওই প্রাণীটির পরবর্তী প্রজন্ম সেই জিনগুলোর সুফল লাভ করে। ওই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে আধুনিক মানুষসহ বিভিন্ন জটিল গঠনসম্পন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীও, 'ক্রমবিবর্তনের পথে মানুষের জটিল ব্যবহার কীভাবে এলো সেটা খুঁজে বের করাটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।' যে সংস্থা এই সমীক্ষার জন্য অর্থ জুগিয়েছে, তার পক্ষে জন উইলিয়ামস বলেন, 'মানসিক রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন দিশা দেখাবে।'

মানুষ এবং ইঁদুরের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার তুলনামূলক সমীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দুই প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ করে একটাই মাত্র জিন। যেসব কাজে মাথা খাটাতে হয় বেশি, মানুষ ও ইঁদুরের ক্ষেত্রে একই জিন সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই জিনগুলির পরিবর্তন করে দেওয়া হলে বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জটিল কাজ করার ক্ষমতা উলেল্গখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এক বিবৃতিতে সেথ গ্রান্ট বলেন, 'আমাদের সমীক্ষায় এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, অত্যধিক বুদ্ধিমত্তা এবং জটিল ব্যবহারের অবধারিত ফল হলো মানসিক সমস্যা।' সমীক্ষার অন্যতম গবেষক কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিম বুসি জানান, 'মানসিক রোগীদের এবার শুধু ওষুধ নয়, জিন বদলের মাধ্যমেও চিকিৎসা করার চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।'

ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৪২৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন