সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

যানজট নিয়ন্ত্রণ করবে 'জিপিএস' প্রযুক্তি

রবিবার, মে ১০, ২০১৫

288132164_1431237190.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বর্তমানে আমরা বাস করছি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে। প্রায় প্রতিটি মুহূর্তেই বিজ্ঞান নিয়ে আসছে তাক লাগানো বিভিন্ন প্রযুক্তি। এবার বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে আরেকটি সুসংবাদ। আমরা জানি, যানজট আমাদের একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। প্রত্যেক গাড়িচালকই রাস্তায় জ্যাম বা যানজটের বিপদটি চেনেন। আবহাওয়া ভালো থাক অথবা খারাপ, যানজট কোনো কিছুতেই বাধা মানে না। এই যানজট এড়ানোর জন্য এবার ব্যবহার হবে 'গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমস' সংক্ষেপে 'জিপিএস' প্রযুক্তি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই জিপিএস প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। জার্মানির হ্যানোভারের গ্রাফমাস্টার্স কোম্পানির ক্রিস্টিয়ান ব্র্যুগেমানের নতুন জিপিএস প্রণালি গাড়িচালককে শুধু পাল্টা রুটই বাতলে দেবে না; সেই রুটের জন্য টাইম স্লটে বা সময়ের শূন্যস্থানও রিজার্ভ করে রাখবে। এর ফলে গাড়িচালক কোনোমতেই যানজটে পড়বে না।

গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমস-জিপিএস পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে একটি গাড়ি তার নেভিগেশন বা দিক নির্দেশনার কাজ করে। মানচিত্র ও গাড়ির অবস্থানের হিসাব করে চালককে পথ চিনিয়ে দেয় নেভিগেশনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি। রাস্তা ভুল করলেও এটি বারবার সতর্কতার সংকেত দিয়ে থাকে। নেভিগেশনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র চালককে পথ দেখায় ঠিকই, কিন্তু স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম থাকার ফলে আরও যানজট বাড়ে। কিন্তু জিপিএস-এর এই প্রণালি রাস্তায় যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে। ক্রিস্টিয়ান ব্র্যুগেমান বলেন, 'অনেক গাড়ির জিপিএস তথাকথিত লাইভ ট্রাফিক ডাটার সঙ্গে যুক্ত। কাজেই প্রত্যেক গাড়ি হালের যানজটের খবর পায় ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। দুঃখের বিষয়, সব জিপিএস একই ব্যবস্থা নেয় অর্থাৎ যানজট এড়ানোর জন্য যদি কোনো পাল্টা পথ থাকে, তাহলে জিপিএসযুক্ত সব গাড়িই সেই পাল্টা পথের খবর পায়। সবাই একই 'ডি-টুর' নেওয়ার ফলে সেখানে পরবর্তী যানজটের সৃষ্টি হয়।'

যানজট এড়ানোর উপায় বা সমাধান হলো এমন একটি প্রণালী, যা সব রাস্তার যান চলাচলের খবর রাখে এবং প্রতিটি গাড়িকে তার নিজস্ব 'ডি-টুর' ও বিকল্প রুট বাতলে দিতে পারে। এর ফলে আদৌ যানজট সৃষ্টি হতে পারবে না। ব্র্যুগেমানের ব্যাখ্যা, 'বিশেষ ব্যাপারটা হলো যে মুহূর্তে আমি একটা নতুন রুট পাচ্ছি, সেই মুহূর্তে আমি ওই রুটের একটা রিজার্ভেশনও পাচ্ছি। অর্থাৎ আমার জন্য রুটের প্রতিটি রাস্তায় একটা বিশেষ টাইম স্লট রিজার্ভ করা থাকবে, যার ফলে কোনো রাস্তায় একসঙ্গে অনেক গাড়ি আসা বন্ধ করা যাবে।' প্রোগ্রামের সফটওয়্যার প্রতিটি রাস্তার দৈর্ঘ্য, চ্যানেলের সংখ্যা এবং স্পিড লিমিট অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়। কোনো জিপিএসযুক্ত গাড়ির চালক যদি একটা রুট চান, তাহলে কম্পিউটার হিসাব করে দেখে যে, ওই গাড়ি কখন ওই রাস্তা দিয়ে যাবে। রাস্তাটির ক্যাপাসিটি যদি পূর্ণ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে উত্তরোত্তর গাড়িগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকল্প রুটে পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টিয়ান ব্র্যুগেমান বলেন, 'এখানে বাম দিকে দেখা যাচ্ছে আমাদের গাড়ি এবং আমাদের জিপিএস নিয়ে সিমিউলেশন; ডানদিকে সাধারণ জিপিএস দিয়ে সিমিউলেশন। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের এখানে বিভিন্ন গাড়ির জন্য বিভিন্ন রুট রিজার্ভ করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচল গোটা অবকাঠামোয় বণ্টন করা হয়েছে, সারা শহরটাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক তাড়াতাড়ি লক্ষ্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। ডানদিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সব গাড়ি বড় রাস্তায় আসার চেষ্টা করছে। যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি যানজট তৈরি হয়ে যাচ্ছে।'

প্রোগ্রামটি সক্রিয়ভাবে যানজট প্রতিরোধ করতে পারে। সেজন্য একটি বিশেষ এলাকায় গাড়িগুলোর গতি এবং অবস্থানের 'রিয়েল টাইম' হিসাব নেওয়া হয়। কম্পিউটার সিমিউলেশনে দেখা যাচ্ছে, এর ফলে যান চলাচলের গতি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। রাশ আওয়ার অর্থাৎ অফিস টাইমে অ্যাপটি ব্যবহার করলে লক্ষ্যে পেঁৗছাতে মাত্র অর্ধেক সময় লাগে। যত বেশি গাড়িতে এই নতুন জিপিএস প্রণালী থাকবে, তত বেশি যানজট রোধ করা যাবে। ব্রম্ন্যগেমান বলেন, 'গোটা ট্রাফিক যাতে আরও ভালোভাবে চলে আর ট্রাফিক জ্যাম বা যানজট রোধ করা যায়, সেজন্য ১০ শতাংশ গাড়িতে নতুন জিপিএস থাকা প্রয়োজন। এর ফলে শুধু ওই ১০ শতাংশ গাড়িচালকই নন, বরং সব গাড়িচালকের সুবিধা হবে। কেননা, কাউকেই যানজটের পাল্লায় পড়তে হবে না।'

ক্রিস্টিয়ান ব্র্যুগেমানের অ্যাপ ১০ শতাংশ গাড়িচালক যে কবে ব্যবহার করবেন, তা ঠিক নেই। কাজেই তার পরিকল্পনা হলো, একটি পাবলিক ইন্টারফেস, যাতে এই সফটওয়্যার বিনা জটিলতায় অন্যান্য কোম্পানির জিপিএস প্রণালীতে অন্তর্ভূক্ত করে নেওয়া যায়। জার্মানির 'বশ' কোম্পানি ফোর্ড আর ওপেল গাড়ির জন্য জিপিএস তৈরি করে। ব্র্যুগেমান তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছেন। এর পর তার যে বাজারটির ওপর নজর, সেটি হলো মার্কিন মুলুকে। ব্র্যুগেমান জানান, 'অ্যাপটি নিয়মিত ব্যবহার করলেই বোঝা যায় এর গুণাগুণ। প্রত্যেক দিন সকালে আমি যখন অফিসে যাই, তখন আমার একই অভিজ্ঞতা হয়। জিপিএস আমাকে প্রতিদিন অন্য রুটে পাঠালেও, প্রতিদিন আমার প্রায় একই সময় লাগে। এর অর্থ হলো, সব গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে, কিন্তু গাড়িগুলো সেই জায়গা ব্যবহার করে না। আমাদের প্রণালিতে গাড়িগুলো সত্যিই পুরোটা জায়গা নেবে এবং আরও তাড়াতাড়ি লক্ষ্যে পেঁৗছাবে। জিপিএস ব্যবহার করে শুধু সময়ই বাঁচে না; বাঁচে পেট্রোল, সেই সঙ্গে কমে কার্বন নির্গমন। কাজেই প্রত্যেক গাড়িচালককে তার নিজের যাত্রাপথ বাতলে দিয়ে জিপিএস পরিবেশকে বাঁচাতেও সাহায্য করবে। কাজেই নিঃসন্দেহে ধরে নেওয়া যায়, এটি একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তি এবং এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে।

সূত্র :স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন



ঢাকা, রবিবার, মে ১০, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৬৩৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন