সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

২০২০ সালেই অদৃশ্য হয়ে যাবে এন্টার্কটিকা!

সোমবার, মে ১৮, ২০১৫

2018156701_1431944647.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
নাসার সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ১০,০০০ বছরের পুরানো এন্টার্কটিকার লারসেন বি আইস শেল্ফের অবশিষ্ট বিভাগ নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। গবেষণার পর তারা ভবিষ্যতবাণী করেন যে, বিশিষ্ট আইস শেল্ফের মৌলগুলো একটি পুরু ভাসমান বরফের প্ল্যাটফর্মে আবির্ভূত হবে। সম্ভবত, এই দশক শেষ হবার পূর্বেই বরফের স্তর সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যাবে।

আইস শেল্ফ হিমবাহ কাজের অংশ এবং বাধা হিসেবে কাজ করে। এদের অন্তর্ধানের কারণে হিমবাহ সম্ভাব্য আরও দ্রুত হ্রাস পাবে। যার ফলে গ্লোবাল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বা গতি বৃদ্ধি করতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে আলা খাজেন্দারের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়। তারা গবেষণায় প্রমাণ পান, আইস শেল্ফ দ্রুত প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে এবং আরও খণ্ডিত হয়ে উঠছে। প্রবাহের কারণে আইস শেল্ফে আরও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে।

নাসার একটি প্রেস রিলিজে খাজেন্দার বলেছেন, “এই ভাঙ্গা একটি সতর্কীকরণের লক্ষণ। সামনের আসনে বসে বৈজ্ঞানিকভাবে বরফের পরিবর্তনশীল চিত্র দেখা আকর্ষণীয় হলেও, এটি আমাদের গ্রহের জন্য অনেক খারাপ খবর”।

আইস শেল্ফ ২০০২ সালে আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার পর সকলের নজরে আসে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে বরফের বালুচর ধসে পড়ে কিভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। স্লেটের একজন আবহবিৎ ইরিক হলথাউস এর মতে, কেউ কখনও এতো বড় বরফের টুকরা এতো দ্রুত অদৃশ্য হতে দেখেনি।

লারসেন বি আইস শেল্ফের পতনের জন্য এন্টার্কটিকার পেনিনসুলার গ্রীষ্মকালের সিরিজকে মনে করা হচ্ছে। শীতকালে দখিণা উপদ্বীপের উপর উপর উষ্ণ প্রভাবের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নাসার মতে, ২০০২ সাল থেকে একটি বিশেষ উষ্ণ প্রভাবের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে লারসেন বি এন্টার্কটিকার আয়তন ছিল ৪,৪৪৫ বর্গমাইল। ২০০২ সালে এর আয়তন কমে ২,৫৭৩ বর্গমাইলে পরিণত হয়। এরপর মাত্র এক মাস পরেই লারসেন বি এর আয়তন মাত্র ১,৩৩৭ বর্গমাইলে রূপান্তরিত হয়।

বরতমানে লারসেন বি এর আয়তন ৬১৮ বর্গ মাইল। যা রোড দ্বীপের তুলনায় মাত্র অর্ধেক। দুই দশক আগে লারসেন বি কানেকটিকাট রাজ্যের চেয়ে সামান্য ছোট ছিল। খাজেন্দার বলেন, “লারসেন বি এর ব্যাপারে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল কিভাবে এতো জলদি এটি পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবর্তন নিষ্করুণ হয়েছে”।

আইস শেল্ফ বায়ুমণ্ডলীয় ওয়ার্মিং এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। লারসেন বি অঞ্চলের অন্যান্য বরফও বছরের পর বছর ধরে প্রভাবিত করছে। স্পেস এজেন্সি ২০১২ সালে উপগ্রহ থেকে কল্পচিত্র পর্যবেক্ষণ করে লারসেন বি এর তরলীকরণ এবং গলে যাওয়ার প্রমাণ তথ্য বের করেন। ২০১৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক রেকর্ড উষ্ণতম বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা, সোমবার, মে ১৮, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৩৪৩৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন