সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

ভারতীয় প্লেট ক্রমশ ঢুকে চলেছে ইউরেশিয়ায়, ভূকম্পই ভবিষ্যৎ!

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০১৫

1677729891_1432038458.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
গত এক মাস যাবত সংবাদের শিরোনামে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে নেপালের ভূমিকম্প। প্রকৃতির তাণ্ডবের রেশ আছড়ে পড়েছে ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এমনকি সুদূর আজারবাইজানে। ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ভুপৃষ্ঠের বিধ্বংসী প্রলয়ের পিছনে রয়েছে টেকটনিক প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন। তবে সেই তত্ত্ব নিয়েও শেষ নেই বিতর্কের।

আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি বছর আগে অবিচল ইউরেশিয়ান প্লেটে এসে সজোরে ধাক্কা মারে ভারতীয় উপমহাদেশ। তার জেরে আমূল পরিবর্তন ঘটে এই অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক চরিত্রে। জন্ম নেয় হিমালয় পর্বতরাশি, উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তিব্বত মালভূমির। বিজ্ঞানীদের মতে, ভারতীয় ভূখণ্ড এখনও ধাক্কা মেরে চলেছে ইউরেশিয়ান প্লেটকে। যার ফলেই অহরহ কেঁপে উঠছে নেপাল, উত্তর ভারত ও সংলগ্ন অঞ্চল। দীর্ঘ লালিত ভূখণ্ডের সংঘর্ষ তত্ত্ব নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও অজানা।

যেমন, ঠিক কোন সময় ভারতীয় ভূখণ্ড এসে ইউরেশিয়ায় ধাক্কা মারে? আদতে ভারতীয় ভূখণ্ড কত বড় ছিল? দুই ভূখণ্ডের সংঘর্ষের ফলে তার কতটা ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে ঢুকে গিয়েছে? কিন্তু যে প্রশ্ন নিয়ে ভূবিজ্ঞানীরা বিশেষ চিন্তিত, তা হল কী কারণে এত দ্রুত এখনও এগিয়ে চলেছে ভারতীয় ভূখণ্ড?

নেদারল্যান্ডসের উতরেখত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডাউয়ে জে জে ভ্যান হিন্সবার্গেন জানিয়েছেন, 'যে গতিতে ভারতীয় ভূখণ্ড এগোচ্ছে তা সাধারণের বোঝা সম্ভব নয়। তবে মানুষের আঙুলের নখ যে হারে বেড়ে চলে, এখনও ইউরেশিয়ান প্লেটের মধ্যে সেই গতিতে প্রবেশ করে চলেছে ভারত।'

এই গতির আসল কারণ খুঁজে পাওয়া মুশকিল, কারণ হিমালয় ও তিব্বতের নীচে এর মধ্যেই চাপা পড়ে গিয়েছে ভারতীয় ভূখণ্ডের বিশাল অংশ। প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূখণ্ড বলতে ছিল এক বিশাল মহাদেশ যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন 'প্যানজিয়া'।

পরবর্তীকালে ডাইনোসররা জীবিত থাকাকালীন প্যানজিয়া ভেঙে দু'টি মহাদেশ সৃষ্টি হয় যা 'লরেশিয়া' এবং 'গন্ডোয়ানা' নামে পরিচিত। ভারতীয় ভূখণ্ড গন্ডোয়ানা মহাদেশেরই অংশ। পরে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে উত্তরমুখে ভেসে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ইউরেশীয় প্লেটে ধাক্কা মারে।

মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ এখনও বহাল। ইউইরেশিয়ান প্লেটের নীচে দ্রুত বেগে প্রবেশ করে চলেছে গন্ডোয়ানার বিচ্ছিন্ন অংশ। আর তারই জেরে প্রবল কম্পনে উথালপাথাল হচ্ছে নেপাল ও সংলগ্ন অঞ্চল। প্রকৃতিক এই বিপর্যয়ের শেষ কোথায়, জানেন না কেউ। ভূবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এর জেরে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হতে চলেছে এই এলাকায়।


ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৪৮৪৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন