সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

আগামীতে রক্তপাত ছাড়াই হবে যুদ্ধ

মঙ্গলবার, জুন ২, ২০১৫

303002172_1433252226.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আগামী দিনে বদলে যাবে যুদ্ধের ছবি। রক্তপাত ছাড়াই অত্যাধুনিক অস্ত্রে বাজিমাত করবে কারা?

স্টার ট্রেক থেকে ভ্যান ডেমির ইউনিভার্সাল সোলজার- এর মতো হাইটেক স্কাই-ফি সিনেমায় সম্ভব। তবে এবার সম্ভব বাস্তবেও।

পেন্টাগনের কাউন্টার ইলেকট্রনিক্স হাই পাওয়ার অ্যাডভান্সড মাইক্রোওয়েভ প্রজেক্ট, সংক্ষেপে চ্যাম্প, আক্ষরিক অর্থেই 'চ্যাম্পিয়ন'। যুদ্ধবাজ আধুনিক বিশ্বের আধুনিকতম এই সমরাস্ত্র বড়ই 'সফিস্টিকেটেড'। রক্তপাত তার একেবারেই পছন্দ নয়! বরং চোখের পলক পড়ার আগেই সে শেষ করে দিতে পারে যে কোনো সেনাবাহিনীর বিপুল রণসজ্জা।

কী এই চ্যাম্প? কী ভাবে কাজ করে সে? এর পিছনে তত্ত্বটি হল, লকহিডের স্টেলথি জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল-এক্সটেন্ডেন্ট রেঞ্জ (সংক্ষেপে জেএএসএসএম) এ বাহিত হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বিপুল আধানের মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ঝড় সৃষ্টি করে এ নিঃশব্দে স্তব্ধ করে দিতে পারে শত্রুপক্ষের 'সি৪এসআই' বা ইলেকট্রনিক কম্যান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন অ্যান্ড কম্পিউটিং, সার্ভেইল্যান্স এবং ইন্টেলিজেন্স ডিভাইসগুলিকে।

এবং তা হবে, কোনও প্রাণহানি ছাড়াই এবং যন্ত্রের বাহ্যিক কোনও ক্ষতিও হবে না এক্ষেত্রে। এমনকী বিকল কয়েকটি যন্ত্র পড়ে থাকা ছাড়া কোনও চিহ্নই থাকবে না 'চ্যাম্পে'র আক্রমণের। এ জন্যই একে 'মাদার অফ অল লেথাল ওয়েপনস' নাম দিয়েছেন উন্নত বিশ্বের সমরবিদেরা।

এর কার্যকারিতা দেখে একে হাই অল্টিচিউড পরমাণু (ইএমপি বম্ব) বিস্ফোরণের সময় তড়িত্চুম্বকীয় কণার ঝড় কিংবা সৌরঝড়ের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গেও তুলনা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু 'ইএমপি বম্ব' আদতে 'এরিয়া ওয়েপন' গোত্রে পড়ে, তাই তার ধ্বংসলীলাও আশপাশের সমস্ত কিছুর উপরে বাছবিচার ছাড়াই, সর্বাত্মক। আর 'চ্যাম্প' হলো এমন এক 'ইএমপি' মহাসাগর, যেখানে হাবুডুবু খায় শুধু তাবত যন্ত্রকূল। সে প্রাণ নেয়, তবে শুধু যন্ত্রের।

মার্কিন সেনার ভান্ডারে নতুন এই সংযোজন অবশ্য তেমন নতুন কিছু নয়। লিবিয়ায় গদ্দাফি-বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় একে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে একাধিক মহল থেকে। যদিও তার সত্যতা নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও মুখ খোলেনি কোনো পক্ষ।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র দন্তর সূত্রে খবর, বোয়িং ইন্টারন্যাশনাল ও এয়ারফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ প্রকল্প এই 'চ্যাম্প'।

২০১২-র শেষের দিকে প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় এজিএম-৮৬ কনভেনশনাল এয়ার লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল (সিএএলসিএম) বাহিত হয়ে চ্যাম্প উড়ে গিয়েছিল উটাহ্-র সেনাছাউনির একটি দোতলা বাড়ির উপর দিয়ে। পলকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বাড়িতে রাখা কম্পিউটার-সহ সমস্ত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। এমনকী, যে হাই ফ্রিকোয়েন্সি আল্ট্রা হাই ডেফিনিশন ক্যামেরা লাগানো ছিল গোটা বাড়ি ও আশপাশে, গোটা ঘটনার ছবি তুলে রাখার জন্য, খারাপ হয়ে গিয়েছিল সেটাও।

ওই একই উড্ডয়নে আরও ছ'টি বাড়ির সমস্ত যন্ত্র বিকল করে দিয়ে পূর্বনির্দিষ্ট লক্ষ্যে গিয়ে পড়েছিল মিসাইলটি।

জানা গিয়েছে, অ্যাপারচার থাকা সমস্ত যন্ত্র এবং রেডার ব্যবহার করা যে কোনও ডিভাইস 'চ্যাম্প'-এর কবলে পড়তে বাধ্য। আপাতত আবিষ্কৃত কোনও ট্রিপ সিস্টেম, কোনও সার্কিট ব্রেকার বা রিলে দিয়ে এই অতর্কিত আক্রমণ আটকানো সম্ভব নয়। আর কোনও বাহ্যিক ক্ষতি ছাড়াই, যন্ত্রের অন্দরে যে ক্ষতি চ্যাম্পের মাধ্যমে হচ্ছে, তা ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও প্রযুক্তি আপাতত আবিষ্কৃত হয়নি।

তবে শুধু স্টেলথ মিসাইল নয়, আগামী দিনে 'জেএএসএসএম---এক্সটেন্ডেন্ট রেঞ্জ (ইআর), ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল কিংবা লং রেঞ্জ অ্যান্টি শিপ মিসাইল (এলআরএএসএম)-এর সাহায্যে বোমারু যুদ্ধবিমান এবং ফাইটার জেট থেকেও ব্যবহার করা যাবে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস ক্যানন 'চ্যাম্প-কে'। আরও ব্যাপক ও নিখুঁত করা যাবে এর নিশানাকে।

এমনকী দীর্ঘক্ষণ ধরে উড়ে আনম্যানড ফাইটার কিংবা এফ-১৫সি, এফএ-১৮ই, এফ-২২ থেকে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ ফাইটার থেকে অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড এরিয়াস (এইএসএ) প্রযুক্তির সাহায্যে শত্রুপক্ষের বিস্তীর্ণ এলাকার সমস্ত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে, যা পরবর্তী আসল হামলার আগাম আঁচ পেতে দেবে না কাকপক্ষীকেও।

বোয়িং-এর তরফে চ্যাম্প প্রোগ্রাম ম্যানেজার কিথ কোলম্যান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। তবে, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সমরাস্ত্রের মধ্যে চ্যাম্পের থাবা এড়ানো সম্ভব নয় কোনও অ্যান্টি-মিসাইল বা জ্যামিং প্রযুক্তির। সেক্ষেত্রে চ্যাম্প ব্যবহার করলে যুদ্ধের আগেই চার-পা এগিয়ে থেকে শুরু করবে সেনা।

আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার হলে প্রাণহানি হবে না। তবে চ্যাম্পের থাবায় যে ভাবে বদলে যাবে যুদ্ধের চিত্র, তার অপব্যবহারে ফল কী হতে পারে, তার আশঙ্কায় পরো দুনিয়া।

ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৫২৫৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন