সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

এগার টাইগারের ১১!

মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০১৫

1842583824_1435080308.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
বিজয়ের আনন্দোল্লাস আর উত্তেজনায় ভাসছে সারাদেশ। ক্রিকেটের নব-পল্লবিত কাননে ফুটেছে নতুন ফুল। আলোর পথযাত্রীরাও প্রস্তুত। প্রস্তুতি আরেকটি ‘বড়’ স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্নের নাম ‘বাংলাধোলাই’।

বুধবার বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। সঙ্গে সিরিজও যবানিকায় ছুঁয়ে দেখবে। ম্যাচের শুরু বেলা ৩টায়; যেখানে হোয়াইওয়াশের স্বপ্ন নিয়ে মিরপুরের গ্যালারি উপচে পড়বে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস-রোমাঞ্চে। হারলেও সিরিজ বাংলাদেশের-তাই শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শতভাগ বিজয়োৎসবের আবহে। পাকিস্তানের পর ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়; এ যেন স্বপ্ন-অভিলাষের সম্মিলন।

ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে বাংলাধোলাইয়ের অনাহূত হুঙ্কারও নেই মাশরাফিদের৷ বাংলাদেশের কাছে বুধবার এটি স্রেফ একটা ম্যাচ; আগের আট-দশটা ম্যাচের মতোই। তবে ভয়ানকভাবে উন্নতির নেশা পেয়ে বসেছে টিম বাংলাদেশকে। জয়ের নেশা। এখন আর হারের পাণ্ডুলিপির পাতা খুলে দেখেন না ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু জয়ের বড় স্বপ্নে চোখ।

বুধবার ফের মিরপুরে শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভেসে আসবে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান৷ ভারতকে হারানোর আগেই বাংলাদেশ দারুণভাবে তৈরি ছিল পাকিস্তানকে ‘বাংলাধোলাই’ করে। পাকিস্তানের বিপক্ষেও যেমন সম্মিলিত বাংলাদেশকে দেখা গিয়েছে; দেখা যাচ্ছে ভারতের বিপক্ষেও। তবে চলতি সিরিজে আলো ঝরনাধারায় উজ্জ্বলতর ঊনিশের মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম দুই ম্যাচের জয়ের নায়কই মুস্তাফিজ। বাকিরা যে যার কাজ করার ক্ষেত্রেও ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রথম ম্যাচটার পর অনেকে বলেছিল, ‘আর্বিভাবে ৫ উইকেট পাওয়াটা ফ্লুক ছিল মুস্তাফিজুরের৷ এটা রোজ হয় না; হতে পারে না।’ কিন্তু ২১ জুলাই রবিবার মুস্তাফিজুর বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিভা সময়-কাল বিচারে হয়না। ছাই চাপা দিয়ে আগুন নিভিয়ে রাখা যায়না। ২ ম্যাচে ১১ উইকেট; মুস্তাফিজুর দেখিয়ে দিয়েছেন, অনেক দিন থাকার জন্যই তিনি এসেছেন৷ শিখর থেকে শুরু করে ধোনি; সবাই তার বিরল অফ কাটারের ছোবলে নীল হয়েছেন। মুস্তাফিজের সব চেয়ে বড় সম্পদ; ঠিক জায়গাটা ধরে রেখেই বোলিং করতে পারেন। প্রথম ম্যাচের হিসেবটা বাদ দিলে; দ্বিতীয়টিতে মুস্তাফিজুরের ৬টা স্লোয়ারে ধোনিবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে। যা ধোনিও প্রসংশা না করে পারেননি। আর ভারতের ক্রিকেটবোদ্ধারা বলার চেষ্টা করছেন, ধোনির দল খারাপ সময়ের আবর্তে পড়েছে।

শুধু ব্যাটে নয়, বোলিং-ফিল্ডিংয়েও চলতি সিরিজে ভারতকে বেশ দীনতা পেয়ে বসেছে। ২-এ থাকা ভারতের এই মাদুল অবস্থা নিয়ে ভারতের প্রখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের সেরা দলের কাছে ভারতের সেরা দল হেরেছে। খুবই নতজানু হয়ে হেরেছে। দুটো ম্যাচে বাংলাদেশ যে আধিপত্য নিয়ে খেলেছে, এটা সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ক্রিকেটে একটি ভালো টিম হয়ে উঠছে। এই টিমকে যারা উপেক্ষা করবে; এদের বিপক্ষে যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগবে; তাদের ভারতের মতোই অবস্থা হবে।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘এমনকি মেলবোর্নে বাংলাদেশের পারফরম্যন্স, হারের পর তাদের বক্তব্য, সব মিলিয়ে ভারতের উচিত ছিল অহংকার না করে বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নেওয়া এবং দেখানো যে সুন্দরভাবে আমরা জিতেছি। কিন্তু তা না করে তারা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে।’

সিরিজ হারানোর পাশাপশি রাজত্বও হারাতে হতে পারে ধোনির। অথচ তার এই প্রলম্বিত ক্যারিয়ারে অধিনায়ত্ব নিয়ে কথা উঠেনি এর আগে কখনোই। বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারার পর নিজেই বলেছেন, ‘আনাদের যদি মনে হয়, আমার জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট ডুবছে, আমাকে সরিয়ে দিলেই সব সমস্যা মিটে যাবে, তা হলে দিন না। আমাকে সরিয়ে দিন। আমি তো বলিনি আমাকে নিয়ে এসো। ক্যাপ্টেন করে দাও। আমি তখনই দায়িত্ব নিয়েছিলাম, যখন আমাকে নিতে বলা হয়েছিল। আজ যদি মনে হয় সেই দায়িত্বটা অন্য কাউকে দিলে ভাল হয়, তা হলে সেটাই হোক। আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার কাছে দেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় গর্ব।’

শেষ ওয়ানডে ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার থার্মোমিটার এখন আকাশ ছুঁইছুঁই। তিন ম্যাচের সিরিজে পর পর দুটো ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পর ভারত;‌ স্বপ্নের দৌড়ে ছুটছে বাংলাদেশ৷‌ মাঠ থেকে গ্যালারি৷‌ গ্যালারি থেকে রাজপথ৷‌ রাজপথ থেকে সারা দেশ। সবই আবেগমথিত৷‌ বাংলাদেশের প্রতিশোধের আগুনে ভস্মীভূত ভারতের ক্রিকেট অহম। সংযম সাধনার সিয়ামের মাসে এ যেন আগেভাগে ঈদানন্দ উদযাপন। গ্যালারি জুড়ে‌ লাল-সবুজ পতাকার আস্ফালন। যদিও এর মাঝে বৃষ্টি বিড়ম্বনার বিষয়টিও মাথায় রাখতেই হচ্ছে। বুধবারও ম্যাচে বৃষ্টি বাগড়ার আশংকা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ এর আগে ১০টি হোয়াইটওয়াশের পাশে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করে রেখেছে। এর মধ্যে-কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ২টি করে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের গল্পতো আছেই। রয়েছে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষেও ১টি করে বাংলাধোলাইয়ের ইতিহাস। বুধবার যা হতে পারে এগার ক্রিকেটারে ১১!

ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ১৬৬২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন