সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

'ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই'

রবিবার, জুন ২৮, ২০১৫

631097231_1435480063.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ফাইবার অপটিক কেবল সর্বোচ্চ কত তথ্য স্থানান্তর করতে পারবে সেই সক্ষমতার সীমা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা। ফলে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর আশঙ্কা করতে হবে না।

তথ্য স্থানান্তরের চাপ বাড়তে থাকায় ফাইবার অপটিক কেবলের ধারণক্ষমতা নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেদের সাম্প্রতিক এক উদ্ভাবনে সে সংকট অনেকটাই দূর হচ্ছে।

ওয়েবে বিশাল ভলিউমের তথ্য স্থানান্তরের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছিলেন যে ফাইবার অপটিক কেবল হয়তো আর বেশি লোড নিতে পারবে না। এতে ওয়েবের জায়গা ফুরিয়ে যাবে। তবে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়েগোর গবেষকেরা ভয় পেতে মানা করছেন।

তারা দাবি করেছেন, তারা ফাইবার অপটিকের সর্বোচ্চ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন যাতে সংকেত নিখুঁতভাবে পাঠানো ও তার কোড ভাঙা যাবে। সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছেন, এখন অপটিক সংকেত আরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে এবং এতে মানের কোনো হেরফের হবে না।

ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত অপটিক কেবলের এই ‘উন্নতি’ তথ্য স্থানান্তরের গতিও বাড়াতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

গবেষক নিকোলা অ্যালি এই উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এখনকার ফাইবার অপটিক সিস্টেম হচ্ছে চোরাবালির মতো। চোরাবালিতে পড়ে গেলে যত নড়াচড়া করা হবে ততই দ্রুত তলিয়ে যেতে হবে। ফাইবার অপটিকসের ক্ষেত্রে, একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে গিয়ে সংকেতের সঙ্গে যত শক্তি যোগ করা হবে তত বেশি তথ্যপ্রবাহে বাধা পড়বে। এতে তথ্য বেশি দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইবার অপটিক কেবলের এই পাওয়ার লিমিট বা শক্তির সীমাবদ্ধতাকে দূর করা। এতে সংকেত যাতে বেশিদূর পৌঁছায় সে পথের বাধা দূর করা হয়।’

গবেষণার জন্য অপটিক সংকেতের শক্তি ২০ গুণ বাড়িয়ে দেন গবেষকেরা। এতে কোনো বাধা ছাড়াই অপটিক সংকেতকে সাত হাজার ৪৫৬ মাইল পর্যন্ত পাঠাতে সক্ষম হন তারা। এই দূরত্ব পর্যন্ত সংকেত পাঠাতে তারা ‘রিভার্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

গবেষকেরা বলেন, সাধারণত যখন অপটিক সংকেত স্থানান্তরের পেছনে শক্তি বেশি থাকে তখন ‘ক্রসটক’ বা প্রতিবন্ধকতা বেশি হয়। কিন্তু এই ধরনের প্রতিবন্ধকতার মাত্রা ও ধরন অনুমানযোগ্য। গবেষকেরা সংকেত নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তা ‘রিভার্স’ বা বিপরীতমুখী করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোডোর গবেষকেরা বলছেন, বাস্তব জগতের ইন্টারনেটের উন্নতির জন্য এই উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে আরও অনেক কাজ করতে হবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের জন্য এটি প্রতিশ্রুতিশীল একটি পদক্ষেপ যাতে ভবিষ্যতে দ্রুতগতিতে ও কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। (ইউসিএসডি নিউজ সেন্টার, ইয়াহু নিউজ, গিজমোডো)


ঢাকা, রবিবার, জুন ২৮, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৪১০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন