সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভিন্ন ক্যাচ ধরতে হবে নাসিরকে!

সোমবার, জুন ২৯, ২০১৫

879792192_1435576345.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আমরা কি প্রকৃতই বিকৃত হয়ে উঠছি? নাকি যৌনতা নিয়ে একপ্রকার নির্বোধ আবোল তাবোল বকছি? জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাসির হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে যা ঘটে গেল তা আমাদের বিকৃত মানসিকতার বহি:প্রকাশ বলে অনেকের কাছে ভ্রম মনে হলেও বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেয়াও যায় না।

ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিমানে করে তার বাড়ি রংপুরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন। বোনের আবদার রক্ষা করতে নাসির সেলফি তোলেন। আর তা ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর যা হয় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে কম সমালোচনা হয়নি। কিন্তু যারা নাসিরের বোনকে নিয়ে সেলফি সম্পর্কে বিকৃত মন্তব্য করেছেন, ফেসবুকে তাদের কেউ ক্ষমা চাওয়ার সাহসটুকু দেখাতে পারছে না। আদতেই এই সব বিকৃত মানুষের কখনোই আলোতে দাঁড়াবার শক্তি নেই। এরা অন্ধকারের জীব। এরা মানুষ ও তার মনকে অন্ধকারেই নিয়ে যেতে চায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাসির ও তার বোনকে নিয়ে যে বিকৃত মন্তব্য করা হয়েছে তাতে তারা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। কিন্তু এর কোনো কানাকড়ি মূল্য নেই বিকৃত ওই সব মানুষের কাছে। নাসির তাদেরকে লক্ষ্য করে লেখতে বাধ্য হয়েছেন যে, ‘আপনাদের খারাপ মন্তব্য দেখে অনেক কষ্ট পেলাম। আমার ছোট বোনের আবদার মেটাতে তার সাথে আমার ছবি পেজে পোস্ট করেছিলাম। তাই বলে আপনারা অনেকেই বাজে মন্তব্য করেছেন। যেটা নিয়ে অনেকেই ফান পোস্টও করছেন। পোস্টটা ডিলিট করে দিলাম, এখন খুশিতো? আপনাদের মতো ফ্যান আমার দরকার নেই। আমাকে যারা পছন্দ করেন না তারা আমার ছবিতে লাইক দিবেন না। আমাকে ফলো করবেন না। ধন্যবাদ।’

যারা নাসিরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন, তারা নাসিরের এ বক্তব্য দেখেছেন আশা করি। কিন্তু মেরুদন্ডহীন জাতীয় সরীসৃপ হওয়ার কারণে তারা তাদের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করতে পারছেন না। তারা যাতে এধরনের অধর্ম আর না করেন সে জন্যে নাসিরের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। এতে তাদের বিচার হবে কি হবে না বা আইনগত ব্যবস্থা কি হবে, বা ঝামেলা বাড়িয়ে কি লাভ এধরনের ভাবনা থেকে এজন্যে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত যাতে আর কারো বোনকে নিয়ে সমাজে এধরনের বিকৃত চিন্তা না করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

নাসিরকেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নাসিরের বোনকে নিয়ে মন্তব্য করেছে আমার বোনকে নিয়ে নয় তা ভাবলে চলবে না। প্রথমত নাসিরের বোন আমাদের বোন এবং ভবিষ্যতে আমাদের কারো বোনকে নিয়ে অন্যকেউ বাজে মন্তব্য দেয়ার আগে যেন দু’বার চিন্তা করে। বাকস্বাধীনতা হচ্ছে সেই জিনিস যা অন্যকে আহত না করে। নাসিরের বোনকে নিয়ে যে সব মন্তব্য করা হয়েছে তা যদি আমাদের কাউকে আদতেই আহত করে থাকে তাহলে অন্যকেউ এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। জনগুরুত্ব বিষয় নিয়ে উচ্চতর আদালতে এধরনের আবেদন অনেকেই করেন। এমনকি আদালত নিজেও স্বপ্রণোদিত হয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে। কারণ প্রশ্ন হচ্ছে নাসিরের সেলফি আমাদের সমাজে প্রতীক হয়ে ধরা দিচ্ছে কি না। অর্থাৎ বিষয়টি আর নাসিরের একার সমস্যা নয়। এটি সামাজিক সমস্যা এবং আমরা সমাজবদ্ধ মানুষ নাকি মেরুদ-হীন সরীসৃপে পরিণত হচ্ছি, তার একটা পরীক্ষা দেয়ার সময় এখন। সমাজে প্রতিদিন অসংখ্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেউ রুখে দাঁড়াতে চাচ্ছে না। যারা ধর্ষণ করছে, শুরুতে ইভটিজিংএ হাত পাকাচ্ছে, বাজে মন্তব্য স্ট্যাটাস দিচ্ছে তারাও বুঝে গেছে কেউ রুখে দাঁড়াবার নেই।

ডেইলি স্টারের প্রখ্যাত সাংবাদিক ইনাম আহমেদ সঙ্গত কারণেই তার প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছেন, নাসিরকে ভিন্ন ধরনের ‘ক্যাচ’ ধরতে। হ্যা শুধু নাসির নয়, সমাজে নারীর প্রতি এধরনের ইতরামি লুফে নিয়ে এখন আমাদের প্রতিবাদ ও প্রয়োজনে আদালতে যেতে হবে বৈকি। কারণ আমরা জন্মগতভাবেই নারীর কাছে ঋণী।

নাসিরের বোনের সঙ্গে সেলফি দেখলেই খুশিতে মন ভরে যায়। মনে পড়ে কতদিন নিজের বোনকে আমরা পাশে ওভাবে পাইনি। কিন্তু মেরুদন্ডহীন সরীসৃপ জাতীয় মানুষের তা মনে হয় না। তাদের জিহ্বা লকলক করে ওঠে। তারা ছোবল মারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাজে মন্তব্য করে। একবারও ঘরে নিজের বা অন্যের বোনের কথা স্মরণ করে না। যাদের বোন নেই তাদের বুক হাহাকার করে ওঠার কথা। কিন্তু যাদের তা করে না বুঝতে হবে বোন কি জিনিস তা তারা জানে না। নারীকে পণ্য ভাবে ও বিকৃতভাবে ভোগের চেষ্টা করে মাত্র। এজন্যে তারা নারীর দিকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকাতে পারে না। হাত নিশপিশ করে বাজে মন্তব্য লিখতে। এইসব অনাচার মেনে নিয়ে, প্রতিবাদ না করে, সায় দিয়ে আমরা দিনের পর দিন ওদের আরো প্রচ্ছন্ন সাহস যুগিয়ে চলি। আমাদের সময়.কম

ঢাকা, সোমবার, জুন ২৯, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ৩৪৬৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন