সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

ঈদে স্টাইলিশ কামিজের সমাহার

মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০১৫

978569517_1435655535.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
দেখতে দেখতে ঈদ তো এসেই গেল! কেনাকাটাও নিশ্চয়ই শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। এ দেশের ফ্যাশনপ্রেমী তরুণীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়। একে তো বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব, তারপর আবার প্রতিনিয়তই পরিবর্তন আসছে ফ্যাশন দুনিয়ায়।

হাল ফ্যাশনের একটা পোশাক না হলে ঈদের দিন ঘর থেকে বের হওয়াটাই মুশকিল হয়ে যাবে! তীব্র প্রতিযোগিতার এ সময়ে সবাই চায় একে অন্যের থেকে এগিয়ে থাকতে, ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

আর ঈদে তরুণীদের পোশাকের চাহিদায় এক নম্বরে থাকে কামিজের নাম। কাট-ছাঁট আর ডিজাইনের নান্দনিকতায় প্রতি ঈদেই কামিজের নতুন নতুন রূপ দেখা যায়। এবারের ঈদে কামিজে উৎসবের আমেজ আনতে পরিবর্তন আনা হয়েছে কাটিংয়ে। লং কামিজের ট্রেন্ড ছাড়িয়ে এবার কামিজের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে মাঝারি আকার। অর্থাৎ উচ্চতা অনুসারে হাঁটুর কাছাকাছি লম্বা কামিজ বেশি চলছে।

কামিজে স্ট্রেইট কাট এবং রাউন্ড শেপ লক্ষণীয়। হাতা থ্রি-কোয়ার্টারই বেশি চলছে। তবে যেহেতু গরমকাল তাই স্লিভলেসও থাকছে। সেই সঙ্গে হাইনেক এবং রিনেক গলা বেশি চলছে। এবার নেট, মসলিন, জর্জেট এবং শিফন ব্যবহার করে কামিজের হাতায় বেশ কিছু বৈচিত্র্য আনা হয়েছে।

পোশাকের জৌলুস বাড়াতে ডিজাইনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের লেইস, চুমকি, পট্টি, এমব্রয়ডারি, কারচুপি প্রভৃতি। কামিজে তাঁতের সুতি, সিল্ক, এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে সিল্ক, ভয়েল, মসলিন, ডুপিয়ান, ডবি ফেব্রিক্স। লাল, মেরুন, সাদা রঙের ব্যবহার বেশি হলেও বেগুনি, কমলা, বাদামি, ছাই, মেজেণ্টা, কালোসহ বিভিন্ন রঙের শেড ব্যবহার করা হয়েছে এবারের ঈদ আয়োজনে।

প্রতিবারের মতো এবারও তাঁত বুনন ডিজাইনের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া হয়েছে। সিল্ক, মসলিন, তসর, জর্জেট, নেটের মতো গর্জিয়াস কাপড়গুলোতে কারচুপি, স্প্রে, লেস, প্যাঁচ-ওয়ার্ক, সিকুইনসহ নানা ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটা ডিজাইনেও প্যাটার্ন, চেক কাপড়, লেস, প্যাঁচ-ওয়ার্ককে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ঈদে মেয়েদের পোশাক সালোয়ার-কামিজে লা রিভ নিয়ে এসেছে ভিন্নতা। মেয়েদের জন্য সালোয়ার-কামিজে ফ্রক স্টাইল, এ-লাইন এবং রেগুলার শেপের প্রাধান্য রয়েছে। লাল, কমলা, ম্যাজেন্টা, বেগুনি, রয়াল ব্লুর মতো উজ্জ্বল রঙের পাশাপাশি ঈদের মৌসুমে বৃষ্টি এবং গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা আকাশি, গোলাপি, লেমন, হালকা হলুদ, সবুজ এবং সাদা রঙের ব্যবহার করা হয়েছে বেশিরভাগ পোশাকে।

কামিজ ও চুড়িদারে বিভিন্ন শেড করা হয়েছে ডেলিকেট এবং ভেজিটেবল ডাই-এর মাধ্যমে। সঙ্গে রয়েছে জারদৌসী হাতের কাজ, ট্রেডিশনাল রাজস্থানী এমব্রয়ডারি ইত্যাদি।

প্রধানত লিলেন, সুতি, মসলিন, জর্জেট, জামদানি কটনও ব্যবহার করা হয়েছে কামিজে। আধুনিক তরুণ-তরুণীদের জন্য ইস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্নের সংমিশ্রণে রয়েছে ফতুয়া, টপস, টিউনিক, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট এবং ক্যাজুয়াল শার্ট। মেয়েদের টিউনিকে বাটারফ্লাই স্টাইল, কাপ্তান স্টাইল এ-লাইন সেপ ব্যবহার হয়েছে।
কাটিংয়ের কারণে এক কামিজেই ফুটে উঠছে অনেক রূপ। তাদের একেকটার আবার একেক নাম। সময়ের ট্রেন্ড এমনই কিছু কামিজের সঙ্গে চলুন পরিচিত হই-

আনারকলি স্টাইল
কয়েক বছর ধরে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে এ ডিজাইনটি। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে তো বটেই, নিজের ইচ্ছা মতো তৈরি করিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও এটি ততটাই জনপ্রিয়। এর কাটেও ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কলি দিতে পছন্দ করেন তো কেউ এক ঝুলে। আবার কেউ কেউ আছেন যারা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন অনেক কলির অসংখ্য কুচি দেয়া আনারকলি। বিশেষ করে অল্প বয়সী মেয়েদের বেশি মানায় এ ডিজাইনটা। কেউ মাঝারি দৈর্ঘ্যর চান তো কেউ চান অনেক লম্বা মাপের। তবে এ বছর বেশি লম্বাটাই চলছে।

কুর্তি স্টাইল
এবারের ঈদ ফ্যাশনে কুর্তিও চলছে সমান তালে। পরতে আরাম এবং জাঁক-জমক কম বলে এটি ঈদের পরও অনায়াসে পরিধানযোগ্য। অনেকেই আছেন যারা ভারি পোশাকে স্বস্তিবোধ করেন না, কুর্তি তাদের জন্য আদর্শ। কামিজের দৈর্ঘ্য, পা অবধি লম্বা কিংবা ফ্রক স্টাইলে একটু ছোট আকারে।

গাউন স্টাইল
গাউনের মতো করে তৈরি করা কামিজ মাপের পোশাকগুলো এই ঈদে বেশ জনপ্রিয়। জামার বাকি সবকিছু কামিজের মতোই থাকে, শুধু কামিজের মতো দুই পাশ খোলা রাখার পরিবর্তে সেলাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়। কখনও কখনও উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একই মাপ রেখে কোমড়ে বেল্টের ব্যবস্থা করে পোশাকে আনা হয় বৈচিত্র্য ও বাড়তি সৌন্দর্য।

কাপ্তান
কাপ্তানও ফতুয়ার মতোই কিছুটা ছোট আকারের হয়ে থাকে কামিজের তুলনায়। কাফতান সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে জর্জেটের কাপড়ে। জর্জেটের কাপড়ের সঙ্গে সুতির অভ্যন্তরীণ মিশেল আপনাকে দিতে পারে ফ্যাশনের সঙ্গে আরামও।

ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৬০৪৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন