সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

'মোদি-কিরণমালায়' সয়লাব ঈদের বাজার

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০১৫

903378022_1435817702.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
রাজধানী ঢাকার বিপণিকেন্দ্রগুলোতে এবারের ঈদের বাজারে বেশি চলছে ‘কিরণমালা’ নামের একটি পোশাক। পোশাকের এ নামের কারণ জানতে চাইলে এক দোকানি বলেন, আসলে প্রতি বছরই ভারতীয় পোশাকগুলোর নতুন নাম দেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে ‘মাসাককালি’ নামের পোশাক দিয়ে শুরু হয়। এরপর আসে ‘জিপসি’, তারপর ‘সানি লিওন’; গতবার ছিল ‘পাখি’, এবার ‘কিরণমালা’। ভারতীয় সিরিয়াল ‘কিরণমালা’র নায়িকা এমন নকশার পোশাক পরেন বলে কিরণমালা নাম দেওয়া হতে পা‌রে বলে মনে করেন তিনি।

‘কিরণমালা’, ‘রাজকুমারী’, ‘ইচ্ছে নদী’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘জলকন্যা’—এসব ভারতীয় টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন সিরিয়ালের নায়াকাদের নামে বাহারী এসব পোষাক বিক্রি হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।

বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, আসল কিরণমালা পোশাকে লং ড্রেসের ওপরে থাকে কটি, নিচে ঘের, এরপর ফলস, পেছনে নকশা আর দুই পাশে দুটি ঝুমকা। এ পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তিন থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত।

দেশি কিরণমালার ব্যাপারে আবিরের ভাষ্য, সাধারণত মেয়ে ও শিশুরা এসে কিরণমালা পোশাক চায়। অনেক বিক্রেতাই এ রকম নকশার পোশাক আনতে পারেননি। তাই যেকোনা নকশার পোশাক বের করে তারা বলেন, এটা ‘কিরণমালা’। কোনো পোশাকে পুঁতি বা পাথরের কাজ করা থাকলেই নাম ‘কিরণমালা’। এই নাম না বললে ক্রেতারা নিতে চান না।

রাজধানী সুপার মার্কেটের মৌ কালেকশনে গিয়ে দেখা যায়, এক সারিতে বেশ কয়েকটি মেয়েদের পোশাক টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। বিচিত্র সব নাম। ‘কিরণমালা’, কোনটিতে ‘ইচ্ছে নদী, ’ ‘পামেলা’, ‘জলকন্যা’, ‘পাতালপুরি’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘রাজকুমারী’ বা ‘বউ কথা কও’—এসব নাম নিয়ে ঝুলছে রকমারি পোশাক। দোকোনের বিক্রেতা সুজন বলেন, ‘মেয়েরা এসে এসব নামে পোশাক চায়। এ জন্য ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনটা কী—বলতে না হয়। এসব নাম আমরাই দিয়েছি। ভারতীয় এসব পোশাক কেনার পর আমরাই বিক্রির ধরন দেখে নাম দিই। আবার পরিবতর্নও করি।’

নারায়ণগঞ্জের সমবায় মার্কেটের এক বিক্রেতার সহকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘কিরণমালা সিরিয়ালের যত পর্ব আমি দেখছি, এতে কিরণমালাকে আমি তো কখনো এমন লং থ্রি পিস পরতে দেখি নাই। ও তো সব সময় ফতুয়া আর ধুতি পায়জামা পইড়া থাকে। তারপরও পোশাকের নাম কিরণমালা যে কেমনে হয়! মেয়েরা আইসাই বলে, কিরণমালা পোশাক দেখান। দেশি কোনো পোশাক দেখাইলে চাইলে উইঠা চইলা যায়। এ জন্য এহন আমাগো দেশি পোশাকও বিভিন্ন ভারতীয় সিরিয়ালের নাম দিয়ে বিক্রি করতে হয়।’

গতবারের ‘পাখি’ পোশাকের কেমন চলছে—জানতে চাইলে ওই দোকানের আরেক বিক্রেতা ইমন বলেন, ‘পাখি ব্যাকডেটেড। এবার পাখি চলছে না। তাই নতুন পোশাক “পাখি রিটার্নস”।’
নিউমার্কেটে ছেলেদের পোশাক দেখতে গিয়ে এক জায়গায় চোখ আটকে গেল। ছোট ও কিশোর বয়সী ছেলেদের পোশাকের গায়ে সেটে দেওয়া হয়েছে ‘মোদি-১ ’, ‘মোদি-২ ’, ‘মোদি-৩ ’, ‘দাবাং-৩ ’, ‘পাগলু-২ ’। এমন নামকরণ সম্পর্কে ওই দোকানের মালিক বলেন, ‘পাইকারি কেনার সময় মোদি, পাগলু নামগ‌ুলো ক্যাশ মেমোতে লেখা হয়েছে। আর বাকি নামগুলো আমরাই দিয়েছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা ছবির নাম না দিয়ে বাংলাদেশের ছবি বা নায়ক-নায়িকার নাম দেওয়া হলো না কেন, এমন প্রশ্নে আসলাম বলেন, ‘মাথা খারাপ! দেশি নাম দেখলে কেউ ছুঁয়েও দেখে না। ভারতীয় এসব নাম দেওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করা যায়। ৫০০ টাকার পোশাক এক হাজার টাকায় মানুষ কেনে।’

নিউমার্কেটে দুই তরুণী ‘কিরণমালা’ পোশাক কিনতে এসেছেন। তারা তিনটি দোকান ঘুরে ওই পোশাকটি দেখেন। কেন ‘কিরণমালা’ কিনবেন—জানতে চাইলে একজন বলেন বান্ধবিরা কিনেছে তাই।

‘কিরণমালা’ পোশাকটি আসলে কেমন? এ প্রশ্নের উত্তরে আরেকজন বলেন, ‘সেটি ঠিক বলতে পারব না, দোকানিরা তো বললেই দেখায়।’ সেগুলো আবার ভিন্ন ভিন্ন নকশার বলেও জানান তিনি।
রাজধানী সুপার মার্কেটে ছোট মেয়েদের একটি পোশাকের গায়ে ‘পায়রা’ আরেকটিতে ‘ইচ্ছে নদী’ নামের দুটি ট্যাগ লাগানো। বিক্রেতার সরল উক্তি, ‘পায়রা যখন পাখা মেলে, তখন গোল হয়ে যায়, এ পোশাকটির পরলে ছোট মেয়েকে গোল দেখাবে, যা পায়রার মত।’


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ২৮৫৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন