সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জাকাত দেয়া কতোটা জায়েজ?

রবিবার, জুলাই ১২, ২০১৫

1465171959_1436697737.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যা নিতে এসে মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়, তা কেমন জাকাত দেয়া? মরতে হয় পদদলিত হয়ে। অথচ বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) অভাবীদের ঘরে ঘরে জাকাত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরাও কি পারি না সেভাবে জাকাত ব্যবস্থা কায়েম করে মানুষকে স্বাবলম্বী করতে?

আরবি জাক্কা শব্দ থেকে জাকাত, যার অর্থ পবিত্র করা। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে মানব তার দেহ ও আত্মাকে পবিত্র করে আত্মার কালিমা ও বস্তুমোহের প্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হয়। জাকাত একটি ব্যাপক অর্থবোধক ব্যবস্থা। এটি শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ যতগুলো বিষয়বস্তুর সঙ্গে আত্মিক ও দৈহিকভাবে সম্পর্কিত তার প্রতিটি বিষয়বস্তুর জাকাত দেয়ার নির্দেশ পবিত্র কোরআনের দর্শনে রয়েছে।

যেমন হাদিস শরিফে সিয়াম সাধনাকে দেহের জাকাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৩০টি আয়াতে জাকাতের কথা উল্লেখ আছে। যার জাকাত আদায় হয়নি তার সালাতও আদায় হয়নি। জাকাত ও সালাত একটি অপরটির সম্পূরক। এটা একটি সর্বজনীন ব্যবস্থা। যেহেতু এ ব্যবস্থা শুধু অর্থনৈতিক দান-খয়রাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাই এ ব্যবস্থা ধনী-গরিব সর্বস্তরের লোকদের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এজন্য পবিত্র কোরআনে জাকাতের কোনো নিসাব উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থনৈতিক জাকাত সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার একটি অংশমাত্র। অর্থনৈতিক জাকাত প্রদানের ব্যাপারে নবী করিম (সা.)-এর আমলে মুসলমানরা তাদের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সমুদয় সম্পদ প্রিয় নবীজীর (সা.) খেদমতে পেশ করতেন। অতঃপর নবীজী (সা.) তা অভাবীদের মধ্যে প্রয়োজন মোতাবেক বণ্টন করতেন, যা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ মোতাবেক অর্থনৈতিক জাকাত প্রদানের ব্যবস্থা ছিল (দেখুন সূরা বাকারা : ২১৯নং আয়াত)। এভাবে দান করাটা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ মোতাবেক অর্থনৈতিক জাকাত প্রদান বলে মনে হয়।

প্রযুক্তির এই যুগে মুসলমান কোরআন ব্যবস্থার জাকাতকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। তারা ভুলতে বসেছে নবী (সা.)-এর জাকাত ব্যবস্থাকে। কেননা নবী (সা.)-এর জাকাত ব্যবস্থা বহাল রাখলে, অভাবীর ঘরে ঘরে গিয়ে জাকাত পৌঁছে দিলে জাকাতদাতার স্বার্থ হাসিল হয় না। সমাজে জাকাতদাতার নামধাম ছড়িয়ে পড়ে না।

অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কেউ কেউ মনে করেন, সমাজের মানুষ যদি জাকাতদাতার নামই জানতে না পারল তাহলে জাকাত দিয়ে তার লাভ কী? তাই জাকাতদাতা মাইকিং করেন। ফলাও করে জাকাত দেয়ার প্রচার করেন। ফলে জাকাত নিতে গিয়ে প্রাপ্যতার চেয়ে তিনগুণ লোক এসে জড়ো হয়। একটি শাড়ি বা লুঙ্গির জন্য যাদের মরতে হয় পদদলিত হয়ে। যেমনটি ঘটেছে শুক্রবার ময়মনসিংহে।

এদিকে দেশ যখন নিুমধ্য আয়ের পথে পা বাড়িয়েছে তখন নিু আয়ের এতগুলো মানুষের পদদলিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, সত্যিই এ দেশ কতটুকু নিম্নমধ্য আয়ে পৌঁছাতে পেরেছে। এ অবস্থায় মুসলিম চিন্তাবিদরা মনে করেন, মুসলমানের জন্য কোরআনে বর্ণিত জাকাত ব্যবস্থা এবং নবী (সা.) বর্ণিত ব্যবস্থাকে সমাজে কার্যকর করা গেলে সত্যিই একদিন মুসলিম বিশ্ব দারিদ্র্যমুক্ত হবে।

ঢাকা, রবিবার, জুলাই ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৭০৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন