সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে যে ১৩ দেশ

শনিবার, আগস্ট ৮, ২০১৫

1147983746_1439008243.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্যই ৭ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকে বলা হয় ম্যাজিক ফিগার। মাত্র ১৩টি দেশ চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ জাদুকরি অঙ্ক অর্জন করতে পারবে। তাদের আগামী ২০১৭ সাল পর্যন্ত গড়ে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে জায়গা হয়নি বাংলাদেশের। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কোঠায় ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশ এবারেও একই রকম থাকবে বলে মনে করা হয়। অবশ্য এ বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ।

এই তালিকার সবগুলো দেশই এশিয়া, প্যাসিফিক ও আফ্রিকা মহাদেশের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (বিইএফ) তালিকাটি তৈরি করেছে।

অনেক বছর ধরেই উচ্চ প্রবৃদ্ধির সমার্থক হয়ে ওঠা চীনসহ তালিকায় থাকা এশীয় দেশগুলো হচ্ছে ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইথিওপিয়া, কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, মোজাম্বিক, তানজানিয়া ও রুয়ান্ডা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আছে একমাত্র পাপুয়ানিউগিনি।

তালিকা তৈরিতে চলতি বছরের পাশাপাশি বিগত ২০১৪ সাল ও আগামী ২০১৭ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে তালিকার এক নম্বরে রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। চলতি বছর সবচেয়ে বেশি সাড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে এ দেশটির। আগামী বছর তা আরও বেড়ে হবে সাড়ে ১০ শতাংশ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে কৃষিপ্রধান এই দেশটির গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দেশটির মাথাপিছু আয় এখনো অনেক কম, প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মার্কিন ডলার।

শীর্ষ দেশটির পর বলা যাক তালিকায় থাকা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কথা। তালিকার চার নম্বরে আছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার, যেটির প্রবৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা। চলতি বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৮ শতাংশ। আর ২০১৭ সাল পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। দেশটির সামরিক সরকার ২০১১ সালে বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে ভারতের অর্থনীতি। চলতি বছর ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ২০১৭ সাল পর্যন্ত গড়ে ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে দেশটি। সেবা খাতের বিকাশই দেশটির অর্থনীতিতে দুই-তৃতীয়াংশ জোগান দিচ্ছে। যদিও দুর্নীতি, নারীদের প্রতি বৈষম্য দেশটির এ প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভারতের পরেই তালিকার নবম স্থানে আছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ ভুটান। চলতি বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ২০১৭ সাল পর্যন্ত গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে দেশটি। তালিকার শীর্ষ পাঁচে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দুটি দেশ তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান। গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইথিওপিয়ার পরে দুই নম্বরে আছে তুর্কমেনিস্তান। আর গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে আছে উজবেকিস্তান। প্রাকৃতিক গ্যাস ও তুলা রপ্তানির ওপর মূলত নির্ভরশীল এ দেশ দুটো।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ দশে আরও আছে কঙ্গো (তৃতীয়, এবারে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ), আইভরি কোস্ট (ষষ্ঠ, প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ) ও মোজাম্বিক (দশম, প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২০ শতাংশ)। তানজানিয়া ও রুয়ান্ডা যথাক্রমে ৭ দশমিক ২০ ও ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আছে ১১ ও ১২ নম্বরে। এসব দেশের প্রতিটিতে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য। এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা ও কয়লার বিশাল খনি, চকলেট তৈরির কাঁচামাল কোকো বিন, পাম অয়েল, চা, কফিসহ নানা সম্পদ। এসব সম্পদ দখলে নিতে বড় বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখন আফ্রিকায় প্রচুর বিনিয়োগ করছে। সুশাসন, দুর্নীতির সমস্যা থাকলেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছে আফ্রিকার দেশগুলো।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ পাপুয়া নিউ গিনি চলতি বছর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও আগামী বছরগুলোতে তা ধরে রাখতে পারবে না। এ জন্য গড়ে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে আছে দেশটি। প্রবৃদ্ধি বেশি বলেই এ তালিকার প্রতিটি দেশ উন্নত হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। এসব দেশের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই নিম্ন মাথাপিছু আয়, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ সামাজিক সুশাসনের অভাব রয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো

ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ৮, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১০৪৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন