সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

রুবেলের বিয়ে এবং অনলাইন সাংবাদিকতা

সোমবার, আগস্ট ১০, ২০১৫

1988594646_1439204569.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
নিতান্তই বিয়ে দেখার লোভে নির্বাসন থেকে বের হয়েছিলাম।

নিজের শহরে বহুকাল কারো বিয়েতে যাই না; শহরের এমন অনুষ্ঠানের হালচাল ভুলেই গিয়েছিলাম। তাই স্ত্রীর বান্ধবীর বিয়েতে নির্লজ্জের মতো হাজির হয়ে গেলাম নির্বাসন ভঙ্গ করে।

মেয়ের পক্ষের লোক; চিনি না কোনো পক্ষের লোকই। এর মধ্যে বর এলো। বিরাট হৈ চৈ। কিন্তু একটু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বরের চেয়ে তার এক বন্ধুকে নিয়েই লোকেদের উৎসাহ বেশী।

ব্যাপারটা লোকেরা কী আরও পাত্র খুজে বের করার চেষ্টা করছে নাকি?

ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি এ পাত্র তো আমাদের রুবেল। হ্যা, রুবেল হোসেন। আমি কনের পক্ষে, রুবেল বরের পক্ষে। বেশ হলো রুবেলের সঙ্গে একটা দূর সম্পর্কের আত্মীয়তাও হয়ে গেলো।

বেচারা রুবেলের জন্য বিয়েতে আসাটা অবশ্য একটা বিড়ম্বনা হয়ে দাড়ালো।

ছোটবেলার বন্ধুর বিয়েতে এসেছে। একটু ঘুরবে, খাবে, গল্প করবে; উপায় নেই। অটোগ্রাফ আর ফটোগ্রাফ চাই। খাওয়ার মধ্যেও উঠে দাড়িয়ে এলাকার মুরব্বীদের ছবি তোলার আবদার মেটানো চাই।

খাওয়া শেষ করে বাইরে এসে একটু আড্ডার চেষ্টা চলছিলো।

রুবেলের বন্ধুবান্ধবের কথায় বুঝলাম, আমি বুড়ো হয়ে গেছি। কারণ, আমাদের বন্ধুরা প্রায় সবাই রুবেলদের বড় ভাইয়ের বড় ভাই! নিয়ম মতো আমি রুবেলের রীতিমতো মুরব্বি!

এক পলকের জন্য নিজেকে বেশ বড় বড় মনে হচ্ছিলো।

এর মধ্যে সম্ভাব্য বিপিএল, বিসিএল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এলো। এই শেষ কয়েকটা সিরিজ এলো। বিশ্বকাপ এলো। আরও অনেক কথা এলো, যা আপনারা প্রায়ই বলে থাকেন।

সব শেষ করে বেরিয়ে এলাম। আসতে বাধ্য হলাম। কারণ, রুবেলকে আরও ছবির আবদার মেটাতে হচ্ছে। ফাঁকে হাসতে হাসতে বললো, ‘দাদা, এটা বিয়ে বাড়ি বলে এমন হচ্ছে। নইলে বাড়িতে এলে কিন্তু নিরিবিলিই থাকি।’

বের হয়ে আসছি। দড়াটানা নামে পরিচিত ভৈরব নদীর ওপরের ব্রিজে উঠছি, তখনই ঢাকা থেকে এক সাংবাদিক বন্ধুর ফোন, ‘রুবেল কী বিয়ে করলো নাকি?’

নিজের ওপর অবিশ্বাস হলো। রুবেল যদি বিয়ে করে, তাহলে এতোক্ষন কার সঙ্গে আড্ডা দিলাম। তো ঢাকায় এমন খবর কেন ছড়ালো? কারণ কে যেন এখানে বিয়ে বাড়িতে রুবেলকে দেখেছেন!

রুবেল বিয়ে বাড়িতে মানেই রুবেলের বিয়ে!

এই কথাটা বলতেই এতো বড় গল্প করলাম। রুবেল আজ হোক, কাল হোক বিয়ে করবে। বাড়ি থেকে পাত্রী নির্বাচন করে বা তার পছন্দ মতো বিয়ে হবে। কিন্তু রুবেল এবং বিয়ে মিলিয়ে এই যে প্রায়শ গুজব ছড়ানো এটা কী আমাদের জন্য খুব শোভন হচ্ছে?

রুবেলের জীবনের কথা বাদ দিন। সে সৌজন্য আমরা অনেক আগেই শেষ করে দিয়েছে। রুবেলের ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে রসিকতা, একজন চিত্রনায়িকার উঠতে বসতে রুবেল বিষয় আলোচনায় আসার চেষ্টা; এসব তো অনেক আগেই তামাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।

এসব নিয়ে তাই আর কথা বলি না।

কিন্তু নিজেদের নিয়ে তো অন্তত বলতে হয়।

পরদিন বৌভাতে রুবেলের সামনে তার এক বন্ধু, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছোট ভাই বললো, ‘দাদা, আপনারা এমন কেন? এভাবে অনলাইনে লিখে দিলেন যে, রুবেলের বিয়ে।’

আমি বোঝাতে পারি না যে, আমি লিখিনি।

এটা তো সত্যি, আমার মতোই কেউ একজন লিখেছেন। কেউ একজন কান চিলে নিয়েছে শুনেই নিউজ করে দিয়েছেন। এভাবে আর কতো? আর কতো এই গজিয়ে ওঠা অনলাইনের যন্ত্রনা!

এরপর একসময় রাষ্ট্র তিক্ত বিরক্ত হয়ে আইন করবে, এসব ছাতা বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু সেইসব আইনের খারাপ অংশের প্রভাব পড়বে যারা টিকে থাকতে চাই সেই অনলাইনগুলোর ওপর।

এইসব ব্যাঙের ছাতাগুলোর বিপক্ষে এখন প্রতিষ্ঠিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোরই তাই সোচ্চার হওয়াটা সবচেয়ে জরুরী।

আমি পেশায় এখনও অফলাইনের (পত্রিকার) সাংবাদিক। তারপরও লোকে ‘অনলাইন সাংবাদিক’ শব্দযুগল যখন গালি হিসেবে ব্যবহার করে, সেটা আমারও গায়ে লাগে।

লেখক: দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

সূত্র : প্রিয়.কম।

ঢাকা, সোমবার, আগস্ট ১০, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ২০০৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন