সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গত চল্লিশ বছরে তেলের দাম সর্বনিম্নে

শনিবার, আগস্ট ২২, ২০১৫

15837979_1440238177.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
গত চল্লিশ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্নে ব্যারেল প্রতি ৪০ ডলারে নেমেছে। ইউএস অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গত ২০০৯ সালের পর এত নিম্নে নেমে আসল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল উত্তোলনে অধিক বিনিয়োগ ও চীনে উৎপাদন খাতে জ্বলানি তেলের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে তেলের দাম কমছে। ১৯৮৬ সালের পর থেকে ইউএস অপরিশোধিত তেলের দর ৩৩ ভাগ কমে সর্বনিম্ন দরে অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দর কমে যাওয়ায় সবচেয়ে লাভবান হচ্ছে চীন ও ভারত। তেল আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় তারা তেলের কম দরের সময় শিল্পখাতে বিশেষ অর্থনৈতিক কৌশল নিয়েছে। ঋণের সুব্যবস্থাপনা সহ বাজার ব্যবস্থাপনার অন্যান্য ইতিবাচক দিকগুলো এদুটি দেশকে বিশেষ সুবিধা এনে দিয়েছে। যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত থাকায় ও তেলের দর কমে গেলেও কোনো অর্থনৈতিক কৌশল না থাকায় অর্থনীতিতে কোনো বিশেষ সুফল নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না।

অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর হ্রাস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রফতানি আয়ে ধস নামাতে পারে। এ্যাশমোর গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক জন স্ফাকিয়ানাকিস আরব নিউজকে জানান, তেলের দাম কমে যাওয়া, তেল নির্ভর অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে অন্যের চেয়ে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাহরাইন ও ওমান তেলের দর কমে যাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। তবে সৌদি আরবের অধিক তেল মজুদ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর হ্রাস পেলেও তা দেশটিকে অতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বরং তেল খাতে ঋণের পরিমাণ কম থাকায় সৌদি আরব এখনো এখাত লাভজনক হিসেবে ধরে রাখতে পারছে।

এদিকে দ্বিতীয় বছরের মত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। কারণ ওপেকের কোনো কোনো পারস্য উপসাগরীয় সদস্য দেশ এখনো নিশ্চিত নয় যে তেলের দর কমে যাওয়ায় তারা তাদের তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখবে নাকি হ্রাস করবে।

তবে জন স্ফাকিয়ানাকিস বলছেন, তেলের দর কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস পায়নি। আর কেউ কেউ এমন আশঙ্কা করছেন তেলের দাম কমে যাচ্ছে বলে তা ব্যারেল প্রতি কুড়ি ডলারে হ্রাস পাবে, এমন আশঙ্কা অমূলক। আগামী বছরের মধ্যে তেল নির্ভর অর্থনীতি চাঙ্গা হবার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলার অনায়াসেই বৃদ্ধি পাবে।

সাম্বা ফিনান্সিয়াল গ্রুপের এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার জেমস রিভি বলছেন, এবছরের বাকি সময় তেলের দল মোটামুটি ৪০ ডলারেই স্থির থাকতে পারে। উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অনেক দেশেই তেলের বিশাল মজুদ থাকায় চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। চীনের উৎপাদন খাত কিছুটা ধীর হওয়ায় তেলের চাহিদা দেশটিতে আগের মত আর বাড়ছে না। আগামী বছর যদি তেল উৎপাদক দেশগুলো তাদের জ্বালানি উৎপাদন কিছুটা শ্লথ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের চাহিদায় ফের গতি আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তখন ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বর্তমানে যে হ্রাস পাচ্ছে তা আগামী বছর এখাতের জন্যে আর্শীবাদ হয়ে দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্যের দাম কমে গেলে ভোক্তাদের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েঝে যা ঘুরেফিরে তেলের বাজারকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

জন স্ফাকিয়ানাকিস বলেন, তেলের দর আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে উপকৃত হচ্ছে চীন ও ভারতের মত দেশগুলো। কারণ এদুটি দেশ তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এতে লাভবান হচ্ছে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায়। যা আগামী বছর নাগাদ দেশগুলোর শিল্পখাতকে আরো চাঙ্গা করে তুলবে। কারণ যে সব দেশ তেলের দর হ্রাসকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কৌশল জরুরিভাবে গ্রহণ করবে তাতে সেসব দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চাঙ্গা হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ঋণ ব্যবস্থাপনা ভাল না হলে তেলের দর হ্রাস পেলেও কোনো দেশের অর্থনীতি কোনো বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে না।

আন্তর্জাতিক এই জ্বালানি বিশ্লেষক মনে করেন, তেলের দর কমলেও পারস্য উপসাগর এলাকার দেশগুলো গত এক দশক থেকে ভাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক রাখতে সমর্থ হয়েছে। তেলের দর কমায় যে রাজস্ব বা রফতানি আয় কমেছে তা অর্থনৈতিক সুব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষতি আনতে পারেনি।

তবে জেমস রিভি মনে করছেন, পারস্য উপসাগরের কোনো কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অনেক বড় মজুদ রয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এত বিশাল মজুদের উপর ভর করেই তেলের দর হ্রাসকে কোনো তোয়াক্কা করছে না। তবে ওমান ও বাহরাইন তেলের দর কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে বেশ কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে তেলের দর ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার হ্রাস পেয়ে ৩০ ডলারে নেমে গেলে তা ৫ মাস স্থায়ী ছিল। এসময় ওপেক সদস্য দেশগুলো তেলের বাজারে তাদের লভ্যাংশ ধরে রাখতে বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেয়। এর একটি ছিল ওপেক সদস্য নয় এমন তেল উপাদক দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১৪৫৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন