সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

ভারতে বাঙালির প্রথম ব্যাংক উদ্বোধন করলেন অরুন জেটলি

সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০১৫

117204555_1440396080.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ভারতে প্রথম বাঙালির ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘বন্ধন ব্যাংক’। বাংলাদেশের ছেলে চন্দ্রশেখর ঘোষ এ ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা। রবিবার কোলকাতার সায়েন্স সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাংকটির উদ্বোধন করেন দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন গভর্নর আতিউর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বন্ধনকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে একাধিক পদক্ষপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ভারতজুড়ে ব্যাংকের প্রায় ৬০০টি শাখা খোলা হবে। এর মধ্যে রাজ্যে

১৪৭টি এবং কলকাতাতেই খোলা হবে ৩৮টি শাখা। প্রথম পর্যায়ে ২৫০টি এটিএম খোলার পরিকল্পনাও নিয়েছে বন্ধন ব্যাংক।

এসময় আরও জানানো হয়, প্রথম বছরেই ব্যাংকটিতে এক কোটি গ্রাহক করার পরিকল্পনা নিয়ে ৬০০ শাখা খোলার ইচ্ছা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। তিন বছর অর্থাৎ ২০১৮ মধ্যেই শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেছে বন্ধন ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বন্ধন অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি এবং গ্রীন ব্যাংকিং এ মনোনিবেশ করারও আহ্বান জানান। এসময় তিনি কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি এবং মানিটারি পলিসি বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়ক হয়েছে তার ওপরও আলোকপাত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনসাধারণকে প্রচলিত ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যাংকসমূহের উচিত সব ধরনের জনগণ বিশেষত প্রান্তিক, দরিদ্র এবং ব্যাংকিংসুবিধা বঞ্চিত গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায়ও তাদের সেবা পৌঁছে দেয়া। এর মাধ্যমে আমরা ব্যাংকিং আওতামুক্ত জনগণকে প্রচলিত আর্থিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারি যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

আতিউর বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সাম্প্রতিক উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল প্রযুক্তি চালিত অনলাইন/মোবাইল/স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক পরিশোধ প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রভূত সহায়তায় এসব প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা, ব্যাপক আইটি অবকাঠামো উন্নয়নের (যেমন-অনলাইন ক্লিয়ারিং এবং নিষ্পত্তি, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ, আসন্ন রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ইত্যাদি) মাধ্যমে আর্থিক খাত এসব উদ্ভাবনের সাথে অতিদ্রুতই খাপ খাইয়ে নিয়েছে যা ই-কমার্সের দ্রুত উন্নয়ন এবং মোবাইলফোন ভিত্তিক শাখাবিহীন আর্থিক সুবিধা প্রদানকে দ্রুততর করেছে।

গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রয়াসগুলো যেমন কৃষিঋণ, মোবাইল ভিত্তিক আর্থিক সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, চার্জ বিহীন হিসাবসমূহ, এসএমই ফিন্যান্সিং, গ্রিন ব্যাংকিং ইত্যাদিকে তুলে ধরেন যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশে সমতা ভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ছেলে চন্দ্রশেখর ঘোষ এখানকার ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা ব্র্যাকে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ভারতে এসে প্রথম চালু করেছিলেন ‘বন্ধন’ নামের ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা। সেই সংস্থার সাফল্যেই তাকে ব্যাংক চালু করার সুযোগ দিয়েছে। গত জুন মাসে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক দেশের ২৩তম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে কাজ শুরু করার চূড়ান্ত লাইসেন্স দিয়েছে বন্ধন-কে।


ঢাকা, সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // ম পা এই লেখাটি ১৩৭৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন