সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উন্নত অর্থনীতিগুলো মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমাচ্ছে

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫

1746189472_1441780497.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আগামী সাত-আট বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোজোন ও জাপানে মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশে আটকে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ তিন অর্থনীতির মূল্যস্ফীতি নিয়ে করা পূর্বাভাস জুলাইয়ের পর থেকে কয়েক দফা কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা থেকে ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছে।

ভোগ্যপণ্যের নিম্ন দাম ও শেয়ারবাজারের দুরবস্থায় উন্নয়শীল দেশগুলোয় অর্থনৈতিক শ্লথগতি চলছে। আশঙ্কা রয়েছে এ শ্লথগতি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাপানে মূল্যস্ফীতির নিম্নগতি বজায় থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার ২০১৫ সাল এবং এর পরবর্তী আরো দুই বছরের জন্য ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমিয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। প্রয়োজনে প্রণোদনা বৃদ্ধি করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি। ইসিবির নতুন পূর্বাভস অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে, ২০১৬ সালে ১ দশমিক ১ শতাংশে ও ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৭ শতাংশে। জুনের পূর্বাভাসে এ হার ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, অঞ্চলটির মূল্যস্ফীতির প্রবৃদ্ধি আবার শূন্যের নিচে নেমে যাবে।

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়বে— এমন আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশায় নিম্নগতি বজায় রেখেছে। আগস্টের শেষ দিকে শেয়ারবাজারের বড় পতনের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমিয়েছে বাজার বিশ্লেষকরা। এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুনিকি মাকিনো বলেন, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর কতটুকু নামতে পারে, তা এখনো অনিশ্চিত। মাকিনো বলেন, শুধু উদীয়মান নয় বরং উন্নত দেশগুলোয়ও চাহিদা কমতে পারে, এমন শঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।

তেলসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের নিম্ন দাম মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমাতে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রুড তেলের দাম প্রায় ছয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ফলে পেট্রলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামও কমেছে। যদিও সস্তা পেট্রল পারিবারিক বাজেটের জন্য আর্শীবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের কাছাকাছি আনতে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় আকারের আর্থিক শিথিলতা এনেছে। তবে এতেও যদি প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতি অর্জিত না হয়, তবে আরো প্রণোদনা কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সুদের হার বাড়ানো হবে কিনা, তা ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সুদের হার বৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক শ্রমবাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে শক্তিশালী অবস্থা বজায় রয়েছে। আগস্টে দেশটির বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশে। তবে নিম্ন মূল্যস্ফীতি ও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারের পতন ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ওপর নিঃসন্দেহে প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে জাপানের মূল্যস্ফীতি শূন্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছে তেলের অস্বাভাবিক কম দাম। দেশটিতে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে— এমন প্রত্যাশা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর হারুহিকো কুরোদাও বিশ্বাস করেন, শিগগিরই পণ্যের দাম বাড়বে। তবে তিনি আরো জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি না বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।


ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন