সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

'বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে অভিবাসন'

শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৫

1867514889_1444459944.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম অভিবাসনকে বিশ্ব অর্থনীতির স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বলে আখ্যা দিয়ে ইউরোপের অভিবাসন সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্টে সংস্থার প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। খবর সিনহুয়া, সিএনবিসি।

‘ডেভেলপমেন্ট ইন এন এরা অব ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে ইউরোপের মতো গণ-অভিবাসনের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে অভিবাসন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট কিম বলেছেন, সঠিক নীতি প্রণয়ন করার মাধ্যমে জনমিতি পরিবর্তনের এ যুগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্যের কারণে অভিবাসীরা উন্নত দেশগুলোর দিকে ছুটতে বাধ্য হবে। কিন্তু এ প্রবাহের জনমিতিক ভারসাম্যহীনতা পূরণের ক্ষমতা রয়েছে, যা সমৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য দূর করতে সক্ষম হবে।

একদিকে উন্নত দেশগুলোয় জনসংখ্যা সংকোচন ও বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলো কর্মক্ষম নাগরিকদের জন্য যথার্থ কাজের ব্যবস্থা করতে পারছে না। এ দেশগুলো আবার আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের ফলে পিছিয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরকারি তথ্যমতে, ৭৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক অভিবাসীর বয়স ২০-৬৪ বছর। আন্তঃসীমান্ত অভিবাসন অবাধ হলে তা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষম মানুষের হার আগেই সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশে উঠেছিল এবং এখন তা পড়তির দিকে। এর পর ২০৫০ সাল নাগাদ বয়স্কদের সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ শতাংশ হবে।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা বাড়ছে যেসব দেশে, তারা যদি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য দেশের অর্থনীতিতে অংশ নেয়ার পথ খুলে দেয়, তাহলে সবাই লাভবান হবে। বেশির ভাগ সাক্ষ্যপ্রমাণ এটাই নির্দেশ করে যে, অভিবাসীরা কঠোর পরিশ্রমী হয় এবং তারা যতটুকু সামাজিক সেবা গ্রহণ করে তার চেয়ে বেশি কর দিয়ে থাকে। চলতি বছর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ২০১৪ সালের ৩ দশমিক ৪ থেকে কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সংস্থা দুটি ২০১৬ সালে অর্থনীতির পূর্বাভাস বৃদ্ধি করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে।

বিশ্বের ৯০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের অবস্থান নিম্ন আয়ের দেশগুলোয়। প্রতিবেদনে এসব দেশকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জন্মহার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সামজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থা জোরদার করার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোকে তাদের সীমান্ত খুলে দিতে রাজি করাতে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরো অনেক কিছু করতে হবে।

ঢাকা, শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৬৫৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন