সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শরৎ রাঙানো পূজার সাজ

শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৫

455757320_1444469551.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
পূজার তিন দিন আগে পার্লারে গিয়ে আপনার ত্বক ও বয়স অনুযায়ী ফেসিয়াল, হেয়ার স্পা, ম্যাসাজ ও থ্রেডিং করিয়ে নিতে পারেন।

ষষ্ঠী পূজা থেকেই সাজগোজ শুরু হয়। বিসর্জন পর্যন্ত উৎসব চলে, চলে দেবী অর্চনা, শঙ্খনিনাদ, ঢাকের বাজনা আর উলুধ্বনি।

যেহেতু দশমীর দিন সাজটা গর্জিয়াস থাকে, তাই উৎসবের শুরুর দিকে অর্থাৎ পঞ্চমী, ষষ্ঠী বা অষ্টমীতে এমনকি নবমীর সকাল-সন্ধ্যার সাজও কিছুটা হালকা হতে পারে। জানতে হবে কোন দিন কেমন সাজবেন আর কি পরবেন।

শরৎ রাঙানো পূজার সাজ

ষষ্ঠী ও সপ্তমী

পোশাক
দিনে মন্দিরে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় প্রকৃতির সজীব ভাবটা সাজের মধ্যে রাখতে ষষ্ঠীতে হালকা নীল, আকাশি, পিঙ্ক বা গ্রে আর সপ্তমীতে লাল, মেরুন, গোল্ডেন, সি গ্রিন বা নেভি ব্লু রঙের পোশাক নির্বাচন করুন। ষষ্ঠীতে সুতির হালকা ছাপার সালোয়ার-কামিজ কিংবা ছাপার সুতি শাড়ি বা একরঙা পাড় বা পাড় ছাড়া ভেজিটেবল ডাইয়ের শাড়ি পরতে পারেন। সপ্তমীতে বেছে নিন কাতান, সিল্ক, তসর, অ্যান্ডি বা কোটার শাড়ি।

সাজ
মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনিংশেষে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। বেইজ করার জন্য ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বা খুব হালকা করে ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। ফাউন্ডেশন হালকা করার জন্য এতে খানিকটা পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। খুব অল্প পরিমাণে লাগিয়ে এর ওপর পাউডার বুলিয়ে নিন। আইশ্যাডো দিন ব্ল্যাক-ব্রাউনের কম্বিনেশনে। পেনসিল আইলাইনারের সফট লাইন ও মাশকারা লাগান। ঠোঁটে লাইট পিঙ্ক, কোরাল বা মভ কালারের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। এ ছাড়া লিপস্টিকের বদলে একই রঙের লিপগ্লসও লাগাতে পারেন। সঙ্গে দিন ব্রাউন ব্লাশন।

সারা দিনের জন্য বাইরে বের হলে চুলটা এমনভাবে বাঁধুন, যাতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়। আবার দেখতেও ভালো লাগে। খোঁপা করলে ফুল পরতে পারেন। কপালে লাল টিপ ও সিঁথিতে সিঁদুর পরুন বিবাহিতরা।

শরৎ রাঙানো পূজার সাজ
রাতের সাজটা চাই জমকালো। ফাউন্ডেশন এমনভাবে লাগাবেন, যেন বাড়তি কোনো ছাপ না থাকে। ফাউন্ডেশনের ওপর ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। চোখের ওপর অ্যাকোয়া ব্লু ও গ্রে আইশ্যাডো কম্বিনেশন করে লাগিয়ে নিন। এর ওপর হাইলাইট করুন শাইনিং মভ বা সিলভার কালার দিয়ে। চোখের আউটার কোণে সিলভার হাইলাইটার স্মাজ দিন। চোখের পাতায় দু-তিন পরত মাশকারা লাগাবেন, এতে পাপড়ি বড় ও ঘন দেখাবে। ঠোঁটে পিঙ্ক বা স্লাইট মভ অথবা টকটকে লাল লিপস্টিক লাগান। কপালে বড় লাল টিপ ও সিঁথি ভরিয়ে দিন সিঁদুরে। শাড়ি ও গয়না পরে নিন। রাতের সাজ গ্লসি লুক হবে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে চুলের সাজ হতে পারে ব্লো আয়রন, কার্লিং আয়রন, স্পাইরাল রিং, রিং বান, ফ্রেঞ্চ বেণি অথবা পনিটেল। আর শাড়ির সঙ্গে সামনের চুল একটু ফুলিয়ে পেছনটা আয়রন করে খোলা রাখতে পারেন অথবা করতে পারেন হাতখোঁপা। খোঁপায় পরুন বেলিফুলের মালা আর বেণি করলে কানের পাশে কসমস বা জারবেরা। পায়ে আলতা দিয়ে, নূপুর পরে অন্যের থেকে নিজেকে আলাদা করে নিন।

পূজার আগে

পূজার সময় যদি বিশেষভাবে সাজতে চান, তাহলে কয়েক দিন আগে থেকেই নিজের যত্ন নিতে হবে।

শরৎ রাঙানো পূজার সাজ

ত্বক

তৈলাক্ত : এ ধরনের ত্বকে তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিংয়ের ক্ষেত্রে 'অয়েল ফ্রি প্রোডাক্ট' ব্যবহার করুন। ত্বকের স্বাভাবিকতা ঠিক রাখতে টমেটোর রস ব্যবহার করতে পারেন। ক্লিনজিং ও টোনিংয়ের পর লেটুসপাতার রস, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে পারেন। আনারস, আপেল, পাকা পেঁপের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্যাক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

শুষ্ক : এ ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হলো ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখা। ভিটামিন-ই অয়েল আর গি্লসারিন আধা চামচ করে মিশিয়ে প্রতিদিন লাগাতে পারেন। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক চা চামচ মধু, আধা চামচ অলিভ অয়েল ও গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুদিন করবেন এ কাজটি।

মিশ্র: প্রতিদিন হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তবে ত্বকের শুষ্ক জায়গাগুলোতে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। সিদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়া চটকে মধু ও দুধ পরিমাণমতো মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এ কাজটি সপ্তাহে তিন দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

চুল
আমলকী, হরীতকী, শিকাকাই, হেনা, মেথি, টক দই, মিল্ক পাউডার, ডিম মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। ৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তারপর হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পুর পর প্রোটিনযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল ভালো থাকে। মোটা দাড়ার চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। ভিজা চুল আঁচড়ালে চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। যাঁদের চুল শুষ্ক তাঁরা শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে তিলের তেল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।

অষ্টমী

পোশাক

অষ্টমীর দিন একটু জমকালো পোশাক নির্বাচন করুন। মেয়েরা লিনেন, শিফন বা সিল্কের সালোয়ার-কামিজ পরুন। জামদানি, মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরতে পারেন। আঁচলে ভারী কাজ আছে এ রকম লাল পাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরতে পারেন। অষ্টমীতে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে।

সাজ
প্রথমে ক্লিনজিং দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনিং করে নিন। এরপর লাগান ফাউন্ডেশন। এর ওপর কমপ্যাক্টের প্রলেপ বুলিয়ে নিতে পারেন। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে শ্যাডো লাগান। চোখের নিচের পাতায় কাজল দিন। ওপরের পাতায় পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ অথবা আঙুলের ডগা দিয়ে খানিকটা স্মাজ করে দিতে পারেন। এরপর ঘন করে লাগিয়ে নিন মাশকারা। লিপ পেনসিল দিয়ে লিপস্টিক পরুন। চোখের মেকআপ খুব গাঢ় হলে ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিকই মানানসই হবে। শাড়ি পরলে বড় টিপ পরতে পারেন।

শরৎ রাঙানো পূজার সাজ

দশমী

পোশাক
এদিন দেবী বিসর্জন হয়, তাই স্নিগ্ধ সাজ মানানসই। লাল-সাদার ট্র্যাডিশনাল গরদ বা সিল্কের শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজও পরতে পারেন।

সাজ
সাজ নেওয়ার আগে ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনার বেছে নিতে হবে। টোনিং করার আগে তুলায় এক টুকরো বরফ জড়িয়ে মুখে ও গলায় ঘষে নিন। তারপর অল্প ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগিয়ে হালকা হাতে আপওয়ার্ড ও আউটওয়ার্ড মুভমেন্টে ঘুরিয়ে ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে দিন। ম্যাসাজ করবেন না। ফাউন্ডেশনের তুলনায় এক অথবা দুই শেড লাইট কনসিলার নিয়ে আঙুল অথবা ব্রাশের সাহায্যে চোখের পাশে, পাতায় ও অন্যান্য ডার্ক অংশে লাগান। কনসিলার ম্যাট ফিনিশ হলে আইশ্যাডো ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ত্বকের ধরনের সঙ্গে মেলে এমন ফাউন্ডেশন নিন। আঙুল অথবা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। মুখে পানি স্প্রে করে ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে চেপে চেপে পানি মুছে ফেলুন। এরপর স্পঞ্জ দিয়ে চেপে ফাউন্ডেশন বসিয়ে দিন। আইব্রো আঁকার জন্য কালো রঙের আইব্রো পেনসিল বেছে নিন। কাপড়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে চোখের সাজে দু-তিনটি শেড বেছে নিন। সবচেয়ে হালকা রঙের শ্যাডো দিয়ে পুরো চোখের পাতায় (আইব্রোর প্রান্ত পর্যন্ত) লাগিয়ে এরপর এরই এক শেড ডিপ বা প্রাথমিক রঙের সঙ্গে যায় এমন কালার দিয়ে ইনার কর্নার থেকে ভেতরের দিকে ছোট ছোট স্ট্রোকে আইশ্যাডোর কালার লাগিয়ে নিন। লোয়ার ল্যাশে মাশকারা লাগানোর আগে টিস্যু দিয়ে চেপে বাড়তিটুকু কমিয়ে নিন। এবার ব্লাশন লাগাবেন। চিক বোনের নিচ থেকে কানের দিকে ধীরে ধীরে টেনে ব্লাশারের কালার গাঢ় করুন। কপালের পাশে, থুঁতনি, নাক অথবা কপালে ব্লাশার লাগাবেন না। লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক পড়ুন। কপালে দিন বড় লাল টিপ ও সিঁথিতে সিঁদুর। সবশেষে শাড়ি ও গয়না পরে পারফিউম ব্যবহার করুন।

টিপস

* পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নিন।

* সারা দিনের জন্য বের হলে ব্যাগে রাখতে পারেন ফেস পাউডার, লিপস্টিক, সানক্রিম, ফেসিয়াল টিস্যু, ছোট আয়না ও এক বোতল পানি।

* অনেক হাঁটার প্রয়োজন হলে আরামদায়ক কোনো জুতা বেছে নিতে পারেন।

 


ঢাকা, শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // ম পা এই লেখাটি ২৬২৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন