সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

নারী কথা ( ৪র্থ পর্ব )

সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০১৫

1805867865_1444661583.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ব্রিটিশ শাসিত ভারতের (১৭৫৭-১৯৪৭) সরকারি চাকুরিতে নারীদের সংখ্যা সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবু, এমন ধারণা করা যায় যে, ঐ সময়কালে প্রশাসনযন্ত্রে তাদের সংখ্যা ছিল নগণ্য। প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক বছরগুলিতে আইনগতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পদে মহিলাদের প্রবেশে বাধা দেয়া হতো। প্রধানত চিকিৎসা সংক্রান্ত চাকুরিতে, ভারতীয় শিক্ষাবিভাগে, প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগে এবং ডাক ও তার বিভাগের পদসমূহে তাদের নিয়োগ করা হতো। স্বরাষ্ট্রবিভাগ, গোয়েন্দা ব্যুরো, অর্থ, নিরাপত্তা, মুদ্রণ, প্রতিরক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী, ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ, বিস্ফোরক শাখা, শ্রম ও ভূমি, অল-ইন্ডিয়া রেডিও, সামরিক হিসাব শাখার নিম্নপর্যায়ের কারণিকের পদসমূহে এবং কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ডের বিবিধ পদে কাজ করার সুযোগ বা অনুমতিও তারা পেত।

১৯৪৭ সালের পর ব্রিটিশদের সৃষ্ট সরকারি চাকুরির পদ্ধতি পাকিস্তান অপরিবর্তিত রেখেছিল। ১৯৫৬ ও ১৯৬২ সালের পাকিস্তান সংবিধানে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও বাস্তবে অবস্থাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে গৃহীত নিয়োগবিধি হিসাব ও নিরীক্ষণ সার্ভিস, সামরিক হিসাব সার্ভিস, আয়কর সার্ভিস, ডাকবিভাগীয় সার্ভিস সহ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চাকুরিতে মহিলাদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা নিখিল পাকিস্তানভিত্তিক কোনো সার্ভিস, যেমন সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) এবং পুলিশ সার্ভিস অব পাকিস্তান (পিএসপি) ইত্যাদিতে যোগদানের অযোগ্য বিবেচিত হতো। তবে, নিম্নতর স্তরের চাকরিসহ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের মতো পেশাদারি চাকরিতে নারীদের বর্ধিত সংখ্যায় নিয়োগ দান করা হয়েছিল। পাকিস্তানে সরকারি চাকরিতে নারীদের অসম প্রতিনিধিত্ব তাদের স্থায়ী সামাজিক পশ্চাদপদতার জন্যই প্রকটতর হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সব ধরনের পেশায় যোগদানের জন্য উৎসাহিত করা হলেও তাদের স্থায়ী সামাজিক অনগ্রসরতা সরকারি প্রশাসনের শীর্ষপর্যায়ে প্রবেশের সমান সুযোগ সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ শতকের সত্তরের দশকের গোড়া থেকেই নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় মহিলাদের অন্তর্ভূক্তি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনের বিধান, নির্বাহী আদেশ, নীতি সংশোধন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীর সামাজিক পদমর্যাদা উন্নয়ন ও অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর জন্য গত তিন দশকে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এসব পদক্ষেপ ও উপযুক্ত কর্মপন্থা জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত অনুরূপ পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ছিল ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ ঘোষণা, জাতিসংঘ ঘোষিত নারীদশক (১৯৭৫-৮৫), নারীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্যের বিলুপ্তি বিষয়ক জাতিসংঘ সনদ (UNCEDAW)। বস্ত্তত, এসব ব্যবস্থা নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি ও ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নীতি প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছে বলে মনে হয়। অধিকন্তু মেক্সিকো, ডেনমার্ক, নাইরোবি ও বেইজিং শহরে অনুষ্ঠিত চারটি বিশ্ব নারী সম্মেলনের ফলাফল বাংলাদেশের মহিলাদের আশান্বিত করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধান যেকোন সরকারি চাকরি ও কর্মে অংশগ্রহণের জন্য মহিলাদের সমান অধিকার প্রদান করে। সংবিধান কেবলমাত্র নারী পুরুষের সমতাই নিশ্চিত করে নি, এছাড়াও সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট আনুপাতিক সংখ্যক পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার মাধ্যমে বিদ্যমান অসম প্রতিনিধিত্ব নিরসনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করে। প্রশাসনে মহিলাদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর অন্যতম হচ্ছে সরকারি চাকরিতে মহিলাদের নিয়োগের জন্য চাকরির কোটা সংরক্ষণ। ১৯৭২ সালে মহিলাদের জন্য প্রথম কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়, তবে তা কার্যকর হয়েছিল ১৯৭৬ সালে কিছুটা পরিবর্তন করে জারিকৃত সরকারি আদেশের পর। আদেশটিতে সকল শ্রেণির শূণ্য পদে মৌলিক যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে মহিলাদের জন্য শতকরা ১০ ভাগ পদ সংরক্ষণের বিধি সংযোজিত হয়। তথাপি, কিছু কারিগরি পদে, প্রতিরক্ষা বিভাগের পদসমূহে এবং মহিলাদের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হতে পারে এমন ধরনের পদগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রযোজ্য ছিল না। তথাপি, বিভিন্ন চাকরিতে মহিলাদের বর্ধিত হারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশোধিত এবং আংশিকভাবে পরিবর্তিত কোটা ব্যবস্থার অপর একটি আদেশ ১৯৮৫ সালে জারি করা হয়। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এ আদেশ সকল সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা এবং বিভিন্ন সেক্টর কর্পোরেশনের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। বর্তমানে মেধাভিত্তিক নিয়োগের অতিরিক্ত গেজেটেড পদগুলির ১০ শতাংশ এবং নন-গেজেটেড পদসমূহের ১৫ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং তা সকল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই মেধা ও লিঙ্গের ভিত্তিতে মহিলারা সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, আনসার ও ভিডিপি’র জন্য সংরক্ষিত অন্যান্য কোটার মাধ্যমেও তারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারে যদি তারা সেগুলির যেকোনটির অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদের শতকরা ৬০ ভাগ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখারও একটি বিধান রয়েছে।

এ কোটার অপর একটি দিক হচ্ছে এটি চাকরিতে প্রবেশকালীন সময়েই প্রযোজ্য। যে অল্পসংখ্যক মহিলা ঐ পর্যায়ের বাইরে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছে (চুক্তি, প্রেষণ বা অন্য বিভাগ থেকে প্রেরিত) তারা কোটা ব্যবস্থা থেকে কোনোই সুবিধা লাভ করতে পারে না। কোটা ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসমূহ এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ব্যতীত সরকারি খাতের চাকরির মাত্র ৬.৬০ শতাংশ পদে মহিলারা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ লাভ করে। ১৯৭৬ সালে কোটা ব্যবস্থা প্রচলনের পর মহিলা চাকুরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং কোটা ব্যবস্থা মহিলাদের নিয়োগের ধরনে কোনো লক্ষ্যণীয় মাত্রায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয় না।

সকল খাতে মহিলাদের সমান প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য শাসনতান্ত্রিক বিধান থাকা সত্ত্বেও এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার পরও প্রশাসনে মহিলাদের নিয়োগের অবস্থা প্রান্তিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর সরকারি চাকরিতে মহিলাদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৪১৭ জন মহিলাকে ১৫টি ক্যাডারে নিয়োগ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ মহিলাকে এ ক্যাডারগুলির মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার এবং অধস্তন পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারি চাকরির বিভিন্ন ক্যাডারে মোট চাকরিজীবীর মাত্র ৪.৮৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এসব মহিলা। কোটা নীতি প্রচলনের পূর্বে সরকারি চাকরিজীবীর (সরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে) সংখ্যা ছিল ৩,৩১,১৮৯। তন্মধ্যে মাত্র ২৩,৪২০ জন মহিলাকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দান করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি খাতের মোট ৯,৭১,০২৮ জন চাকরিজীবীর মধ্যে আছেন মাত্র ৮৩,১৫৬ জন মহিলা। প্রায় ৮.৫৬ শতাংশ মহিলা চাকরিজীবী এবং এদের ৯০ শতাংশের অধিক (৭৪,৮৮৪) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে বিপুল সংখ্যক মহিলা নিম্নবেতনভূক ও করণিক পদের কর্মচারী। কিন্তু শীর্ষ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে অবস্থানরত মহিলা চাকরিজীবীগণ (শতকরা প্রায় ১০ ভাগ) অপেক্ষাকৃত বেশি মর্যাদা ও বেতন লাভ করলেও তাদের সংখ্যা নগণ্য। ১ম ও ২য় শ্রেণির পদগুলির ১০ শতাংশ এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদগুলির ১৫ শতাংশ সংরক্ষিত করা সত্ত্বেও এরূপ অবস্থা দেখা যাচ্ছে।

সচিবালয়ে মহিলা কর্মচারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলিতে ৮৬১১ জন কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৭৮৪ জন মহিলা (প্রায় ৯.১ শতাংশ)। সরকারি কর্মচারীদের সাধারণভাবে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন ১ম ও ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, ৩য় শ্রেণির নন-গেজেটেড কর্মকর্তা এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। ২০৭০ জন গেজেটেড কর্মকতার মধ্যে মাত্র ২১২ জন মহিলাকে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ৬৫৪১ জন সরকারি কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৫৭২ জন মহিলাকে নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব ও উপ-সচিব পদে কর্মরত মহিলাদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য।  [সালমা আহমেদ]

ঊন্নয়নে নারী  উন্নয়ন অভিধানে একটি অতি আধুনিক সংযোজন এবং এমন একটি ধারণা যা বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। ঊন্নয়নে নারী  বলতে বুঝায় যে নারীরা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণের পরিবেশ  অনুকূল করা অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের নারীরা বরাবরই পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সনাতনী  ধ্যান-ধারণা ও মূল্যবোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি ও সুশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বহু সুযোগ সুবিধা থেকে  প্রায়শ তারা বঞ্চিত। নারীরা সন্তান ধারণ করে,  সন্তান জন্ম দেয়, তাদের প্রতিপালন করে এবং সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম করে, কিন্তু কখনো তারা নিজেদের কাজের জন্য যথোপযুক্ত  মজুরি ও স্বীকৃতি পায় না। চাকরির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নারীরা পায় না।  গ্রা্রমীণ পর্যায়ে  ৮৪%  এবং শহরে ৫৯%  নারী অবৈতনিক গৃহ পরিচালিকা  হিসেবে কর্মরত থাকে। বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তুলনায় সপ্তাহে গড়ে ২১ ঘন্টা বেশি সময় কাজ করে। যদিও  ঘর গৃহস্থালীর কাজে যুক্ত নারীশ্রমকে অর্থনৈতিক মানদন্ডে কর্মকান্ড হিসেবে ধরা হয়েছে, কিন্তু এর অর্থমূল্য এখন পর্যন্ত জাতীয় আয় গণনায় হিসাব করা হয় না।

নারীর শ্রেণি পরিচিতি সবসময় নির্ধারিত হয় পরিবারের পুরুষ সদস্যের পেশা ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে। এমন কি পরিবারের মধ্যে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নারীরা কম খাদ্য গ্রহণ করে, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ ও সংরক্ষণের সুযোগ তাদের জন্য কম। সাংবিধানিকভাবে নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমানাধিকার স্বীকৃত থাকলেও পারিবারিক ও ধর্মীয় আইন নারীর সার্বভৌম সত্ত্বা ও  অধিকারকে খর্ব করে রেখেছে। বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলন, অসংখ্য নারী অধিকার দল বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য এক ও অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল তাদের বিগত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে।  অনেক সেমিনার ও কর্মশালা শেষে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সর্বপ্রথম ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোডের একটি ড্রাফট মডেল তৈরি করে এবং অন্যান্য নারী সংগঠনের সহায়তায় মডেলটির উৎকর্ষ সাধন করে। ১৯৯৬ সালে  আইন ও সালিস কেন্দ্রের সহায়তায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোডের  চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে সরকারের নিকট জমা দেয়। কিন্তু সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এটি এখন পর্যন্ত আইনে পরিণত হয় নি। সিডও’র ওপর প্রণীত এনজিও শ্যাডো রিপোর্ট (২০০৪) পর্যালোচনা শেষে জাতিসংঘ সিডও কমিটি নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সংজ্ঞা নিরূপণ বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ ইত্যাদিসহ পারিবারিক আইনে বৈষম্য দূরীকরণে  ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে  বাংলাদেশকে পরামর্শ দেয়। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়াতে জটিলতা থাকা সত্ত্বেও নারীর জন্য কিছু আইন প্রণীত হয়েছে। মিডিয়েশন কোর্ট প্রতিষ্ঠা, এসিড নিক্ষেপ আইন প্রণয়ন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ সরকারের  একটি ইতিবাচক  উদ্যোগ।

নারী আন্দোলনসমূহ ও নারী মুক্তি প্রচেষ্টা, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে নারীর স্বীকৃতি আদায়ের জন্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের ব্যাপকতর অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে। বাংলাদেশে নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ প্রায় ২৫ মিলিয়ন। এরমধ্যে মাত্র ১০,০০০ জন নিয়োজিত প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পেশায়। প্রায় ৭৯% নারী কাজ করে কৃষিখাতে (মৎস্য ও বনায়নসহ), ৯.৯% নারী কাজ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও পরিবহন খাতে, ২.২% নারী বিপণন শ্রমিক ও ০.৬% নিয়োজিত করণিক পর্যায়ের কাজে। আত্মকর্মসংস্থানের অধীনে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, বিশেষত গ্রামীণ  অবকাঠামো বিন্যাসে রাস্তা নির্মাণ ও সংরক্ষণ এই বিভাজনের পর্যায়ভুক্ত নয়। নারী সমাজের এক বিশাল অংশ নিয়োজিত স্বকর্মসংস্থানে, বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যচাষ,  হাঁস-মুরগী পালন, সবজি বাগান, বসতবাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণ এবং অাঁখ, বাঁশ ও বেত উৎপাদনে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৩৪% হচ্ছে নারী। শহরকেন্দ্রিক শ্রমনির্ভর শিল্প, বিশেষত পোশাক শিল্পে ৮০% কাজ নারীরাই করে থাকে।

শ্রম প্রদান ছাড়াও উন্নয়ন ক্ষেত্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের অবদান অপরের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা হস্তশিল্প ব্যবসাকে প্রাধান্য দেন বেশি। শহর ও গ্রামাঞ্চলে তাদের উপার্জনমূলক ক্রিয়াকর্মের মধ্যে রয়েছে কাপড় সেলাই, নকশা, বাটিক, বুটিক, এমব্রয়ডারি ও খাদ্য বিক্রয়। শহরে কর্মজীবী হিসেবে নারীরা যুক্ত আছেন বিপণীকেন্দ্রসমুহে, অভ্যর্থনা ডেস্কে, বিজ্ঞাপনী সংস্থায়, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আইনব্যবসায়, স্বাস্থ্য বিভাগে, কর্পোরেটেড সেক্টরে, শিল্পকলা, ব্যবস্থাপনা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং এনজিওতে। সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্তরে জড়িত আছেন সীমিতসংখ্যক নারী।

এক পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে যে সর্বমোট ৫১ জন সচিবের মধ্যে মাত্র ২ জন নারী সচিব, ৮০ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ১ জন নারী, ২৫১ জন  যুগ্ম সচিবের মধ্যে ৩ জন নারী এবং ৪৭৪ জন উপ-সচিবের মধ্যে মাত্র ৭ জন নারী রয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনে  বর্তমানে মোট ১ লক্ষ ২৪ হাজার পুলিশের মধ্যে ১৯৫৬ জন নারী কর্মরত আছেন। এরমধ্যে ডি.আইজি পদে ১ জন নারী, এডিশন্যাল ডি.আইজি পদে ৪ জন নারী, এডিশন্যাল এ.এস.পি পদে ১৯ জন নারী, এ.এস.পি পদে ৭৭ জন নারী, ইনস্পেক্টর  পদে ৫৩ জন, এস.আই পদে ১৮৯ জন, এ.এস.আই পদে ২৫৩ এবং কনস্টেবল পদে ১৩৩১ জন নারী  কাজ করছেন। আর্মি মেডিক্যাল কোরে ১ জন মাত্র নারী ব্রিগেডিয়ার কর্মরত আছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে ১জন কর ক্যাডারভুক্ত নারী রয়েছেন। তাছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বিভাগে কর ক্যাডারে ১৮জন নারী রয়েছেন। এদের মধ্যে কর কমিশনার হচ্ছেন ৪ জন, সহকারি কর কমিশনার ৮ জন এবং যুগ্ম কমিশনার হিসেবে ৬ জন নারী কাজ করছেন। ব্যাকিং সেক্টরে মাত্র ১ জন জেনারেল ম্যানেজার রয়েছেন। সংরক্ষিত কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে নারীরা পুরুষের সাথে সরকারি চাকরি করতে পারেন।  সরকারি চাকরিরত ৮৫,০০০ নারীর মধ্যে (কর্মরত মোট জনশক্তির ৮.৬%) মাত্র ১% মন্ত্রণালয়গুলোতে, ১৬.৫৫% স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় এবং ৮২.৫% সাধারণ অফিসে নিয়োগ প্রাপ্ত। এদের মধ্যে ৭% প্রথম শ্রেণির, ৩% দ্বিতীয় শ্রেণির, ৭৫% তৃতীয় শ্রেণির এবং ১৫% চতুর্থ শ্রেণির চাকরিভুক্ত। জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা সীমিত। রাজনীতি ও জাতীয় সংসদে তাদের অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচনে ৬২ টি আসনে ৫৭জন নারী প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক ২৩ জন সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরাসরি ও সংরক্ষিত আসন মিলে ৩৪৫টি আসন বিশিষ্ট জাতীয় সংসদে  মোট ৬৮ জন নারী সদস্য রয়েছেন। মন্ত্রী পরিষদে প্রধান মন্ত্রীসহ ৪ জন নারী মন্ত্রী হিসেবে (স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে)  অধিষ্ঠিত আছেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল ৪৫টি। এই ৪৫টি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগ ৩৫টি, বিএনপি ৫টি, জাতীয় পার্টি ৪টি ও অন্যান্য দল ১টি আসন  লাভ করে। এসব আসনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দানের ফলে দ্বিতীয় কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৫ জন নারী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হন। তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বাধিক নারী সদস্য নিয়ে নবম জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরু করে।। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেত্রী তো রয়েছেন। যে ২৩টি আসনে নারী প্রার্থীরা সরাসরি প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিজয়ী হয়েছেন সেখানে ১টি আসন ছাড়া অন্য ২২টি আসনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পুরুষ।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৫জন প্রেসিডিয়াম ও সেক্রেটারিয়েট সদস্যের মধ্যে ৪ জন এবং জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭৫ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জন হচ্ছেন নারী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১২-সদস্য বিশিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে মাত্র ১ জন এবং ২৬০-সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে ১২জন  নারী রয়েছেন। জাতীয় পাটির (এরশাদ) স্থায়ী কমিটির ৩১জন সদস্যের মধ্যে ২জন নারী ও কার্যনির্বাহী কমিটির ২০০ জন সদস্যের মধ্যে ১৫জন নারী  আছেন।

জামায়েতে ইসলামীর মজলিশ-ই-শুরাতে ২৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ৩৫ জন নারী রয়েছেন। তবে এ সংগঠনের মজলিশ-ই-আমেলাতে কোনো নারী নেই। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ৩৩-সদস্য বিশিষ্ট  কেন্দ্রিয় কমিটিতে মাত্র ৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ইউনিটে নির্বাচিত নারীদের অংশগ্রহণ কম। ইউনিয়ন পরিষদে  ৪২৭৬ জন নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মধ্যে  মাত্র ২২ জন নারী ও সাধারণ আসনে নির্বাচিত ৩৮,৪৮৪ সদস্যের মধ্যে ৮৫ জন নারী রয়েছেন।

উন্নয়নে নারী কার্যক্রম এনজিও সেক্টরে বহুল বিস্তৃত। এনজিওদের শীর্ষ সংস্থা এডাবের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটিতে ৫জন নারী ছিলেন। ৮৮৬টি সদস্য সংস্থার মধ্যে ৩৮ টি ছিল নারী সংগঠন। ২০০১ সালে অভ্যন্তরিণ  কোন্দলে এডাবের  কার্যনির্বাহী কমিটি অচল হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ সদস্য এডাব থেকে বের হয়ে The Federation of NGO in Bangladesh নামে পৃথক একটি শীর্ষ সংগঠন গঠন করেন। এই নতুন সংগঠনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটিতে ১টি নির্বাচিত ও ৩টি সংরক্ষিত পদে মোট ৪টি নারী সংগঠনকে রাখা হয়। এই সংগঠনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪৭৯। এর মধ্যে ৮৫টি নারী সংগঠন রয়েছে। এরা নারীদের মধ্যে কাজ করে এবং তাদের মধ্যে সংগঠন তৈরি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আয়মুখী ও ঋণ কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণে গতিশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকা নির্বাহের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি ও নারীশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করে।

উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচুর প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। নারীরা কৃষি বা অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। মজুরি বৈষম্য ছাড়াও নারীদের সাধারণত শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার সমস্যা রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের বিবেচনা করা হয় না। সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা গৌণ। সরকারের স্বকর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থার অভিষ্ট লক্ষ্যগোষ্ঠীর মধ্যে দরিদ্র ও ভূমিহীন নারীরাও রয়েছেন। কিন্তু এসব কর্মসূচি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো, বিশেষ করে দরিদ্রদের মধ্যে যারা হতদরিদ্র তাদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখনো সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। বিষয়টি বেসরকারি সংস্থার কর্মকান্ডের আওতাভুক্ত হলেও প্রান্তিক পরিবারের নারীরা এসব কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের তেমন সুযোগ পায় না। উন্নয়নে  নারীর পূর্বশর্ত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন ও দক্ষতাবৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের অবস্থা ও অবস্থানের পরিবর্তন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। অবিভক্ত বাংলায় নারী উন্নয়ন শুরু হয়েছিল বাল্যবিবাহ, অবরোধ প্রথা ও ধর্মের নামে নারীদের উপর অন্যায় অবিচার প্রতিরোধ আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে নারী অধিকার ইস্যু হিসেবে শিক্ষা, ভোটাধিকার ও নির্বাচন, কৃষক আন্দোলন, রাজনীতি, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং প্রশাসনে গুরুত্ব পায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে বর্তমানে দারিদ্র্য দূরীকরণ, জনমিতিক পরিবর্তন ও মৌলিক চাহিদা নিরূপক সেবামূলক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, বর্ণ, স্থান ও জন্মের কারণে  নারীদের প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। সরকার নারী উন্নয়নে নারী পুনর্বাসন বোর্ড, পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন, জাতীয় নারী সংস্থা, নারী বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বতন্ত্র নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। মহিলা অধিদপ্তর বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় এবং ১৩৬ টি উপজেলায় শাখা খুলেছে। জাতীয় নারী সংস্থা ২৩৬টি উপজেলায় শাখা কার্যক্রম বাস্তবায়িত করছে।

সরকার কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, বস্তিবাসী নারীদের সহযোগিতা, কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য ডে- কেয়ার স্থাপন, স্বতন্ত্র মহিলা বাস সার্ভিস চালু, সরকারি চাকরিতে  নারীদের কোটা  সংরক্ষণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প, শহরে ও গ্রামে নারীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ ও নারী সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবে  আজো এ নীতি কার্যকর করা সম্ভব হয় নি।

বাংলাদেশের সংবিধান, সিডও সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও নারী উন্নয়ন নীতিতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন গুরুত্ব পেয়েছে; গুরুত্ব পেয়েছে  নারীর কর্মসংস্থান ও তার নিরাপত্তার বিষয়টি। সিডও সনদের ২নং ধারা (যা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬,২৭,২৮,২৯ ধারার সাথে সংগতিপূর্ণ) ও ১৬নং ধারা নারীর স্বার্থ সংরক্ষণের কথা বলছে। অথচ এ দুটি ধারা বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায় নি। বাংলাদেশ সকল প্রকার নারী বৈষম্য সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশনে  এ দুটি ধারা  বাদ দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। তবে বেইজিং প্লাটফর্ম ফর অ্যাকশনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। বেইজিং ফোরাম কর্তৃক চিহ্নিত নারী উন্নয়নের ১২টি প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সরকার ও এনজিওদের সাথে যৌথ কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে।

বেইজিং ফোরাম এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সুপারিশমালার আলোকে বাংলাদেশ সরকার ও এনজিওসমূহ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কৃষি, বন ও পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ, তথ্য, পরিকল্পনা, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, পররাষ্ট্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বাইরে যেসব সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, নারী সংগঠন, গণসংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, নেটওয়ার্ক ফোরাম এবং এনজিও।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // অা হ এই লেখাটি ৯১৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন