সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বিপিএল নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী

শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৫

1991115274_1445693548.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর তৃতীয় আসরের পর্দা ওঠছে আগামী ২২ নভেম্বর। ২৪ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে খেলা। দেশের সবচেয়ে আড়ম্বরপূর্ণ, ব্যয়বহুল ও তারকায় ঠাসা এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করেছে। সেখানে জায়গা হয়নি সিলেটের! আগরে দুই আসরের মতো এবারও সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। ‘সিলেট সুপারস্টার্স’ নামক সেই দলটিতে সিলেটের একজন ক্রিকেটারেরও জায়গা হয়নি!

যে দলে একজন সিলেটি ক্রিকেটারও নেই, সেই দল কিভাবে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করে, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাছাড়া এশিয়ার অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম সিলেটে থাকা সত্ত্বেও এখানে কেন ম্যাচ রাখা হয়নি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সর্বস্তরের ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়ানুরাগীরা।

দেশের সবচেয়ে নান্দনিক ও সৌন্দর্যমন্ডিত ক্রিকেট স্টেডিয়াম সিলেটে। কিন্তু ধূ ধূ মরুর বুকে অব্যবহৃত পড়ে থাকা জলাধারের মতোই অবস্থা এই স্টেডিয়ামের। ৬১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৮৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্টেডিয়াম এটি। এই স্টেডিয়ামেই ২০১৪ সালে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ, ইংল্যান্ড লায়ন্সের সঙ্গে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাথে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ ছাড়াও জাতীয় লিগ, নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টও হয়েছে।

কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এই স্টেডিয়ামে আগামী বছরের শুরুতে অনূর্র্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। সে লক্ষ্যে গত প্রায় ৯ মাস ধরে স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন ২টি পিচসহ ৭টি আন্তর্জাতিক মানের পিচ তৈরী করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে অতিদ্রুত যাতে পানি নিষ্কাশন হয়, সেজন্য অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া গ্যালারির ধারণক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সিলেটে আগত দলগুলোর অনুশীলনের সুবিধার্থে মূল স্টেডিয়ামের পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে আউটার স্টেডিয়াম।

সিলেটের ক্রীড়ানুরাগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এতো তোড়জোড় করে কোটি কোটি টাকা খরচ যে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলো, সংস্কার করা হলো, সেখানে কিসের ভিত্তিতে বিপিএলের কোনো ম্যাচ রাখা হলো না। তারা বলছেন, স্টেডিয়াম নির্মাণের সময়ই সংশ্লিষ্টরা ক্রীড়াপ্রেমী সিলেটের দর্শকদের জন্য বেশি করে ম্যাচ আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই আশ্বাস মুখের কথাতেই কেন সীমাবদ্ধ রয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিপিএলে সিলেট নাম নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে ‘সিলেট সুপার স্টার্স’ নামক ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু এটি শুধু নামেই সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছে! দলটিতে সিলেটের একজন ক্রিকেটারেরও জায়গা হয়নি! সিলেটের ক্রীড়ানুরাগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে দলে সিলেটের কোনো ক্রিকেটার নেই, সে দলের সাথে সিলেটের নাম যুক্ত করা কতোটা যৌক্তিক?

ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, বিসিবি কেন নীতিমালা করে যে বিভাগ থেকে যে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিত্ব করছে, সে বিভাগের নির্দিষ্ট সংখ্যক খেলোয়াড় দলে রাখা বাধ্যতামূলক করে দিল না?

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি, সিলেটের সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া সাংবাদিক মান্না চৌধুরী ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সিলেটের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়াম সিলেটে, অথচ এখানে ম্যাচই রাখা হচ্ছে না! সংশ্লিষ্টরা এখানে বেশি করে ম্যাচ রাখা হবে, এমন আশ্বাস দিলেও তাদের আশ্বাসের কোনো প্রতিফলন বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট সুপারস্টার্স নাম নিয়ে বিপিএলে যে দলটি প্রতিনিধিত্ব করছে, সেটিতে কোনো সিলেটি ক্রিকেটার নেই! সিলেটের কোনো কর্মকর্তা নেই, এমনকি দলটির মালিকানাও সিলেটি কারো নয়! তাহলে কিসের ভিত্তিতে এই দলের সাথে সিলেট যুক্ত করা হলো?’

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সাংবাদিক মামুন খান বলেন, ‘আমরা অনেকটাই হতাশ। বিপিএলের ম্যাচ সিলেটে হবে, সিলেটি প্লেয়াররা বিপিএলে প্রতিনিধিত্ব করবে, এমনটাই চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু কিছুই হলো না!’

সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফজলে এলাহি অভি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল সিলেটে খেলা হোক। কিন্তু এখানে কোনো ম্যাচ রাখা হলো না। যিনি বিসিবিতে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তিনিই জানেন কেন এখানে খেলা দেয়া হলো না।’

অভি বলেন, ‘সিলেটের অলক কাপালি, রাজিন সালেহ, তাপস বৈশ্য, এনামুল জুনিয়র, ইমতিয়াজ হোসেন পান্না, ইজাজ এরা টপক্লাস প্লেয়ার। অথচ সিলেট সুপারস্টার্স নামক দলে তাদের কাউকেই রাখা হলো না! সিলেটের খেলোয়াড়দেরই যদি দলে না রাখা হয়, তবে কেন সিলেটের নাম ব্যবহার করা?’ তিনি নীতিমালা করে বিপিএলে যেসব বিভাগের দল প্রতিনিধিত্ব করবে, সেসব দলে ওই বিভাগের কমপক্ষে ৩ জন করে খেলোয়াড় রাখার দাবি জানান।

সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম নাচন বলেন, ‘সিলেটের যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও এবার বিপিএলে সিলেটের নাম ব্যবহারকারী দল ‘সিলেট সুপার স্টার্স’ তাদের কাউকে দলে রাখেনি। এতে ‘সিলেট সুপার স্টার্স’ টিম কর্মকর্তাদের সিলেট বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ অনেকটা ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে বিপিএলে সিলেটের নাম দিয়ে একটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে, কিন্তু সে দলে সিলেটের কেউ নেই! আসলে সিলেটি খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। অন্যান্য বিভাগের প্লেয়ারদের পক্ষে ব্যাকিং আছে, কিন্তু সিলেটের প্লেয়ারদের কোনো ব্যাকিং নেই। অলকের মতো টপক্লাস প্লেয়ারও নিলামে দল পায় না, এটা অবিশ্বাস্য!’।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কিছু সংস্কার কাজ বাকি আছে। মাসখানেকের মধ্যে তা শেষ হবে। এজন্য এখানে বিপিএলের ম্যাচ রাখা হয়নি।’  রাইজিংবিডি

ঢাকা, শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ৩৯৯৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন