সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

যে কারণে বিচ্ছেদে গেলেন ইমরান-রেহাম

রবিবার, নভেম্বর ১, ২০১৫

98762161_1446367675.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ইমরান খানের নতুন সংসারটাও ভেঙে গেছে, এ খবর পুরনো। কিন্তু কেন ভাঙল, সেটি নিয়েই এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা। দশ মাসের মাথায় ভেঙে যাওয়া সংসারটা খুব সুখের ছিল না। বিয়ের পর থেকেই আসলে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এই দম্পতি। রক্ষণশীল পাকিস্তানে রাজনীতির ময়দানেও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখরোচক কথাবার্তা চালু ছিল। রেহামের পশ্চিমা ঘরানার পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়ে বারবারই ঝড় উঠেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিবিসির সাবেক সংবাদ উপস্থাপক রেহাম খানের সঙ্গে ইমরানের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে অসন্তোষ ছিল খোদ ইমরানের বাড়িতেই। তার বোন আলিমা খান প্রথম থেকেই এই বিয়েটা মেনে নিতে পারেননি। গণমাধ্যমে প্রকাশ্যেই তিনি ভাইয়ের বিয়ের বিরুদ্ধে কড়া কড়া মন্তব্য করেছিলেন।

এই তো কিছু দিন আগে উপনির্বাচনে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রার্থীর প্রচারণায় রেহামের উপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। এতে নাকি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন রেহাম।

অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর বিপুল জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে নিজের একটি রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন রেহাম। প্রথম দিকে বিষয়টিকে ইমরান খুব একটা পাত্তা দিতে চাননি। কিন্তু পরে দশজনের কানকথায় তারও সন্দেহ হয়। উপনির্বাচনের সময় বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট কথাবার্তা হলেও ইমরান প্রকাশ্যেই তার স্ত্রীকেই সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ভেতরে-ভেতর বিষয়টা নিয়ে ক্ষুব্ধই ছিলেন। তিনি রেহামকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার সম্ভব সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন।

আসলে কী ঘটেছিল ইমরান-রেহামের মধ্যে? পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দ্য ডন এক বিশেষ সূত্রের বরাতে লিখেছে, মূলত রেহামের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই এই সম্পর্কের ইতি টেনে দিয়েছে। বিয়েটা ভেঙে দেওয়ার একটা পারিবারিক চাপ প্রথম থেকেই ছিল ইমরানের ওপর। রেহামকে তালাক দিয়ে সেই ঝামেলা থেকেই কি মুক্ত হলেন ইমরান?

ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ ২০১৩ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল। পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক ক্ষমতা এই মুহূর্তে তেহরিকের হাতেই। ইমরান রাজনৈতিক দিক দিয়ে তালেবান অধ্যুষিত এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলার ঘোর বিরোধী। তালেবানের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্কও গোপন বিষয় নয়। এই অবস্থায় যদি শুধু রাজনীতির কারণেই রেহামকে তালাক দিয়ে থাকেন, সেটা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে জানা ব্যক্তিদের খুব একটা অবাক করবে না। তবে পাকিস্তানি গণমাধ্যমই জানিয়েছে, ইমরান-রেহাম পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই ইতি টেনেছেন এই সম্পর্কের।

ক্রিকেটার জীবনে ইমরানের ছিল এক প্লেবয় ইমেজ। অনেক নারীরই স্বপ্ন-পুরুষ ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথম বিয়েটা তিনি করেছিলেন খেলা ছাড়ারও তিন বছর পর। ১৯৯৫ সালে তিনি ব্রিটিশ ধনকুবের জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে জেমাইমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সে বিয়ে নিয়ে কত গল্প-গাথা যে আছে! বিয়ের সেই সময়টা তেহরিক-ই-ইনসাফের ছিল হাঁটিহাঁটি পা পা অবস্থা। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জেমাইমার ইহুদি পরিচয়কে ব্যবহার করেছিল যথেষ্ট পারঙ্গমতার সঙ্গেই। নানা সংকটের পর ২০০৪ সালে বিচ্ছেদে শেষ হয় জেমাইমার সঙ্গে ইমরানের সেই সম্পর্ক। সূত্র: দ্য ডন

ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ১, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন