সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বিমানবালাদের স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্নের হয়

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৫

783962577_1447316741.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
এয়ারহোস্টেস হওয়ার স্বপ্ন দেখেন প্রায় সব সুন্দরীরাই৷ কিন্তু বর্তমানে সে ছবি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে৷ বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে বিমানসেবিকা হওয়ার স্বপ্ন আজ সবার মনেই বিলীন৷ একদিকে যেমন অমানবিক পরিশ্রম, অস্বাভাবিক সময়ের ডিউটি, উপরন্তু যৌন হয়রানির ঝুঁকি৷

বিমানসেবিকাদের জীবনের এমনই কিছু কথা তুলে ধরেছেন হিদার পুল যিনি বিগত ১৫ বছর ধরে বিমানসেবিকার কাজ করছেন৷ টেলস অব ক্র্যাশপ্যাডস, ক্রু ড্রামা, অ্যান্ড ক্রেজি প্যাসেঞ্জার অ্যাট ৩৫০০০ ফিট নামের একটি বই লিখেছেন হিদার৷ সেই বই থেকেই বিমানবালাদের সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য তুলে ধরা হলো৷

# সিনিয়রিটি মানে ছোট স্কার্ট
আমরা কোন পথে উড়ব, আবার কবে দেশে ফিরে আসব গোটা বিষয়টাই সিনিয়ারদের মর্জির ওপর নির্ভর করে। এক রুমে ২০ জন বিমানসেবিকাকে রাত কাটাতে হয়। রুমে কার বেড কেমন হবে, কোলাহল থেকে কার রুম কত দূরে হবে সবকিছু সিনিয়ররা নির্ধারণ করেন।

সিনিয়ররা অবশ্য এ বঞ্চনা থেকে মুক্ত। প্রবেশনারি সময়ে আমাদের স্কার্টের দৈর্ঘ্য সিনিয়ররা নির্ধারণ করে। এই সময় সামান্য পা দেখানোর সুযোগ থাকে। এ ব্যপারে আমরা টু শব্দও করতে পারি না। যারা নতুন এই কাজে যোগ দেয়, তাদের সঙ্গে পায়লটদের কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠল কিনা – এমন আশঙ্কা সিনিয়রদের মনে থাকে সবসময়। তিনি আরো লিখেছেন, তার কোনো এক সিনিয়র সহকর্মী পাইলটকে আকর্ষণ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তার স্কার্ট ছোট করত।

# প্লেনের দরজা খোলা থাকলে মাইনে বন্ধ
প্লেন ওড়ার আগ পর্যন্ত যাত্রীদের যে ফরমাইশ করা হয় তার কোনো হিসাব আমাদের মাইনের খাতায় ওঠে না। শুধূমাত্র প্লেনের দরজা বন্ধ হলে- প্লেন আকাশে পাখা মেললে- আমরা বেতন পাই।

আবার ফ্লাইট যদি দেরি করে, স্থগিত হয় তাহলে আমাদের বেতন বন্ধ। তবে তারা অতটা হৃদয়হীন নয়। বিমানবন্দরে প্রবেশের পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত ঘণ্টায় ১.৫ ডলার হারে একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা আমাদের দেয়া হয়।

# কোঁচ ধরার প্রতিযোগিতায় অর্থ-গচ্চা
ভালো প্লেনে কাজ করার প্রতিযোগিতা লেগেই থাকে। মনে করুন, ২০১০ সালে ডেল্টা ঘোষণা করল তারা শুরুতে ১০০০ ডলার মাইনে দেবে। মুহূর্তের মধ্যে ১০০০০০ দরখাস্ত পড়ে যাবে সেখানে। যদিও হার্ভাডের মাইনে কম নয়। যারা কলেজ ডিগ্রিতে এগিয়ে, প্রতিযেগিতায় তারাই সেরা। যেমন ডাক্তার, আইনজীবী ইত্যাদি।

তবে এগুলো চাকরি পাওয়ার কোনো শর্ত নয়। বিভিন্ন ভাষা জানা থাকলে সুযোগ বেড়ে যায়। তাতে যাত্রীদের খাওয়ার টেবিল বা অন্য কোনো মুহূর্তে আপনার গুরুত্ব বেড়ে যাবে। তবে আমন্ত্রিত চাকরিতে যাওয়ার আগে সবদিক চিন্তা করে দেখুন। কারণ, সেখানে গেলে আপনার নির্ধারিত বেতনের কিছু অংশ কেটে রাখা হয়।

# আকাশে কারো উচ্চতা বাড়ে আবার কারো কমে
১৯৬০ এর দশকে শর্ত ছিল মেয়েদের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ওজন ১৩০ পাউন্ড হতে হবে। ৩২ বছরে অবসর নিতে হবে। তারা হবে অবিবাহিত ও নিঃসন্তান। ১৯৭০ সালে স্টিউওয়ার্ডেসেস নামে আমাদের এক সংগঠনের দাবিতে অবসরের শর্ত শিথিল হয়।

১৯৮০ সালে বিবাহের শর্ত ঘুচল। ১৯৯০ এর দশকে ওজনের শর্তটি আর থাকল না। ইদানিং অনেক নিয়ম- কানুন আমাদের জন্য নিরাপদ। বিমানসেবিকারা এখন জাম্প সিটে বেল্ট পরে। এমার্জেন্সি দরজার পাশে তাদের এখন বসতে হয় না।

কিন্তু মজার ব্যপার হলো, আমাদের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই৷ তবে ইমার্জেন্সি কালে প্যরাস্যুটে উড়তে সমস্যা হতো বলে এ সমাধান। একইভাবে, উচ্চতার শর্ত পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের এখন ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি হতেই হবে।

কারণ মাথার উপরের ইকুইপমেন্ট বিনের নাগাল পেতে হয়। আবার, ৬ ফুট ১ ইঞ্চির বেশি লম্বা হলেও চলবে না। কারণ, বেশি লম্বাদের মাথা সিলিং-এ আটকে যায়। তবে উচ্চতার শর্ত এয়ারক্রাফ্টের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে।

# উদ্ভট কারণে কোনো অনুভূতি থাকতে নেই
নতুন বিমানসেবিকাদের প্রথম ৬ মাস খুব কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়।এক বিমানসেবিকার সোয়েটার কোমরের কাছে একটু আটোঁসাটোঁ হওয়ায় তাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল। এক নবাগতকে বেত্রাঘাত সইতে হয়েছিল। কারণ, সে পূর্ণসদস্যের সুবিধা দাবি করেছিল।

বিমানের খরচে সে দেশে ফিরতে চেয়েছিল। (ইন্টার্নশিপ শেষ না করা পর্যন্ত বিমানবালারা যাতায়াত খরচ পাই না) কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যখন  একটু অসুস্থ বোধ করা হয়।

যদি ভুল করেও একটু অসুস্থতার কথা কেউ বলে, তবে আর তার আকাশে ওড়া হয় না। এমনকি সে যাত্রী হিসেবেও দেশে ফিরতে পারে না। এ কারণে তাৎক্ষনিক ভাবে অনেককেই বরখাস্ত করা হয়েছে।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন