সর্বশেষ
রবিবার ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৮ নভেম্বর ২০১৮

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ৫ সাহসী নারী

সোমবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৫

2118153121_1449480175.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে তরুণদের পাশাপাশি নারীদের অবদান অনেক। আমাদের আলোচনায় বেশিরভাগ সময়ই এই মহান মুক্তিযোদ্ধা নারীদের নাম উঠে আসেনা কিংবা তাদের কৃতিত্ব বা অবধানের কথা প্রকাশ করা হয়না। কিন্তু যেসব মহান ও দেশপ্রেমিক মহান নারীরা তাদের জীবন বিপন্ন করে দেশকে ভালোবেসে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো তাদের অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাস কখনো ভুলে যাবে না।

ব্রিটিশ বিরোধি আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামে পুরুষের সাথে নারীরাও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ডিসেম্বর মাসে তাই থাকে তেমনি ৫ সাহসী নারী যারা মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন।

কাঁকন বিবি
মহান মুক্তিযুদ্ধে ২০টিরও বেশি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনামগঞ্জের নূরজাহান বেগম ওরফে কাঁকন বিবি। তিনি এলাকায় ‘খাসিয়া মুক্তি বেটি’ নামে পরিচিত। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে প্রথম বিয়ে করেছিলেন বাংলা বাজারের মাহীদ আলীকে। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন পাঞ্জাবী সীমান্ত রক্ষী আব্দুল মজিদ খাঁ-কে।

ঠিক তখনি শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বামী পাকিস্তানী হওয়ায় কাঁকন বিবি বিভিন্ন সময় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প-এ যেতে পারতেন এবং ক্যাম্প থেকে খবর এনে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। মজিদ খাঁ হঠাৎ নিখোঁজ হলে স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে কাঁকন বিবি পাক হানাদারদের ক্যাম্পে বন্দী হন। সেখানে তিনি অবর্ননীয় নির্যাতনের স্বীকার হন। ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন। এখানে তিনি সংবাদবাহক হিসেবে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিবহনের কাজ করেন এবং সম্মুখ যুদ্ধেও অংশগ্রহন করেন। তবে ছদ্মবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র যোগান দেয়াই ছিল তার মূল কাজ। মুক্তিযোদ্ধারা হানাদারদের আগমন প্রতিরোধ করার জন্য জর্ডিয়া ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে গভীর রাতে কলাগাছের ভেলায় সব অস্ত্র, গোলাবারুদ বয়ে নিয়ে সহযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

তারামন বিবি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। তারামন বিবির জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলার রাজীবপুরের কাচারিপাড়ায়। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।

তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন। তিনি তার সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন। অনেকবার তাদের ক্যাম্প পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে, তবে ভাগ্যের জোরে তারামন প্রতিবার বেঁচে যান।

শিরিন বানু মিতিল
১৯৭১ সালে পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী ছিলেন শিরিন বানু মিতিল৷ ২৭ মার্চ রাতে পুলিশ লাইনের যুদ্ধ শুরু হয়৷ ছেলেদের পাশাপাশি তখন অনেক মেয়েরাও যুদ্ধে নামার কথা ভাবতে শুরু করে৷ মিতিল শার্ট প্যান্ট পরে কিশোর যোদ্ধা সেজে যুদ্ধে অংশ নেন৷ পরে শিরিন বানু মিতিল প্রশিক্ষণের জন্য ভারত চলে যান৷ গোবরা ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি৷ পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কলকাতায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিতে থাকেন৷

আশালতা
আশালতা সেন ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি ও সমাজসেবক। ১৮৯৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে তাঁর জন্ম। পিতা বগলামোহন দাশগুপ্ত ছিলেন নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কার্যকররূপ নিলে বিক্রমপুর অঞ্চলে স্বদেশী প্রচারের জন্য তিনি অপরিসীম পরিশ্রম করেন। ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর ‘লবণ আইন’ অমান্য আন্দোলনের সময় আশালতা সেনের অসাধারণ সাহস ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি বেশ কিছু নারী সংগঠন তৈরি করেন। যার মধ্যে জাগ্রত সেবিকাদল (১৯৩০, ঢাকা), রাষ্ট্রীয় মহিলা সঙ্ঘ (১৯৩১, বিক্রমপুর), নারীকর্মী শিক্ষা কেন্দ্র (১৯৩১, ঢাকা) এবং কংগ্রেস মহিলা সঙ্ঘ (১৯৩৯) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আশালতা সেন এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কয়েকটি গানও রচনা করেন।

রওশন আরা
রওশন আরা ১৯৩২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর সিলেটের কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সংগ্রামী। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যে সমস্ত ছাত্র নেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন তিনি তাদের অন্যতম। তিনি ১৯৬৫ সালে বি এড এবং ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এম এ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // টি এ এই লেখাটি ২৪৩৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন