সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মুক্তি পেল হুমায়ূনের গল্প অবলম্বনে 'অনিল বাগচীর একদিন'

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৫

1991393013_1449838943.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী অবলম্বনে বহুল প্রত্যাশিত ছবি ‘অনিল বাগচীর একদিন’ অবশেষে মুক্তি পেল।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশব্যাপী মুক্তি পেল হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অনিল বাগচীর একদিন’। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।

শুক্রবার মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটির গল্প এগিয়ে চলে এক ২৬ বছরের যুবককে কেন্দ্র করে। তার নাম অনিল বাগচী। ছোটবেলা থেকেই ভীতু প্রকৃতির। সে কাজ করে ঢাকার একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে, থাকে মেসে।

সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে চলে আসেন অনিলের স্কুলশিক্ষক বাবা ও একমাত্র বড়বোন অতসী। তারা থাকেন রূপেশ্বর গ্রামে। জন্মের সময় মা মরা অনিল বেড়ে ওঠে বাবার স্নেহ ও মমতায়। সৎ ও আদর্শবান বাবা অনিলকে তার মতো করেই গড়ে তুলতে চান।

সিনেমায় অনিলের বড়বোন অতসী ভালোবাসে এক মুসলমান ছেলেকে, কিন্তু সেই ভালোবাসার কথা কাউকে প্রকাশ করতে পারে না। গোপনে ধারণ করে চলে হৃদয়ে। এর পর শুরু হয় বাঙালি জাতির অস্তিত্বের লড়াই, ১৯৭১।

এসময়ই অবরুদ্ধ ঢাকায় একদিন খুব ভোরে একটি চিঠি পায় অনিল। রুপেশ্বর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চিঠিতে জানান, অনিলের বাবাকে মিলিটারিরা মেরে ফেলেছে। বোন অতসী আছে হেডমাস্টারের বাসায়।

হেডমাস্টার অনিলকে আসতে বারণ করেন, কারণ গ্রামটি এখন যুবকদের জন্য নিরাপদ নয়। কিন্তু অনিল সিদ্ধান্ত নেয় সে যাবে। যাত্রাপথ খুবই বিপদের, তারপরও অনিল অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসে করে রওনা দেয় রুপেশ্বর গ্রামের দিকে। চরম অনিশ্চিত যাত্রা!

প্রয়াত নন্দিত কথাশিল্পীর মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসটিতে পাওয়া যায় মানবিকতা, রসবোধ, হাহাকার, স্বতন্ত্র দর্শন, আরো কতো কি! আর সেগুলোরই প্রকাশ ঘটাতে চেষ্টা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। আর তারই কিছু প্রকাশ পায় অনিলের সেই অনিশ্চিত যাত্রা পথে।

বাসে  অনিলের পরিচয় হয় মধ্যবয়স্ক আয়ুব আলীর সঙ্গে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত। তার সংলাপগুলো শুনলেই দর্শকদের হাসি পায়! লোকটা চরম বিরক্তিকর মানুষ।

আয়ুব আলীকে খুবই প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ মনে হলেও ধীরে ধীরে তার মানবিক দিকটিও স্পষ্ট হতে থাকে অনিলের কাছে। অনিলকে সে শিখিয়ে দেয়, পথে পাকবাহিনী ধরলে অনিল যেন হিন্দু পরিচয় লুকিয়ে তার শ্যালক মহসিন বলে পরিচয় দেয়।

তবে অনিল তার হিন্দু পরিচয় লুকিয়ে রাখেনি। আয়ুব আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে অনিলকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে, কিন্তু কিছুতেই বাঁচাতে পারে না অনিলকে।

ধরে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আয়ুব আলীকে অনিল অনুরোধ করে যেন তার বোনের সঙ্গে দেখা করে তার পছন্দের ছেলেটিকেই বিয়ে করতে বলে। তবে এখানেই শেষ নয়। গল্পের আরো খানিকটা বাকি!

সিনেমাটিতে সানী জুবায়েরের সুরে দেশাত্মবোধক গানটি শুনলে আবেগপ্রবণ না হয়ে পারবেন না শ্রোতারা! সঙ্গে রয়েছে এল. অপু রোজারিও চিত্রগ্রহণ, রতন পালের সম্পাদনা ও শব্দমিশ্রণ, অশোক কুমার ঘোষের শিল্প নির্দেশনা।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, মধুমিতা, বলাকা, শ্যামলী, ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে বেঙ্গল ক্রিয়েশন্স প্রযোজিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’।

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার কাহিনী অবলম্বনে এটিই প্রথম ছবি।

ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর এ এই লেখাটি ১৩৪৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন