সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

ফুলকপি ছুঁড়ে ড্রোন নামালেন চাষি

শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

741718925_1449921923.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বক্সীগঞ্জে পদ্মাপাড়ের মতো কলকাতার অদূরে পোলেরহাটে হাট বসে ফি শুক্রবার। বিদ্যাধরীর পাড়ে ঠিক নয়, তার একটি শাখার কাছাকাছি। বাজার ভালো গেলে অন্য দিনও মাঝে মাঝে বসে। এদিন হাট ছিল জমজমাট। এসেছিল প্রচুর ফুলকপি, বাঁধাকপি আর ওলকপি। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন হাটের একটু বাইরে, আর হাটের ওপর বোঁ বোঁ করে উড়তে উড়তে ছবি তুলছিল একটা ড্রোনমান, চালকবিহীন আকাশযান। আকাশ থেকে অমন একটি আজব বস্তুকে কাছাকাছি নেমে আসতে দেখে আচমকাই হাতে থাকা কপি ছুঁড়ে সেটাকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন এক কৃষক। তারপর কী হইল জানে শ্যামলাল। মাটিতে পড়ার পর থেকেই উধাও ড্রোনের ক্যামেরাটি। তারপর মন্ত্রী-সান্ত্রী-থানা-পুলিশ... একেবারে হইহই কাণ্ড, রইরই ব্যাপার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরী বললেন, ‘কাশীপুর থানার পুলিশ তো ক্যামেরাটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্ত্ত রাত পর্যন্ত তার কোনও হদিস নেই। দেখা যাক। চেষ্টার তো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না।'

কিন্তু যে যন্ত্র নিয়ে এত কাণ্ড, সেই ‌ড্রোনের মালিকটা কে? রহস্য দানা বেঁধেছে তাই নিয়ে। পুলিশ সুপার বলেন, 'সে আমরা বলতে পারব না।'

কাশীপুর থানা অবশ্য জানিয়েছে, ড্রোনটি উদ্যান পালন দপ্তরের। স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছেও সে রকমই খবর। কিন্তু উদ্যান পালন দপ্তরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘আমার দপ্তরের ‌ড্রোন-টোন নেই। তাছাড়া, আমি তো আজকেই কলকাতায় দপ্তরের অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এমন ঘটনার কথা কেউ জানাননি তো।’

গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, ড্রোনটি কৃষি দপ্তরের। কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন, ‘এই ঘটনাটি জানা নেই। তবে কৃষিদপ্তর চাষের বিকাশে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

কিন্তু কেন কপি ছুঁড়ে নামানো হল ড্রোনটা? একজন চাষি বললেন, ‌‌'একে তো কপির দাম পাচ্ছি না, তার উপরে মাথার কাছে ঘড়ঘড় করে উড়ে বেড়চ্ছে। তাই রাগের বশে কপি ছুঁড়ে মেরেছে লোকটা।'

আর একজন বললেন, ‌'না না, রাগ নয়। আসলে আচমকা কী একটা উড়ে মাথার উপরে এসেছে দেখে ঘাবড়ে গিয়ে কপি ছুঁড়ে মেরেছে।' কিন্তু কে ছুড়ে মারল? হাটের লোকেদের বক্তব্য, লোকটা ভাঙড়েরই। মাঝেরহাট গ্রাম থেকে এসেছিল, নাম জানি না। তারপর খোঁজ, খোঁজ রব। কারণ ড্রোন পাওয়া গেলেও, তাতে লাগানো ক্যামেরাটা গেল কোথায়?

ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশকর্মীদের নিয়ে ক্যামেরা খুঁজতে চলে আসেন কাশীপুর থানার ওসি সুভাষ ঘোষ। চলে আসেন ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মিজানুর আলম, সঙ্গে তৃণমূলের লোকলস্কর। বাজারি, হাটুরে, পুলিশ, তৃণমূল সকলে মিলে শুরু করেন খোঁজাখুজি।

ইতোমধ্যে ফোন আসে ময়ূখ ভবন থেকে, ওখানেই উদ্যানপালন বিভাগের কর্তারা বসেন। ফোন পাওয়ার পরে কপির পাতা উল্টে-পাল্টে শুরু হয় ক্যামেরা খোঁজা। ওসিকে ফোন করেন পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরী। ফোন আসে নাকি নবান্ন থেকেও। লোকে বলছে, ভোটের আগে সাফল্য নিয়ে তথ্যচিত্র বানাচ্ছে সরকার। কৃষি আধিকারিকরা, যারা বাজারের বাইরে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিলেন, তারা এ নিয়ে স্পিকটি নট।

ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আবদুর রহিম বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ে একটি ভিডিও শ্যুটিং হচ্ছিল উদ্যানপালন দপ্তরের তরফে। কপিটি যিনি ছুঁড়েছিলেন, তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। ক্যামেরাটি উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশও মাইকে করে প্রচার শুরু করে দেয়, ঘোষণা হয়, সরকারি একটি ক্যামেরা হারিয়ে গিয়েছে। কেউ পেয়ে থাকলে ফেরত দিন। না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে...।’

কিন্তু কার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা? না, সাহস করে এ কথা কেউ জিজ্ঞেস করেনি পুলিশকে। উল্টে যেখানে বেলা তিনটে পর্যন্ত হাট চলে সেখানে এগারোটার খানিকটা পরেই হাট ফাঁকা। ক্যামেরার হদিস এখনও নেই। পুলিশ কর্তারা ভাবছেন, এর চেয়ে বরং গরু খোঁজা সহজ। সূত্র: এই সময়।


ঢাকা, শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৩২৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন