সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উচ্চশিক্ষা: দেশের বাইরে পড়তে যাওয়াদের অভিজ্ঞতা

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫

281419208_1450165735.jpeg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যেতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। পুরো ব্যাপারটি অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ ও সতর্কতা। দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ভবিষ্যতে কোথায় নিজেকে দেখতে চান সেটা স্থির করতে হবে। পাশাপাশি ঠিক করতে হবে কোন দেশে পড়লে লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। এবার পছন্দের বিষয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ। কোথায়, কোন বিষয়ে এবং কেন পড়তে চান। সেগুলোর উত্তর মিলে গেলে আবেদন শুরু করতে পারেন। অনলাইনে আবেদন করলে খুলতে হবে অ্যাকাউন্ট।  ভিনদেশে পড়তে যাওয়া কয়েজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের কিছু অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থীদের জন্য তা তুলে ধরা হল:

বিপাশা দেবনাথ
ইউনিভার্সিটি অফ ড্রেসডেন, জার্মানি

জার্মানির স্যাক্সোনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন, যা স্টুডেন্ট সিটি নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ড্রেসডেন এর কারণে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ইংরেজি মাস্টার্স কোর্সের মধ্যে অর্গানিক এন্ড মলিকিউলার ইলেক্ট্রনিক্স সবচেয়ে নতুন এবং এই প্রোগ্রামে মাস্টার্স করার জন্যে গত বছরের অক্টোবরে ২০১৩-২০১৪ শীতকালীন সেমিস্টারে প্রথমবারের মতন দেশের বাইরে আসি নিজের চেষ্টায়। প্রথমদিকের নতুন পরিবেশ আর জড়তা সবকিছুই অনেক সহজ হয়ে গেছে জার্মানদের সহযোগিতা আর অমায়িক ব্যবহারে। আমাদের দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখানেই পড়াশুনা অনেক কঠিন আর একদম ভিন্ন, যেমন পরীক্ষা বেশিরভাগ মৌখিক হয়। ভবিষ্যতের ইচ্ছে অর্গানিক ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে গবেষণা করার। প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর পড়াশুনার মাঝে অনেক কিছুই নতুন করে শিখছি, জানছি এই নিয়মানুবর্তিতার দেশে।

তাহমিনা জামান
ইউনিভার্সিটি অব নেপলিস ফেডারিকো, ইতালি

দেশের বাইরে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বেশ আগে থেকে প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিশেষত কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, ভালো একটা গাঁথুনিও দরকার বলে মত দেন অভিজ্ঞরা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশে প্রধান ভাষা ইংরেজি হওয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিশেষ অসুবিধা হয় না। কিন্তু চীন, জাপান, রাশিয়া, ফ্রান্স বা জার্মানির মত দেশগুলোয় প্রধান ভাষা ইংরেজী নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব দেশে পড়তে যেতে হলে ঐ দেশের ভাষাটা শিখে গেলে সুবিধা হয়। কিন্তু এসব দেশেও ইংরেজীতেও পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ইংরেজীতে দক্ষতা যাচাই করার জন্য বিশ্বজুড়ে দু'টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে, একটি আইইএলটিএস এবং অন্যটি টোফেল।

আরেফিন রিয়াদ
নেইল ব্রোক, ডেনমার্ক

বিভিন্ন দেশে খরচ বিভিন্ন রকম। ইউরোপ বা আমেরিকায় স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে চাইলে বছরে আট থেকে দশ লাখ টাকা গুণতে হবে। ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হলে আইইএলটিএস স্কোর ৫.৫ থেকে ৬.৫ এবং ইন্টারনেট বেজড টোফেল স্কোর ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মাত্রায় স্কোর চাওয়া হয়। আর শিক্ষার্থী পড়াশোনার ব্যয়ভার বহনে সক্ষম এটা প্রমাণের জন্য ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট তো লাগবেই। বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে যাওয়ার অনেক সুবিধা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রতিমাসেই বিদেশি বৃত্তির খবর থাকছে আর ঢাকা গাইডের স্কলারশীপ বিভাগও দেখতে পারেন।

ফায়জুল হক
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। দূতাবাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভিসার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখে একথা অনুমান করা যায়। জেনে নিতে হবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রাথমিক প্রস্তুতির বিস্তারিত। মূলত আপনি ভাল ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিদেশে পড়তে যাবেন। আপনার বিগত সময়ের পরীক্ষার ফলাফল ভাল না হলে উচ্চশিক্ষার প্রশ্নই আসে না। যারা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হবেন তাদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে ভাল ফল থাকতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন ভাষাগত দক্ষতা। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজীর প্রাধান্য বিশ্বব্যাপী। প্রায় পৃথিবীর সব দেশেই ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা করা যায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইংরেজী বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

মকবুল হোসেন
অ্যাঞ্জেলিনা রাকসিন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনার পরিবার খরচের যোগান দিতে পারবে কি না। এছাড়া পরিবারের সদস্য ছাড়া যদি অন্য কেউ আপনার ব্যয়ভার বহন করে তাহলে তার সঙ্গে আপনার কি সম্পর্ক তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হন। প্রতিটি দেশের ভিসা অফিসার চান শিক্ষার ব্যয়ভার বহনকারীর সঙ্গে যেন শিক্ষার্থীর রক্তের সম্পর্ক থাকে। আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ প্রতিটি দূতাবাসেই ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। যা ব্যাংক থেকে গ্রহণ করতে হবে। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিক্যাল সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ভর্তির প্রাথমিক অনুমতি জানিয়ে যে চিঠি দিবে তাই অফার লেটার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত অফার লেটার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার বার পড়তে হবে। ভালভাবে জেনে নিন টিউশন ফির পরিমাণসহ অন্যান্য বিষয়।

মোস্তাফিজুর রহমান
সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, ভারত

প্রত্যেকেরই পছন্দের বিষয় থাকে। কি বিষয় নিয়ে আপনি পড়তে আগ্রহী প্রথম সে বিষয় নির্বাচন করুন। কারও কথায় বা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া কোন বিষয়ে পড়তে না যাওয়াই ভাল। অনেকেরই পছন্দের দেশ বা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় থাকে। আপনার এরকম কোন পছন্দ থাকলে সেটাকে গুরুত্ব দিন। পড়াশোনার জন্য প্রথম সারির দেশ হচ্ছে— আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, জার্মানী, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম প্রভৃতি। বিদেশে আপনার পরিচয় বহন করবে পাসপোর্ট। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা করার পর আপনার প্রথম কাজ পাসপোর্ট তৈরি করা।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ২৮২৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন