সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

বরিশালের বীরঙ্গনা বিভা আজ সেলাই দিদিমনি

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫

1437112149_1450190003.jpg
বরিশাল ব্যুরো :
১৯৭১ সালের বীরঙ্গনা বিভারানী আজ সেলাই দিদিমনি। সংসারের চাকা সচল রাখতে মাঝে মধ্যে তাকে ধাত্রীর কাজ করতে হয়। জীবনযুদ্ধে প্রতিবন্ধী সন্তান সাগরকে নিয়ে তার আরেক সংগ্রাম। বীরাঙ্গনাকে নিয়ে ঘর করতে রাজি না হওয়ায় স্বামীও তাকে ত্যাগ করেছে। আর জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় বৃদ্ধা বিভা রানী সন্তানকে নিয়ে সাগরে ভাসছেন।

তিনি বলেন, ‘সাগরকে নিয়ে আজ আমি সাগরে ভাসতাছি। জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন বাবা উমেশ চন্দ্রের আড়াই কাঠা জমিতে টিনের ঘর। এ টিনের ঘরেই একমাত্র ভাই উপেন্দ্র নাথ মন্ডলকে নিয়ে বিভা রানী সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসতেই বিভা রানী অনেকটা আনমনা হয়ে যান। বলতে থাকেন, আমার বাবা টরকীরচরে বহুদিন ধরে বসবাস করেছেন। উনি ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। এখানে আমরা ৪ বোন ও ১ ভাই ছিলাম। ১৯৭১ সালে আমি টরকী হাইস্কুলে অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলাম। জ্যৈষ্ঠ মাসে এখানে পাকিস্তানি মিলিটারীদের নিয়ে আসে স্থানীয় রাজাকাররা। চারিদিকে আগুন দিতে শুরু করে। লোকজন যে যেদিক পারে ছোটাছুটি করছিল। আমার বাবা তখন পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করেন। এমন সময় সবাই বাবাকে স্থান ত্যাগ করতে বললে বাবা আমাদের নিয়ে কালকিনির রমজানপুরের দিকে ছুটলেন। কিন্তু তখন আমরা দ্বিগবিদ্বিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলাম। আমিসহ বেশ কিছু (সঙ্গত কারণেই নাম উল্লেখ করা হলোনা) আখক্ষেতের মাঠে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে গেলাম। সেদিন এদের হাত থেকে আমরা কেউ রেহাই পাইনি। আমি নির্যাতনের কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। পরবর্তীতে আমাদেরকে বাবা খুঁজে ঘরে নিয়ে আসে। টরকী বন্দরে এসে আমরা দেখি বন্দরটি পাকিস্তানি আর্মিরা সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাবা দ্রুত শ্রাবন মাসে একই গ্রামের অনুকুল মজুমদার নামের একজনের সাথে আমার বিয়ে দেন। পরবর্তীতে আমরা দুটি পরিবারের ১০ জন টরকী থেকে নৌকাযোগে ৮দিন পর ভারতে গিয়ে পৌঁছাই। দেশ স্বাধীনের পর সবাই আবার দেশে ফিরে আসি। দেশে ফিরে আমার স্বামী যুদ্ধচলাকালীন সময়ে আমার ওপর রাজাকারদের নির্যাতনের কাহিনী জানতে পেরে হঠাৎ কিছু না জানিয়ে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে ছেলে সাগরের জন্মের ৪ মাস পর (১৯৮৮ সালে) পুনরায় ফিরে এসে আমাকে সে ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আগে তাঁতে লুঙ্গি বুনতাম। ছোটবেলা থেকেই সেলাইয়ের কাজ করতাম। তাই এখন অর্ডারে সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছি। মাঝখানে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবেও আমি ১০ বছর কাজ করেছি। যে কারণে আমাকে আসে পাশে ধাত্রীর কাজও করতে হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময়ে সম্ভ্রম হারানোর কারণে আমার সংসার জীবন ভেঙ্গে গেছে। আজো সরকারিভাবে আমি কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। এমনকি আমাদের কোন তালিকাও করা হয়নি। অথচ আমার জীবন কাহিনী স্থানীয় সকল মুক্তিযোদ্ধারা জানেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৮১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন