সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

একাকীত্ব দূর করতে গাধার সংস্পর্শ

সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫

1279098799_1451309996.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
তৃতীয় সুর, ষষ্ঠ সুর... গুপী গাইনকে শিক্ষা দিতে গাধার পিঠে চড়িয়ে তাকে গ্রামছাড়া করা হয়েছিল। গ্রামে-গঞ্জে কান পাতলে আকছার শোনা যায়, কাউকে চরম অপমান করতে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে গাধার পিঠে চাপানো হয়েছে। অবলা এই প্রাণীটি যেন লাঞ্ছনার আদর্শ প্রতীক। সেজন্যই বোধহয় ক্ষমতায় না কুলোলেও ভারী ভারী মাল চাপিয়ে দেওয়া হয় এদের পিঠে।

নির্বিকার, নির্লিপ্ত গাধার কোনো কিছুতেই কোনো হেলদোল নেই। মুমূর্ষু গাধাটাকে জল দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানেও। সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছিল, 'তবু গাধার বুদ্ধি দেখ, সে তোমায় ভালোবাসে'।

কথাটা যে ভুল নয়, এবার তারই প্রমাণ দিলেন এক দল গবেষক। কুকুর মানুষের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে স্বীকৃত হলেও, আধুনিক এক থেরাপি বলছে, গাধা মানুষের অনেক বেশি কাছের জন। গাধা সংস্পর্শ হতাশা কমাতে সাহায্য করে, একাকীত্বের সমস্যা মেটায়, বার্ধক্যের স্ট্রেস কমায়, এমনকী আত্মবিশ্বাস বাড়ায় শারীরিক দিক থেকে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের।

শুনে অবাক হলেও, ডংকি অ্যাসিস্টেড থেরাপি (DAT) ইতোমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেন ও ইউরোপে। দেশের ডংকি স্যাংচুয়ারিপ ভেটেরিনারি কো-অর্ডিনেটর ড. রমেশ কুমার জানিয়েছেন, আমেদাবাদে এটা এখনও স্বীকৃত নয়। আমেদাবাদে ডংকি থেরাপি সেন্টারে ৪৭টি গাধা রয়েছে। নির্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক বিপরীতে ছারোধির এই সেন্টারে গত দু মাস ধরে থেরাপি সেশন শুরু হয়েছে।

DAT কী?

মোটিভেশন বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করে গাধা। এই থেরাপির মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের বিকাশে গাধা উত্‍‌সেচকের মতো কাজ করে। এছাড়াও যে প্রাপ্তবয়স্করা হতাশায় ভুগছেন, তাদের সাইকো কগনিটিভ ডেভলপমেন্ট প্রসেসে বিশেষ ভূমিকা নেয় গাধা। গাধায় চড়িয়ে ও তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে প্রয়োগ করা হয় ডংকি অ্যাসিস্টেড থেরাপি।

DAT সেন্টারে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের গাধার পিঠে চড়ানো হয়। ড. রমেশ কুমারের মতে, হতাশা কমার পাশাপাশি সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেছেন, 'গাধা একটা নিরীহ প্রাণী, যে খুব ভালো পোষ্য হতে পারে। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে এই পশুটির সঙ্গে একটা কালো অধ্যায় জড়িয়ে আছে।'

DAT প্রকল্প প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছিল আফ্রিকায়। এই থেরাপির মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত সেখানকার ৪০,০০০ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুর এক ইতিবাচক ফল পেয়েছে। আমেদাবাদের এই থেরাপির জন্য দুটি গাধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই থেরাপির প্রতি মানুষকে আরও বেশিমাত্রায় আকৃষ্ট করতে এর জন্য বর্তমানে কোনও টাকা-পয়সা নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন ডঃ কুমার।

এলাকার বিভিন্ন স্কুল থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে তারা ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুটি গাধাকে নিয়ে গিয়ে এই থেরাপি প্রয়োগ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই সময়।

ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৮৯৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন