সর্বশেষ
রবিবার ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৮ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বে ধনীদের ক্লাবে বাড়ছে নারী ধনকুবেরের সংখ্যা

শনিবার, জানুয়ারী ২, ২০১৬

1603323717_1451712299.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস ও যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস ‘বিলিয়নিয়ার ইনসাইটস: দ্য চেঞ্জিং ফেসেস অব বিলিয়নিয়ারস’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। তাতেই প্রকাশ পেয়েছে গত বিশ বছরে ধনকুবের ক্লাবে নারী সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে সাত গুণ পর্যন্ত। এগিয়ে থাকা এই নারীদের মধ্যে আবার এশীয় নারীর সংখ্যাই বেশি।

এতকাল পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের মধ্যে ল’রিয়েলদের উত্তরাধিকার লিলিয়ান বেটেনকোর্ট এবং ওয়ালমার্ট পরিবারের ক্রিস্টি ও অ্যালিস ওয়ালটনকে নিয়ে বেশি আলোচনা ছিল। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে নিজের চেষ্টায় বড় হয়েছেন চীন, হংকং ও ভারতের এমন সব নারী। প্রতিবেদনটি বলছে, তাদের এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে অ্যাথেনা ফ্যাক্টর। গ্রিক পুরাণের অ্যাথেনা সুখ্যাত ছিলেন তাঁর জ্ঞান, সাহস আর প্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতার জন্য। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন এই তিনটি শক্তির ফলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধনকুবেরদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা এখনো বেশি, তবে এ দৌড়ে নারীরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৫ সালে সারা বিশ্বে ধনকুবেরদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ২২ জন, ২০১৪ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৫ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৭ শতাংশ, ইউরোপে ৬৩ শতাংশ এবং এশিয়ায় ৯৬ শতাংশ ধনকুবের নারী প্রতিনিয়ত সম্পদ বৃদ্ধি করে চলেছেন।

এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান এখন খালি চোখে দেখা যায়। গত ১০ বছরে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা তিন থেকে ২৫-এ এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা পরিবারের আদি ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন, ২৪ শতাংশ নারী পৈতৃক ব্যবসার সঙ্গে যোগ করেছেন নতুন নতুন ব্যবসাও। তারা আবাসন খাত, শিল্প কলকারখানা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায় সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। দেখা গেছে নারীরা স্বামী বা বাবার মৃত্যুর পর ব্যবসার হাল ধরেছেন, ব্যবসা বাড়াতে সাহস করে ঝুঁকি নিয়েছেন, ভালোভাবে ঝুঁকি সামাল দিয়েছেন। তাদের সামনে অর্থনৈতিক সংকট, করের ঝামেলা, সম্পদ ও মালিকানা হস্তান্তরের ঝামেলা এসেছে, তারা উতরে গেছেন। আবার অনেক পরিবারে ধনকুবের বাবা মেয়েকে উত্তরাধিকার হিসেবে গড়েছেন এমন উদাহরণ আছে।

তবে প্রতিবেদনটি বলছে, ধনকুবের নারীদের ৫২ শতাংশই প্রথম প্রজন্মের ধনী। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সম্পদ ঠিক কারও হাতেই জমা থাকছে না। দুই দশকে ধনকুবেরের সংখ্যা চার গুণ পর্যন্ত বাড়লেও ১৯৯৫ সালে যত ধনকুবের ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টিকে ছিলেন ৪৪ শতাংশ। এখন ধনকুবের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে, পুরুষদের পেছনে ফেলে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন, ধনকুবেরদের মধ্যে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ যুক্ত হয়েছেন।

যে নারীরা প্রথম প্রজন্মের ধনকুবের, তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন।
প্রতিবেদনটিতে নাম উল্লেখ না করে এক ধনকুবের নারীকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। কীভাবে সফল হয়েছেন তিনি, তার বিবরণ ছিল এই রকম—‘খুব কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে আমি বিদেশে পড়তে আসি। বিদেশে গিয়েই কারখানায় কাজ নিলাম। তারপর টাকা জমিয়ে লেখাপড়ার শুরু। ফিরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করলাম। দেখলাম পড়ালেখার চেয়েও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতাটা বেশি কাজে লাগছে।’

নারী ধনকুবেররা অনেক মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তারা শক্তভাবে পরিবারের যে প্রতিশ্রুতি তা রক্ষা করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির শেষ অধ্যায়ের নাম ‘চেঞ্জ ইজ কনস্ট্যান্ট, ইভেন ইন দ্য এলিট ওয়ার্ল্ড অব বিলিয়নিয়ারস’ (পরিবর্তন হচ্ছে নিয়ত, এমনকি ধনকুবেরদের জগতেও)। এ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, যদিও এখনো নারী ধনকুবেররা সংখ্যালঘু, তবু এ কথা বলাই যায় যে নারীদের সম্পদশালী হওয়ার সুযোগ আছে। যাঁরা বেশ কয়েক প্রজন্মের ধনী, তারা নারীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে বড় করতে পারেন। আর এশিয়ায় নারীদের অবস্থান আরও পোক্ত হবে, উদ্যোক্তা হিসেবে তারা ক্রমশ ভালো করতে থাকবেন।


ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ২, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৬৩৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন