সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাতারে লক্ষাধিক মানুষের কাজের সুযোগ

বুধবার, জানুয়ারী ৬, ২০১৬

392089250_1452060519.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আগামী ২০২২ সালে মুসলিম দেশ কাতারে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২২তম আসর। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ৯টি ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম ও ৬টি শহরকে ঢেলে সাজাতে বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে লক্ষাধিক শ্রমিক নেবে কাতার সরকার।

এর আগে দেশটি ফিলিপাইন, নেপাল ও ভারত থেকে কর্মী নিলেও এবার বাংলাদেশকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
নিবন্ধন ছাড়া কেউ দেশের বাইরে কাজে যেতে পারবে না। বিদেশে চাকরির উদ্দেশে যেতে ইচ্ছুক যেসব কর্মী সরকারি ডাটাবেইসে নাম নিবন্ধন করেছে তারা যাওয়ার সুযোগ পাবেন। যারা এখনও ডাটাবেইসে নাম নিবন্ধন করেননি, তারাও নতুন করে নিবন্ধনের মাধ্যমে কাতার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। যারা আগে নিবন্ধন করেছেন, তাদের আবার নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না। কাতারের রিক্রুটিং এজেন্সি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠাবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশী এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দেয়া হবে। এতে ভিসা ট্রেডিংয়ের সুযোগ থাকবে না। ডাটাবেইস থেকে লটারির মাধ্যমে চাহিদাপত্রের তিনগুণ কর্মীর তালিকা রিক্রুটিং এজেন্সিকে দেয়া হবে। সেখান থেকে তারা কর্মী বাছাই করে কাতারে পাঠাবে।

যারা এখনও নিবন্ধন করেননি
কাতারে যাওয়ার ইচ্ছা আছে অথচ এখনও নিবন্ধন করেননি তারা এখনও নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যভাণ্ডারে চাকরিপ্রার্থীদের নাম নিবন্ধন করতে হবে। ৫ মার্চ থেকে সারা দেশে নারী কর্মীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আপাতত পুরুষ কর্মীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। ২৮ মার্চ মহিলা কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আবার আগের নিয়মে পুরুষ কর্মীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।
নিবন্ধন করতে যা করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে এবং দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নাগরিকত্ব সনদপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও অন্যান্য সনদের (যদি থাকে) সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সারা দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগে নিবন্ধন করা যাবে। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সেখান থেকে নিবন্ধন করতে হবে। ডাটাবেইসে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর প্রার্থীর ছবিসহ একটি আইডি কার্ড দেবে। এই কার্ডে একটি সিরিয়াল নম্বর থাকবে, এর মাধ্যমে প্রার্থীর তথ্য শনাক্ত করা যাবে।

রিক্রুটিং এজেন্সিই ভরসা
কাতারে শ্রমিক যাওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা রিক্রুটিং এজেন্সি। তবে কর্মীদের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করা হয় এবং কোনো কর্মী প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি করবে সরকার। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারবে না। ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির শরণাপন্ন হয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেকেই। একটু সতর্ক হলে এসব প্রতারণা এড়ানো যায়। যোগাযোগ করতে হবে সরকার অনুমোদিত বৈধ এজেন্সির সঙ্গে। সরকার অনুমোদিত বৈধ এজেন্সির তালিকা পাওয়া যাবে বিএমইটির www.bmet.gov.bd/BMET/raHomeAction এই ঠিকানায়।

কোথায় কাজ শিখবেন
কাতার যেতে চাচ্ছেন অথচ আপনার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা নেই। কোনো সমস্যা নেই। প্রথমেই বিএমইটির তালিকায় নিবন্ধন করে সেখান থেকেই কাজ শিখে নিতে পারবেন। বিএমইটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ নিজেকে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। সারা দেশে ৫১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কর্মীদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর পাওয়া যাবে www.bmet.gov.bd/BMET/trainingHomeAction এই ঠিকানায়।

ভাষা জানা জরুরি
কাতারে বসবাস ও কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় আরবি ভাষা। কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দ, কথোপকথন বা যোগাযোগের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে গেলে সুবিধা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট, ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউট, মাদ্রাসা-ই-আলীয়া ঢাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন ভাষা শিক্ষণ প্রকল্প প্রভৃতিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে আরবি শেখানো হয়। বই পড়েও শেখা যায় আরবি ভাষা। সরকারিভাবে ভাষা শেখানোর জন্য সম্প্রতি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চালু করা হচ্ছে আরবিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা কোর্স।

খরচ কত
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিসা ট্রেডিং বন্ধ করতে আমাদের প্রস্তাবে কাতার সরকার রাজি হয়েছে। ফলে খরচ কমে যাবে। আমার এই সফরের মূল লক্ষ্য সেই খরচ কমিয়ে আনা। আমি চাই সেই খরচ শূন্যে নেমে আসুক। তবে বিএমইটি বলছে, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ বাবদ গুনতে হবে দুই থেকে চার হাজার টাকা। পাসপোর্ট তৈরিতে প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অন্য সব খরচাপাতি বহন করবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগে একজন কর্মীর কাতারে যেতে তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হতো, এখন তা হবে না। কর্মীদের কাতার যাওয়া, ভিসা ও অন্যান্য খরচ বহন করবে দেশটির জনশক্তি আমদানিকারকরা।

বেতন কত
কাতারে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানি চলমান প্রক্রিয়া। গত বছর কাতারে ৮৭ হাজার লোক পাঠানো হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার জানিয়েছেন, কাতারে কর্মপরিবেশ খুব ভালো, ইতিমধ্যে যারা কাতারে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন, তাদের কোনো বিষয়ে অভিযোগ নেই। কাজের ওপর ভিত্তি করে কাতারে কর্মীদের পারিশ্রমিকও বেশ ভালো দেয়া হয়। কাজের শুরুতেই একজন কর্মী প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। তবে কাজভেদে পারিশ্রমিক ভিন্ন হবে। আবাসন ও বীমা সুবিধাও পাবেন কর্মীরা।
 
কোথায় যোগাযোগ করবেন
কাতারে যাওয়ার জন্য আরও তথ্য জানতে যোগাযোগ করতে পারেন প্রবাসী কল্যাণ ভবন, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, বোয়েসেল এবং বায়রার অফিসে। প্রবাসী কল্যাণ ভবন : ৭১-৭২, পুরনো এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা,www.probashi.gov.bd. জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো : ৮৯/২, কাকরাইল, ঢাকা, www.bmet.gov.bd. বোয়েসেল : ৭১-৭২ এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন ঢাকা, www.boesl.org.bd.বায়রা : বায়রা ভবন, ১৩০ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা।


ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ৬, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // ম পা এই লেখাটি ৪৮৩৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন