সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফের বিশ্বের শেয়ারবাজারে হতাশা ছড়াল চীন

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৬

50487380_1452156437.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বছরের শুরুতেই বড় ধরনের হোঁচট খেল বিশ্বের শেয়ারবাজার। ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের দামে ধস নামায় বড় দরপতন হয়েছে চীনের শেয়ারবাজারে। এতে আজ বৃহস্পতিবার চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

নতুন সার্কিট ব্রেকার আইন অনুসরণ করায় মূল্যসূচক ৭ শতাংশের বেশি পতন হলে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ চীনের শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বিবিসি জানায়।

গুজব ও হুজুগে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বেচা-বিক্রি ঠেকাতে বছরের প্রথম কার্যদিবস গত সোমবার থেকে চীনের শেয়ারবাজারে নতুন সার্কিট ব্রেকার আইন প্রবর্তন করা হয়। ফলে এখন থেকে সাংহাই ও শেনজেন এক্সচেঞ্জের সিএসআই-৩০০ মূল্যসূচক ৫ শতাংশ পতনে ১৫ মিনিট লেনদেন স্থগিত রাখা হবে। আর এ সূচক ৭ শতাংশ পতন হলে দিনের বাকি সময়ের জন্য লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে।

তবে বিশ্লেষকরা এ বিষয়টির সমালোচনা করে বলেছেন, বেইজিং শুধু শেয়ারবাজারের দরপতন ঠেকানোর জন্য এ ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে।

চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির মন্থর গতিতে চিন্তিত দেশটির নীতিনির্ধারকরা। মূলত এ কারণে রপ্তানি বাড়াতে ইউয়ানের দুর্বল নীতি গ্রহণ করেছে বেইজিং। তবে এই নীতির কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

চীনের শেয়ারবাজারে আজ লেনদেন শুরুর পর সিএসআই-৩০০ মূল্যসূচক ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩২৮৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। এ সূচক মূলত ব্লু চিপস খ্যাত ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম নির্দেশ করে।

গত সোমবার লেনদেন শুরুর পর সূচকটি ৫ শতাংশ পড়ে গেলে ১৫ মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। ফের লেনদেন শুরু করলে সাংহাই কম্পোজিট সূচক ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ পতন হয়। এতে সাংহাই ও শেনজেন শেয়ারবাজারের লেনদেন নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে বন্ধ হয়ে যায়।

চীনের প্রধান শেয়ারবাজার সাংহাইয়ের কম্পোজিট সূচক আজ ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩১১৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট দাঁড়ায়। অন্যদিকে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শেনজেনের কম্পোজিট সূচক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট খুইয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় দেশটির শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন। এ ছাড়া বড় বড় বিনিয়োগকারী ৯ জানুয়ারি থেকে আগামী তিন মাস একক কোনো কোম্পানির শেয়ার ১ শতাংশের বেশি বিক্রি করতে পারবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২০১১ সালের মার্চের পর ইউয়ান সবচেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতি ডলারে ৬ দশমিক ৫৬ ইউয়ান মধ্যপয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করেছে পিপলস ব্যাংক অব চায়না। ইউয়ানের দরপতনে আঞ্চলিক অন্য মুদ্রাগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই আজ ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

এদিকে ইউয়ানের দাম কমায় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডলারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা পণ্য কেনা কমিয়েছেন।

চীনের শেয়ারবাজার বন্ধ থাকার ঘটনায় আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা লোকসান ঠেকাতে বিক্রি বাড়িয়ে দেন। এতে বেশির ভাগ সূচক নিম্নগামী ছিল। লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের ডাও জোনস ও এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক দেড় শতাংশের বেশি কমে।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // টি এ এই লেখাটি ৭৮৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন