সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপে ইউরোপে পড়াশোনা

মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬

215267223_1469533478.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যেসব স্কলারশিপ বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ’। কিভাবে এ স্কলারশিপ পাবেন, কিভাবে আবেদন করতে হবে এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রামকৃষ্ণ মজুমদার। চলুন জেনে নেয়া যাক :

প্রতি বছর ইউরোপিয়ান কমিশন থেকে সারাবিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ স্কলারশিপের অধীনে ইউরোপের প্রায় সব দেশেই নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এ ‘ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ’ দেওয়ার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্কলারশিপের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংস্কৃতির আদান-প্রদান, পড়াশোনার পাশাপাশি ভাষা, মানুষ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারা।

এ ছাড়া এ স্কলারশিপের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে স্কলারশিপের পরিমাণ। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, ভ্রমণ ভাতা, স্বাস্থ্য বীমার পাশাপাশি বসবাসের জন্য মাসিক বৃত্তি পেয়ে থাকেন। এ স্কলারশিপের Action-1 ও Action-2 এর অধীনে প্রায় ১৫০টি বিষয়ে ২০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এ স্কলারশিপের অধীনে সব কোর্সই আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় সাজানো। প্রতিটি মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তার কোর্সের সময়কালে পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নূ্যনতম ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করতে হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী এ স্কলারশিপ পেয়ে ইউরোপে পড়তে যাচ্ছেন। এ স্কলারশিপে সর্বাধিক সংখ্যক বৃত্তি দেওয়া হয় মূলত Action-1 এর অধীনে।

পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বর সেমিস্টারের জন্য সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদন করার সময়সীমা ও আবেদন করার নূ্যনতম যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন থাকে।

Action-1 এ শুধু মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। মনে রাখতে হবে মাস্টার্স কোর্সে আবেদন করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৩টি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়।

এ ছাড়া Action-2 এর অধীনে যে প্রোগ্রামগুলো আছে সেখানে শুধু পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয় যে দেশে অবস্থিত ওই দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন, যেখানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডির পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।

যেভাবে আবেদন করতে হবে :
অল্পকিছু প্রোগ্রাম ছাড়া প্রায় সব প্রোগ্রামেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। আর আবেদন করার জন্য কোনো প্রকার ফি দিতে হয় না। সাধারণত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড অথবা ই-মেইল করতে হয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের ওয়েবপেজে আবেদন করার প্রক্রিয়া, আবেদনকরীর নূ্যনতম যোগ্যতা, আবেদন করার সময়সূচি দেওয়া থাকে। সাধারণত মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার জন্য স্নাতক পরীক্ষার সনদপত্র, ট্রান্সস্ক্রিপ্টের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্কোর (IELTS/TOFEL অথবা সমমানের যোগ্যতা), জীবনবৃত্তান্ত (Curriculum Vitae) শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পড়াশোনা বা কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ জন ব্যক্তির Recommendation Letter এবং ব্যক্তিগত Motivation letter. এ ছাড়া শিক্ষার্থীর যদি দেশি-বিদেশি জার্নাল বা সেমিনারে প্রকাশিত গবেষণাপত্র প্রকাশ হয় থাকে সেটি আবেদন প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পড়তে চান সে বিষয় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আলাদাভাবে Research Proposal বা প্রস্তাবিত গবেষণাপত্র জমা দিতে হয়। এসব কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড বা ই-মেইল করে পাঠাতে হবে। তবে যে প্রোগ্রামগুলোতে সরাসরি কাগজপত্র চায় সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। এ শিক্ষা বৃত্তির জন্য আলাদাভাবে কোনো প্রকার ইন্টারভিউ নেওয়া হয় না।

প্রয়োজনীয় তথ্য :
– আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্কোর (IELTS/TOFEL) অবশ্যই আবেদন করার সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে, এ সনদপত্র শুধু স্ক্যান করে পাঠালেই হবে, অফিসিয়ালভাবে IELTS/TOFEL থেকে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। যদি IELTS/TOFEL স্কোর না থাকে সে ক্ষেত্রে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ইংরেজিতে হয় তাহলে Medium of instruction (Mol) সনদ দিয়ে আবেদন করা যেতে পারে। আবেদন করার আগে পছন্দসই প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটরকে ই-মেইল করলে জেনে নেওয়া যাবে ওই প্রোগ্রামে Mol দিয়ে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে কি-না।

– ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপের জন্য জীবনবৃত্তান্ত (Curriculum Vitae) EUROPASS ফরম্যাট ব্যবহার করাটা সুবিধাজনক। EUROPASS ফরম্যাট ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে।

– শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিত শিক্ষক বা কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি থেকে Recommendation Letter নেওয়াটা ভালো।

কার্টেসি : রামকৃষ্ণ মজুমদার
এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর,
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন