সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কখনও এত বড় স্বপ্ন দেখিনি

শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০১৬

1519610665_1469733074.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
যে স্বপ্নটা কখনও দেখার দুঃসাহস হয়নি, সেটাই সত্যি হতে চলেছে শ্যামলী রায়ের। প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে ২২ বছর বয়সী এই আর্চার যেন আনন্দে আত্মহারা। এতটাই উচ্ছ্বসিত শ্যামলী রায়, তা বোঝা যাচ্ছিল তার কথাতেই। তার সঙ্গে কথোপকথনের চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: কখনও কি স্বপ্ন দেখেছেন অলিম্পিকে খেলবেন?

শ্যামলী: সত্যি বলতে; কখনও ভাবিনি। আমি অলিম্পিকের মতো আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবো। এমনটি ফেডারেশন থেকে যখন আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তখনও ভাবনাতে আসেনি আরচারির ওয়াইল্ড কার্ডটি আমার নামেই আসবে।

প্রশ্ন: প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

শ্যামলী: খুবই ভালো লাগছে। এই প্রথম অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এটাই আমার জন্য বড় পাওয়া। কখনও কল্পনা করতে পারিনি, অলিম্পিকের মতো এত বড় আসরে  খেলবো। খেলোয়াড়দের সবারই আশা থাকে; কিন্তু সত্যি বলতে আমার এত বড় আশা ছিল না! এত বড় স্বপ্নও কখনও দেখিনি। আমার চেয়ে তো আমার বাবা মা ভাই বোনরা অনেক বেশি খুশি।

প্রশ্ন: আপনারা কয় ভাই বোন?

শ্যামলী: আমরা পাঁচ ভাইবোন। তিন বোন, দুই ভাই। পাঁচজনের মধ্যে আমি তৃতীয়। আমি আসলে ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন; আমার বাবা-মা কখনই আমার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং তাদের উৎসাহেই আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস তাদের দোয়ার বদৌলতে সামনে অনেক দূর যেতে পারবো।

প্রশ্ন: অলিম্পিকের প্রস্তুতি কেমন চলছে?

শ্যামলী: প্রস্তুতি ভালোই হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর টঙ্গিতে আবারও ক্যাম্প শুরু হয়েছে। যদি আরো আগে জানতে পারতাম ওয়াইল্ড কার্ড পাবো, তাহলে এরমধ্যে দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে পারতাম, তাহলে এ মুহূর্তে অন্যদের সঙ্গে নিজের ব্যবধানটা জানতে পারতাম। অলিম্পিকে কী করতে পারবো, সেগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারতাম। তারপরেও বলবো প্রস্তুতি খারাপ না। ফেডারেশন বিওএ আমাদের তৈরি করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

প্রশ্ন: কেন আপনি কি কোনো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেননি। জানা মতে আপনারাইতো সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেন?

শ্যামলী: তা ঠিক। অনেকবার দেশের বাইরে গিয়েছি। ২০১৫ সালে ডেনমার্কে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে (৫৭তম), ব্যাংককে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গিয়েছি, সেখানে ৩৩তম হয়েছিলাম। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়ান গেমস খেলেছি। চীন, চাইনিজ তাইপেতেও গিয়েছি টুর্নামেন্ট খেলতে।

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক আসরে আপনার সেরা পারফরমেন্স কোন্‌টি?

শ্যামলী: ব্যাংককে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ধাপে  ৬১৮ স্কোর গড়ে ১৯তম হয়েছিলাম; ওটাই আমার সেরা। ডেনমার্কেও ভালো স্কোর গড়েছিলাম। এ কারণে ওয়াইল্ড কার্ড পেলাম।

প্রশ্ন: অন্য দেশের আরচারদের সঙ্গে আপনাদের তফাতটা কোথায়?

শ্যামলী: মনে হয় তারা যতটা সহজভাবে অনুশীলন করতে পারে, খেলতে পারে, আমরা পারি না। আমাদের যে কোচ আছে, তারা ভালো, যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু অনুশীলনের জন্য আরো উন্নত প্রশিক্ষণ, দেশে-বিদেশে বেশি- বেশি টুর্নামেন্ট হলে আমরা আরো সহজভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারতাম।

প্রশ্ন: দেশের প্রতিযোগিতাগুলোতে তো নিজেকে আপনি খুব বেশি মেলে ধরতে পারেননি। এ কারণে দেশে আপনার পরিচিতিটা একটু কম।

শ্যামলী: তা ঠিক। ২০১৪তে একটা জাতীয় আসরে খেলেছি; ব্যক্তিগত রিকার্ভে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। সিনিয়র পর্যায়ে কোনো আন্তর্জাতিক পদক পাইনি। তবে জুনিয়র টুর্নামেন্টে পদক আছে। ২০১১ সালে একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছিলাম, সেটাতে টিম ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলাম। গ্রাঁ প্রিঁর ওই আসরটা বাংলাদেশেই হয়েছিল।

প্রশ্ন: কী লক্ষ্য নিয়ে অলিম্পিক যাচ্ছেন?

শ্যামলী: যতটুকু সম্ভব ভালো করা, দেশকে কিছু দেয়া। নিজের সেরা স্কোরকে ছাপিয়ে যাওয়ার। যেভাবে অনুশীলন করেছি, তাতে নিজের বর্তমান সেরাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করি।

সূত্র: মানবজমিন

ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১৩৩১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন