সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

অসম্ভবকে জয় করা এক নারীর গল্প!

শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬

1578942461_1471675544.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পরীক্ষার আগের দিন প্রচণ্ড প্রসবব্যথা উঠল। রাতে নেয়া হলো হাসপাতালে। ভোর সাড়ে চারটায় তার কোলজুড়ে এলো এক ফুটফুটে ছেলে সন্তান। কিন্তু একইদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা।

কিন্তু স্বপ্ন জয়ের পথ থেকে থেমে যাওয়ার পাত্রী তিনি নন। তাইতো সদ্যজাত নবজাতককে রেখে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন্দ্রে গেলেন। তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়ে ক্লান্ত শরীরে ফিরলেন হাসপাতালে। ঐ ভাবে পরীক্ষা দিয়েই আজ তিনি বিসিএস ক্যাডার। এটা কতটা আনন্দের তা এখন বুঝছেন সূপর্ণা দে।

সূপর্ণার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী। বাবা-মা দুজনেই স্কুলশিক্ষক। ২০০৩ সালে বাঁশখালী গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু দ্বিতীয় সেমিস্টারে থাকতেই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। অবশ্য বিয়ের সময়েই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন।

২০১২ সালে পাস করেন সুপর্ণা। সে বছরের ডিসেম্বরে মেয়ের মা হন তিনি। ২০১৪ সালে ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দিলে আবেদন করেন। গত বছরের ৬ মার্চ যখন প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়, তখন তিনি আবার অন্তঃসত্ত্বা। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

চিকিৎসকেরা জানান, সন্তানের জন্ম হবে সেপ্টেম্বরের শেষে। এতে কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন তিনি। কারণ, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা। ১ সেপ্টেম্বর ইংরেজি, পরদিন বাংলাদেশ বিষয়াবলি, ৩ সেপ্টেম্বর সকালে গণিত, বিকেলে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির পরীক্ষা দেন। ৬ সেপ্টেম্বর ছিল সাধারণ ক্যাডারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরীক্ষা। কিন্তু সেদিন সকালেই তীব্র ব্যথা শুরু হলে পরীক্ষাটি দেয়া হয়নি।

ফলে প্রশাসন, পুলিশের মতো সাধারণ ক্যাডারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েন। তবে এই পরীক্ষা না দিলেও পেশাগত ক্যাডারের জন্য বাকি পরীক্ষাগুলো দেয়া যায়। ৭ সেপ্টেম্বর ছিল বাংলা পরীক্ষা।

সূপর্ণা বলেন ''৬ সেপ্টেম্বর রাতেই  চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লার মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়। ভোর সাড়ে চারটায় ছেলের জন্ম। তাই ভাবলাম, সুস্থ যখন আছি যে করেই হোক পরীক্ষা দেব। অ্যাম্বুলেন্সে করে সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ৩ ঘণ্টা পরীক্ষা দিলাম। লিখিত পরীক্ষার ফল দিলে দেখি উত্তীর্ণ হয়েছি।মনে হলো স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছেছি। মৌখিকও ভালো হলো। বুধবার চূড়ান্ত ফল দেখে মনে হলো, আমি পৃথিবী জয় করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ''আমার কাছে এখনো পুরো ঘটনা মনে পড়লে অলৌকিক মনে হয়। তবে আমার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি ছিল যে, আমি পারবো। আর শেষ পর্যন্ত পেরেছি।''

সুপর্ণা শুধু সংসার করছেন দেখে হতাশ হতেন স্বামী ব্যবসায়ী টিটো শিকদার। বললেন, ‘স্কুল থেকে ফিরে সংসার সামলানো, বিসিএসের প্রস্তুতি। পেটে আরেকটা বাচ্চা। কিন্তু ও সব জয় করেছে।’

বিসিএস নামক সোনার হরিণটা ধরার পথ তার জন্য মোটেও সুগম ছিল না। শুধুমাত্র অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই সুপর্ণা দে এখন বিসিএস ক্যাডার। ৩৫তম বিসিএসে (প্রাণিসম্পদ) সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১১তম হয়েছেন তিনি।






ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৪৩২১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন