সর্বশেষ
রবিবার ১লা পৌষ ১৪২৬ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ডিম নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

বুধবার, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

163.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ডিম নিয়েই নানা ভুল ধারণার শিকার আমরা। কারও মতে ডিম খেলে হজমের সমস্যা হয়, কেউ ভাবেন হাঁসের ডিমে বাড়ে বাত আর সর্দি। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা একেবারেই এর উল্টো কথা বলছেন। তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে জোরদার প্রোটিনের স্বাভাবিক উৎস হল ডিম। অথচ ডিমের খাদ্যগুণ সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই।

ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত উচ্চমানের। এই প্রোটিন আমাদের মস্তিষ্ক আর পেশি গঠনে এবং রোজকার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। ডিমে আছে এমন কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্থিরতা বাড়ায়।

যাদের ডিমে অ্যালার্জি, তারা ছাড়া সকলেই ডিম খেতে পারেন অনায়াসে। ডিম নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর জানা গিয়েছে, একটা মাত্র কোষ থেকে একটা গোটা প্রাণি তৈরির যাবতীয় উপাদান থাকে ডিমের মধ্যে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই গ্রহের সবচেয়ে বেশি পুষ্টিতে ঠাসা খাবার মানেই ডিম। তাই একে ‘সুপার ফুড’-এর শিরোপা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

হার্টের অসুখ বা কোলেস্টেরলের ভয়ে অনেকেই ডিম খেতে ইতস্তত করেন। তাদেরও আশ্বস্ত করেছেন পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা। যদিও ডিমে অনেকটা কোলেস্টেরল আছে, কিন্তু তা আমাদের কোনও ক্ষতি করে না। বরং হার্টের উপকারী হাই ডেনসিটি কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ বাড়িয়ে হার্ট ভাল রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের জন্য কোলেস্টেরলের ভূমিকা যথেষ্ট কম।

তারপরেও আজকের যুগে ডিম নিয়ে অনেক আর ভুল ধারণা আছে। যার ভয়ে অনেকেই এই স্বাস্থ্যকর খাবারটি সযত্নে এড়িয়ে চলেন। কেউ কেউ ভাবেন, দেশি মুরগি বা হাঁসের ডিমের মধ্যেই লুকিয়ে আছে যত উপকার। পোলট্রির ডিম খুব একটা উপকারী নয়। ডিম খেলে সর্দি-কাশি হয় বা বাতের ব্যথা অবধারিত, এ সব ভুল ধারণা তো আছেই। আবার যাদের ডিমে অ্যালার্জি, তাদের ধারণা, ডিম খেলেই ত্বকে হবে অথবা পেট খারাপ হবেই।

তবে কাঁচা ডিম বেশি উপকারী, এই ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই কাঁচা ডিম খান। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ডিম খাওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়, জীবাণুর সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। পুরো সেদ্ধ বা রান্না করা ডিমই ভাল, তবে বেশি কড়া ভাজায় ডিমের কিছু গুণ নষ্ট হয়ে যায়।

পুষ্টিগুণ:

# আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কের পুষ্টিতে ক্লোরিনের বিশেষ ভূমিকা আছে। তবে রোজকার খাবারে ক্লোরিন পাওয়া মুশকিল। একমাত্র ডিমে আছে সঠিক পরিমাণে ক্লোরিন। তাই বুদ্ধি বাড়াতে আর স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে ডিম খেতে হবে।

# ডিমের কিছু রাসায়নিক রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএলকে বন্ধু কোলেস্টেরল এইচডিএলে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

# চোখ ভাল রাখতেও ডিমের জুড়ি নেই। এর মধ্যে থাকা লিউটেইন, জিআক্সানথিন নামক দু’টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখ ভাল রাখে।

# ডিমে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তের খারাপ উপাদান ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

# ডিম খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

# ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত সুষম আর সহজপাচ্য।

# ক্যালোরি কম থাকায় ডিম ওজন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ডিম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তাই কাঁচা, পচা বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা বাদ দিয়ে সেদ্ধ, ওমলেট, পোচ যে ভাবেই হোক, রোজকার মেন্যুতে থাকুক ডিম।


ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ৩০, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৪৬২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন