সর্বশেষ
বুধবার ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ২৭ মে ২০২০

১০ হাজার উটকে গুলি করে মারার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৭, ২০২০

shutterstock_165912152.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

অস্ট্রেলিয়ায় এখনো থামেনি দাবানলের অগ্নিত্রাস। দাউদাউ জ্বলছে চারদিক। আকাশ হয়ে উঠছে যেন রক্তরাঙা। বাতাসে উড়ছে আগুনের ফুলকি। আগুনের লেলিহান শিখা গিলে খাচ্ছে চারদিক।

একদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে দিতেই পুড়ছে আরেক দিক। আগুনের ঘন ধোঁয়ার চাদরে ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ। দাবানলের ধোঁয়ায় রাজধানী ক্যানবেরায় বায়ু দূষণের মাত্রা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরীর পার্লামেন্ট ভবনও ধোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে।

তৈরি হয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। কেবল বাইরেই নয় বাড়ি, অফিস, শপিং মল সব জায়গাতেই একই পরিস্থিতি। অসুস্থরা এ বায়ুদূষণের আরো ক্ষতির মুখে রয়েছে এবং এ অবস্থা কতদিন বিরাজ করবে তাও কারো জানা নেই। এর মাঝেই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসল অস্ট্রেলিয়া। ১০ হাজার উটকে গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ। নিশ্চিত বলা হচ্ছে এজন্য যে, তাদের আগামীকাল গুলি করে মারা হবে। এক আদিবাসী নেতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আদেশ আসার পর উটগুলো মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আনানজু ইয়ানকুনিৎজাতজারা ল্যান্ডস (এওয়াইপি) এলাকার এক আদিবাসী নেতা এই নির্দেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার হেলিকপ্টার থেকে বন্য এই উটগুলোকে গুলি করে মারার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রশিক্ষিত শুটার দিয়ে তাদের মারা হবে। ১০ হাজারেরও বেশি এই উটগুলো মারতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে।

এতগুলো উট একসঙ্গে মারার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল খুবই খরাপ্রবণ এলাকা। যে কারণে এই অঞ্চলে পানির খুব সংকট রয়েছে। বন্য এই উটগুলো খুব বেশি করে পানি খেয়ে নিচ্ছে। পানির খোঁজে এদের বিচরণের কারণে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া মিথেন গ্যাস সৃষ্টির জন্যও দায়ী তারা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এওয়াইপির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য মারিতা বেকার বলেন, ‘আমরা যে অঞ্চলে থাকি সেখানে খুব গরম পড়ে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশে আছি। এর মধ্যে উটগুলোর উৎপাত আমাদের বিষিয়ে তুলেছে। তারা পানির জন্য ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে, বেড়া ভেঙে দিচ্ছে। ক্ষেত মাড়িয়ে এসে ফসলের ক্ষতি করছে।’ দেশটির জাতীয় বন্য উট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের দাবি, এই উটদের সংখ্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে প্রতি নয় বছরে সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও উট দায়ী। প্রতি বছর তাদের মলমূত্র থেকে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হয় তা এক টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ।


ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৭, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ১০৮৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন